অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। রূপকল্প ২০২১ এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের জন্য বাংলাদেশ সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫ এর জন্য যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তাই বাংলাদেশের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বলে পরিচিত। পরিকল্পনার প্রেক্ষিত, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রাসমূহের ভিত্তিতে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা নানা দিক থেকে স্বতন্ত্র।

  1. ক)

    বাংলাদেশে দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল কত ছিল?

    (1)
  2. খ)

    অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা প্রয়োজন-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) খাতের লক্ষ্যমাত্রাগুলোর বিবরণ দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অন্যান্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে স্বতন্ত্র?- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল ছিল ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সাল (১৯৭৮-১৯৮০)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অপরিহার্য।

    পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি দেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সম্পদ বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন, আয় বৈষম্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়ন সম্ভব নয় বলেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পূর্বপরিকল্পনা প্রয়োজন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) খাতের উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যমাত্রাগুলো নিচে বিবরণ দেওয়া হলো:

    ১. ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ: ২০২১ সালের রূপকল্পের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা এবং ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা।

    ২. ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ: দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র (UISC)-এর মাধ্যমে তৃণমূল জনগণের কাছে তথ্যপ্রযুক্তি ও দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।

    ৩. সফটওয়্যার ও আইটি শিল্পের বিকাশ: আইসিটি পার্ক স্থাপন এবং সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা (ITES) রপ্তানি বৃদ্ধি করে দেশের রাজস্ব ও কর্মসংস্থান বাড়ানো।

    ৪. শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান এবং আইসিটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা।

    ৫. মানবসম্পদ উন্নয়ন: তরুণ জনগোষ্ঠীকে আইসিটি বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা এবং ফ্রিল্যান্সিংসহ তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫) বাংলাদেশের পূর্ববর্তী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলোর তুলনায় প্রেক্ষিত, উদ্দেশ্য এবং কৌশলগত কারণে নানা দিক থেকে স্বতন্ত্র ছিল। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও রূপকল্প ২০২১-এর সাথে সংযোগ: স্বাধীনতার পর পূর্ববর্তী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো মূলত বিচ্ছিন্ন ও সাময়িক লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণীত হয়েছিল। কিন্তু ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি ছিল দেশের প্রথম দীর্ঘমেয়াদি 'প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২০২১)' এবং 'রূপকল্প ২০২১'-এর সাথে সম্পূর্ণ সমন্বিত একটি কৌশলগত দলিল।

    ২. মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য: ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ এবং পরবর্তীতে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এটি কাজ শুরু করে। এতে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭.৩% থেকে ৮% পর্যন্ত।

    ৩. সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (MDG) বাস্তবায়ন: জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজির লক্ষ্যমাত্রাসমূহ (যেমন: অতিদারিদ্র্য নিরসন, প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাস) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্জনের জন্য বিশেষ বাজেটীয় ও নীতিগত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।

    ৪. পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP): অবকাঠামোগত উন্নয়নে কেবল সরকারি ব্যয়ের ওপর নির্ভর না করে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব (PPP) মডেলকে এ পরিকল্পনায় কার্যকর রূপ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

    ৫. আইসিটি ও ডিজিটাল রূপান্তর: দেশকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' ধারণার প্রায়োগিক রূপায়ণ এ পরিকল্পনার মাধ্যমে সূচিত হয়, যা আগের কোনো পরিকল্পনায় ছিল না।

    ৬. ধারাবাহিকতা পুনরুদ্ধার: পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পর দীর্ঘ বিরতিতে দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (PRSP) চালু ছিল। ষষ্ঠ পরিকল্পনার মাধ্যমেই দেশে পুনরায় ঐতিহ্যবাহী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কাঠামোতে প্রত্যাবর্তন ঘটে।

    অতএব, দূরদর্শী অর্থনৈতিক দর্শন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্পের সাথে সুসংহত বাস্তবায়নের কৌশলের কারণে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অন্যান্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে অনন্য ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন