উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
মিসেস শীলা ঢাকার উত্তরায় একটি বুটিক শপ স্থাপন করেন। তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভালো মানের হাতে তৈরি পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ করেন । তার পণ্যের মান ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে চাহিদা ব্যাপক। সম্প্রতি বিক্রি বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি তার দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আরও তিনটি শোরুম খোলার সিদ্ধান্ত নেন।
- ক)(1)
সমবায় সমিতি কী?
- খ)(2)
“শ্ৰম গতিশীল”— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মিসেস শীলা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মিসেস শীলা কর্তৃক সম্প্রতি গৃহীত সিদ্ধান্তটি কতটুকু যৌক্তিক? সংগঠনের ধরন উল্লেখপূর্বক তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পারস্পরিক অর্থনৈতিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে সমমনা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন কতিপয় ব্যক্তি সমবায় আইনের আওতায় স্বেচ্ছায় যে ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তোলে, তাকে সমবায় সমিতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, এক পেশা থেকে অন্য পেশায় কিংবা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হওয়ার ক্ষমতা বা প্রবণতাকে শ্রমের গতিশীলতা বলে।
শ্রমিকের এই রূপান্তরযোগ্যতার কারণে শ্রমকে গতিশীল বলা হয়। মানুষের ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা, অধিক আয়ের প্রত্যাশা, সামাজিক মর্যাদা এবং ভৌগোলিক সুবিধার কারণে একজন শ্রমিক তার কর্মক্ষেত্র বা কাজের ধরন পরিবর্তন করতে পারে। তাই উৎপাদনের অন্যতম উপাদান হিসেবে শ্রম সম্পূর্ণ স্থিতিশীল নয়, বরং পরিবর্তনশীল ও গতিশীল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিসেস শীলা কর্তৃক প্রথমে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি ছিল 'একমালিকানা ব্যবসায়'।
যে ব্যবসায়ের মালিক একজন মাত্র ব্যক্তি এবং যিনি নিজে মূলধন সরবরাহ করেন, পরিচালনা ও ঝুঁকি এককভাবে বহন করেন এবং অর্জিত সমুদয় লাভ একা ভোগ করেন, তাকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস শীলা ঢাকার উত্তরায় একাই একটি বুটিক শপ স্থাপন করেন। তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নিজস্ব উদ্যোগে ভালো মানের হাতে তৈরি পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ ও বিক্রি করতেন। এই ব্যবসায়টিতে একক মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল। ফলে মিসেস শীলা কর্তৃক প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বুটিক শপটি সংগঠন কাঠামোর দিক থেকে একমালিকানা ব্যবসায়ের অন্তর্গত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিসেস শীলা কর্তৃক সম্প্রতি গৃহীত সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক। তিনি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিকে 'অংশীদারি ব্যবসায়' হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইন (বাংলাদেশে প্রচলিত) অনুযায়ী, সকলের দ্বারা বা সকলের পক্ষে একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বণ্টনের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার সম্পর্ককে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হলো চুক্তি।
উদ্দীপকে মিসেস শীলার তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি বিক্রি বাড়ানোর লক্ষ্যে আরও তিনটি শোরুম খোলার পরিকল্পনা করেন। একমালিকানা ব্যবসায়ের মূল সীমাবদ্ধতা হলো মূলধনের স্বল্পতা ও একক ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত মূলধন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। এজন্য তিনি তার দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে শোরুম খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চুক্তিবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে ব্যবসায়ের ধরন একমালিকানা থেকে অংশীদারি সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়টিতে প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, ঝুঁকি বণ্টিত হবে এবং বন্ধুদের সম্মিলিত মেধা ও শ্রম কাজে লাগিয়ে বিক্রির লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। সুতরাং, ব্যবসায়ের আকার ও চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মিসেস শীলার এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও