যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

সজীব ও রনি ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় সজীব বললো, "আমি শুনেছি এই ব্রিজটি যতবারই নির্মাণ করা হতো ততবারই ভেঙে পড়তো এবং পঞ্চাশটি ছাগল বলিদানের পর আর ব্রিজটি ভাঙেনি।" এ কথা শুনে রনি বললো, "আসলে ব্রিজটি যথাযথ পাইলিং, কারিগরি ত্রুটি ও উপকরণের অভাবে ভেঙে পড়তো।"

  1. ক)

    ব্যাখ্যা কী?

    (1)
  2. খ)

    মনের মৌলিক অনুভূতির ব্যাখ্যা করা যায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সজীবের বক্তব্যে ব্যাখ্যার কোন দিকটিকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ব্যাখ্যার আলোকে সজীব ও রনির বক্তব্যের তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দুর্বোধ্য, জটিল ও অস্পষ্ট বিষয়কে সহজ, সরল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করাকে ব্যাখ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মনের মৌলিক অনুভূতির কোনো জাত্যর্থ বা উচ্চতর শ্রেণি না থাকায় এবং এদের বিশ্লেষণ করা যায় না বলে এদের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।

    ব্যাখ্যা করতে হলে বিষয়টিকে কোনো ব্যাপকতর নিয়মের অধীনে আনতে হয় অথবা তার কারণ আবিষ্কার করতে হয়। কিন্তু সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা বা বিভিন্ন রঙের অনুভূতির মতো মৌলিক মানসিক অনুভূতিগুলো স্বতঃসিদ্ধ ও অবিভাজ্য। এদের কোনো অংশ বা কারণ বিশ্লেষণ করে স্পষ্টতর করা যায় না; শুধু প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই এগুলো উপলব্ধি করা যায়। তাই মনের মৌলিক অনুভূতির ব্যাখ্যা করা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সজীবের বক্তব্যে ব্যাখ্যার লৌকিক রূপটি (লৌকিক ব্যাখ্যা) নির্দেশ করছে।

    যে ব্যাখ্যায় কোনো বিষয়ের পেছনে বৈজ্ঞানিক বা প্রাকৃতিক কারণ অনুসন্ধান না করে অলৌকিক, অতিপ্রাকৃতিক বা কাল্পনিক কোনো কারণ আরোপ করা হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। এ ধরনের ব্যাখ্যা অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

    উদ্দীপকে সজীব মনে করে যে, ব্রিজের বারবার ভেঙে পড়ার কারণ কোনো প্রাকৃতিক বা ভৌত বিষয় নয়, বরং পঞ্চাশটি ছাগল বলিদানের ফলেই ব্রিজটি শেষ পর্যন্ত টিকে রয়েছে। এখানে প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক কারণকে এড়িয়ে অতিপ্রাকৃতিক বা অন্ধবিশ্বাসজাত ধারণাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা যুক্তিবিদ্যার লৌকিক ব্যাখ্যার সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাখ্যার আলোকে সজীবের বক্তব্য 'লৌকিক ব্যাখ্যা' এবং রনির বক্তব্য 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা'কে নির্দেশ করে। নিম্নে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:

    ১. দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য: সজীবের বক্তব্য কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও অলৌকিক ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সে ব্রিজ ভাঙা রোধের পেছনে পশুবলিকে কারণ হিসেবে দেখেছে, যা অবৈজ্ঞানিক। অপরদিকে রনি ব্রিজের ভাঙার বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক কারণ হিসেবে যথাযথ পাইলিং, কারিগরি ত্রুটি ও উপকরণের অভাবকে চিহ্নিত করেছে, যা কার্যকারণ নিয়মভিত্তিক।

    ২. কার্যকারণ সম্পর্কের উপস্থিতি: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনার পেছনের সুনির্দিষ্ট কার্যকারণ নিয়ম আবিষ্কার করা হয়, যা রনির বক্তব্যে স্পষ্ট। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় কাল্পনিক ও অলৌকিক বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া হয়, যার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই, যেমনটি সজীবের বক্তব্যে প্রকাশিত।

    ৩. সার্বজনীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা: রনির ব্যাখ্যা পরীক্ষণযোগ্য, প্রমাণযোগ্য এবং সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য। বিপরীতে, সজীবের ব্যাখ্যা স্থান-কাল-পাত্রভেদে পরিবর্তিত হতে পারে এবং যুক্তির বিচারে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

    সুতরাং, সজীবের লৌকিক ব্যাখ্যার তুলনায় রনির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বাস্তবসম্মত, যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন