অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

রাইয়ান মিয়া একজন সাধারণ কৃষক। সে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে জানতে পারল যে, একই জমিতে একমুখী ফসল উৎপাদন না করে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। বর্তমানে সে একই জমিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফসল উৎপাদন শুরু করল।

  1. ক)

    জৈব প্রযুক্তি কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃষিতে উন্নত বীজের ব্যবহার কর্মসংস্থানকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ফসল উৎপাদনের কোন বিষয়টি নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষির উন্নয়নে শস্য বহুমুখীকরণে কোন ধরনের প্রভাব রয়েছে বলে তোমার মনে হয়? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবদেহের বিভিন্ন অণুজীব, কোষ বা কলা এবং এদের কোনো অংশ ব্যবহার করে মানবকল্যাণে নতুন ও উন্নত গুণসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের প্রযুক্তিকে জৈব প্রযুক্তি (Biotechnology) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষিতে উন্নত ও উচ্চফলনশীল (উফশী) বীজের ব্যবহার কৃষি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে। উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে নিবিড় পরিচর্যা, পরিমিত সেচ প্রদান, সার প্রয়োগ, আগাছা দমন, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত ফসল তোলা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রয়োজন হয়। এসব বহুমুখী কৃষি কার্যক্রমে অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন দেখা দেয়, ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নিয়মিত ও মৌসুমভিত্তিক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে 'শস্য বহুমুখীকরণ' (Crop Diversification)-এর বিষয়টি নির্দেশ করা হয়েছে।

    একই জমিতে কেবল একটি নির্দিষ্ট ফসল বারবার উৎপাদন না করে সারা বছর পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য, অর্থকরী ফসল, শাকসবজি ও ডালজাতীয় ফসল চাষ করাকে শস্য বহুমুখীকরণ বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক রায়হান মিয়া উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ পেয়ে বুঝতে পারেন যে জমিতে একমুখী ফসল উৎপাদন না করে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলানো বেশি লাভজনক। ফলে তিনি একই জমিতে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ফসলের আবাদ শুরু করেন। রায়হান মিয়ার এই পদ্ধতিটি সনাতন একমুখী চাষাবাদের বিপরীতে শস্য বহুমুখীকরণের ধারণাকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষির সার্বিক উন্নয়ন ও টেকসই খাদ্য নিরাপত্তায় শস্য বহুমুখীকরণের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক বলে আমি মনে করি।

    প্রথমত, শস্য বহুমুখীকরণের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। একমুখী ফসলের বদলে ডাল ও তৈলবীজ জাতীয় ফসল চাষ করলে মাটিতে নাইট্রোজেনের স্বাভাবিক সংযোজন ঘটে, যা মাটির পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য রক্ষা করে। দ্বিতীয়ত, এটি কৃষকের আর্থিক ঝুঁকি হ্রাস করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পোকা-মাকড়ের আক্রমণে কোনো একটি নির্দিষ্ট ফসল নষ্ট হলেও অন্য ফসলের মাধ্যমে কৃষক তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে।

    উদ্দীপকে রায়হান মিয়ার মতো কৃষকেরা শস্য বহুমুখীকরণ গ্রহণের ফলে সারা বছর জমিতে উৎপাদন বজায় থাকে, যা কৃষিশ্রমিকদের জন্য বছরব্যাপী কর্মসংস্থানের জোগান দেয়। এর ফলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের মানুষের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়। একইসাথে এটি কৃষি পণ্যের রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়তা করে। পরিশেষে বলা যায়, কৃষিতে আধুনিকতা আনয়ন, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শস্য বহুমুখীকরণ এক অপরিহার্য ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ কৌশল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন