‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

সালমান সাহেব ‘X’ নামক এমন একটি দেশের প্রবাসী যে দেশের প্রতিটি অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। উৎপাদন, বন্টন, ভোগ সবই কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু তার নিজ দেশে শুধু সরকার নয়, বেসরকারি উদ্যোগেও অনেক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।

  1. ক)

    উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অভাব পূরণের ক্ষেত্রে ‘নির্বাচন’ একটি বড় সমস্যা-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে ‘X’ দেশের তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি দেশের অর্থব্যবস্থা কি এক? ভিন্ন হলে পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে রেখার প্রতিটি বিন্দুতে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তির সাপেক্ষে দুটি দ্রব্যের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উৎপাদনের সংমিশ্রণ নির্দেশিত হয়, তাকে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (Production Possibility Curve বা PPC) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবজীবনে অভাব অসীম কিন্তু সেই অভাব পূরণের উপকরণ বা সম্পদ সীমিত। এই অপ্রতুল সম্পদের কারণে মানুষ তার সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। ফলে তাকে তীব্রতা ও গুরুত্বের ভিত্তিতে সবচেয়ে জরুরি অভাবগুলো আগে পূরণ করার জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হয়। এই অগ্রাধিকার নির্ধারণ বা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াকেই অর্থনৈতিক ভাষায় 'নির্বাচন' বলা হয়। যদি নির্বাচন সঠিকভাবে না করা হয়, তবে সীমিত সম্পদের অপচয় ঘটে এবং কল্যাণ সর্বোচ্চ হয় না। তাই অভাব পূরণের ক্ষেত্রে নির্বাচন একটি মৌলিক ও প্রধান সমস্যা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘X’ দেশের প্রতিটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকার তথা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সুতরাং, ‘X’ দেশটি একটি নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার অন্তর্গত।

    ‘X’ দেশের (সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার) তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
    ১. উৎপাদনের উপকরণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা: এ ব্যবস্থায় জমি, কলকারখানা, যন্ত্রপাতিসহ উৎপাদনের যাবতীয় উপাদান ব্যক্তি মালিকানায় না থেকে রাষ্ট্রের বা সমাজের মালিকানায় থাকে। ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনো সম্পত্তি বা পুঁজি থাকে না।
    ২. কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা: দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কার জন্য উৎপাদিত হবে—তা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত ও নির্ধারিত হয়।
    ৩. মুনাফার অনুপস্থিতি ও সামাজিক কল্যাণ: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকে না। উৎপাদনের মূল লক্ষ্য থাকে সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি দেশের অর্থব্যবস্থা এক নয়।

    উদ্দীপক অনুযায়ী, সালমান সাহেবের প্রবাসী দেশ ‘X’ হলো সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থার দেশ, কারণ সেখানে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকার ও কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অপরদিকে, তার নিজ দেশে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। সুতরাং, তার নিজ দেশটির অর্থব্যবস্থা হলো ‘মিশ্র অর্থব্যবস্থা’।

    এ দুটি দেশের অর্থব্যবস্থার মধ্যে প্রধান পার্থক্যসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সম্পদের মালিকানা: ‘X’ দেশে (সমাজতান্ত্রিক) উৎপাদনের যাবতীয় উপকরণের মালিক রাষ্ট্র বা সরকার। কিন্তু নিজ দেশে (মিশ্র অর্থব্যবস্থায়) সরকারি ও বেসরকারি উভয় মালিকানা পাশাপাশি অবস্থান করে।

    ২. ব্যক্তিগত উদ্যোগ: ‘X’ দেশে কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগ বা উদ্যোক্তা শ্রেণি থাকে না; সব সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের। পক্ষান্তরে, নিজ দেশে ব্যক্তি স্বাধীনভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে পারে।

    ৩. দাম নির্ধারণ ব্যবস্থা: ‘X’ দেশে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকার দ্রব্যের দাম নির্ধারণ করে। কিন্তু মিশ্র অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার (চাহিদা ও জোগানের মিথস্ক্রিয়া) মাধ্যমে দাম নির্ধারিত হয়, তবে জরুরি ক্ষেত্রে সরকার দাম নিয়ন্ত্রণ করে।

    ৪. অর্থনৈতিক লক্ষ্য ও মুনাফা: সমাজতান্ত্রিক দেশে ব্যক্তিগত মুনাফা নিষিদ্ধ এবং সামাজিক কল্যাণই প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় বেসরকারি খাত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত হয় এবং সরকারি খাত সামাজিক কল্যাণে কাজ করে।

    পরিশেষে বলা যায়, ‘X’ দেশ এবং সালমান সাহেবের নিজ দেশের অর্থব্যবস্থার প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন