‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

রহিমা ও হারুন একটি কারখানায় দশ ঘণ্টা কাজ করে। মালিকপক্ষ হারুনকে ৮০০০/- এবং রহিমাকে ৫০০০/- মজুরি প্রদান করে। এতে রহিমা বঞ্চিত হয় বলে প্রতিবাদ করে।

  1. ক)

    তথ্য অধিকার আইন কত সালে পাশ হয়?

    (1)
  2. খ)

    রাষ্ট্রপতি সরকারব্যবস্থা কোন ধরনের রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত রহিমা কোন ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    রহিমার প্রতি মালিকপক্ষের আচরণ সমাজ ও রাষ্ট্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে? যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সালে পাশ হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা সাধারণত বহুজাতিভিত্তিক, বিশাল ভৌগোলিক আয়তনবিশিষ্ট এবং সংকটময় বা জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করতে হয় এমন রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী।

    এ ব্যবস্থায় শাসন বিভাগের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি আইনসভার কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ থাকেন না এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। ফলে সরকারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং দ্রুত ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় রাষ্ট্রে যেখানে ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ ও ভারসাম্য প্রয়োজন, সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিশেষভাবে কার্যকর।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত রহিমা অর্থনৈতিক অধিকার (বিশেষ করে সমকাজে সমমজুরি পাওয়ার অধিকার) থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    নাগরিকের জীবনধারণ, জীবিকা অর্জন এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, সেগুলোকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান অধিকার হলো কাজের অধিকার এবং বৈষম্যহীনভাবে সমকাজে সমমজুরি পাওয়ার অধিকার।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিমা ও হারুন উভয়েই একই কারখানায় সমান সময় (দশ ঘণ্টা) কাজ করা সত্ত্বেও মালিকপক্ষ হারুনকে ৮০০০ টাকা এবং রহিমাকে মাত্র ৫০০০ টাকা মজুরি দেয়। এখানে কেবল নারী হওয়ার কারণে বা লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হয়ে রহিমা কম মজুরি পাচ্ছে। ফলে সে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক পাওয়ার অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রহিমার প্রতি মালিকপক্ষের এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ সমাজ ও রাষ্ট্রে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    উদ্দীপকে একই পরিমাণ কাজ করা সত্ত্বেও লিঙ্গভেদে ভিন্ন মজুরি প্রদান করার মাধ্যমে মৌলিক মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক সমতার নীতিকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এর ফলে নিম্নলিখিত প্রভাব পড়তে পারে:

    ১. লিঙ্গবৈষম্য বৃদ্ধি ও নারীর ক্ষমতায়ন ব্যাহত: এ ধরনের আচরণ সমাজে নারী শ্রমিকদের অবমূল্যায়ন করে এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করে, যা সামগ্রিক নারী ক্ষমতায়নের পরিপন্থী।
    ২. অসন্তোষ ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা: শ্রমের ন্যায্যমূল্য না পেলে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে ধর্মঘট, আন্দোলন বা কারখানায় উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণ হতে পারে।
    ৩. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া: জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তারা যদি বৈষম্যের শিকার হয়ে উপযুক্ত পারিশ্রমিক না পায়, তবে তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায়, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করে।
    ৪. আইনের শাসনের ব্যত্যয়: সংবিধানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমঅধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষের এহেন কার্যক্রম আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    সুতরাং, রহিমার প্রতি মালিকপক্ষের এহেন বৈষম্যমূলক আচরণ সমাজ ও রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার, শান্তি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন