বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

হালিমা দরিদ্র কৃষাণী। বিয়ের দশ বছর পরও কোনো সন্তান না হওয়ায় এতিম একটা মেয়েকে সে লালন-পালন করে। কিন্তু তার স্বামী অন্যের মেয়েকে মেনে নিতে পারে না; প্রায়ই মেয়েটাকে মারধর করে। এতে হালিমা স্বামীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। শুধু মেয়ের জন্য ঘর ছেড়ে চলে যায় বাপের বাড়ি।

  1. ক)

    আওয়ালপুরের পিরের প্রধান মুরিদের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “যত ভাবে কথাটা, তত জ্বলে ওঠে বুড়ো।" কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের হালিমা ও উপন্যাসের রহিমা চিরন্তন মাতৃহৃদয়ের উদাহরণ।"-ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আওয়ালপুরের পিরের প্রধান মুরিদের নাম খালেক ব্যাপারী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে তাহের-কাদেরের বুড়ো বাবার রাগ ও ক্ষোভের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

    তাহের-কাদেরের বুড়ো বাবার বিরুদ্ধে মজিদের কাছে নালিশ যায় যে, বুড়ো নিজের মেয়েকে অভিশাপ দেয়। মজিদ সালিসের মাধ্যমে তাকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার বিধান দেয়। এই অন্যায় সিদ্ধান্ত এবং নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে নালিশ করার বিষয়টি বুড়োর আত্মসম্মানে প্রচণ্ড আঘাত হানে। নিজেকে চরমভাবে অপমানিত ও অপদস্থ মনে হওয়ায় কথাটা যতবার তার মনে পড়ে, ততবারই ক্ষোভে-আক্রোশে বুড়ো জ্বলে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার মাতৃত্ববোধ ও সন্তানহীনতার যাতনার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা নিঃসন্তান। এই সন্তানহীনতার কারণে তার মনে এক গভীর শূন্যতা ও নীরব হাহাকার বিরাজ করে। যখন মজিদ অল্পবয়সী জমিলাকে বিয়ে করে আনে, রহিমা সতীনের প্রতি কোনো বিদ্বেষ না দেখিয়ে বরং নিজের অপূর্ণ মাতৃহৃদয়ের সমস্ত স্নেহ-মমতা দিয়ে জমিলাকে আপন সন্তানের মতো আগলে রাখার চেষ্টা করে।

    উদ্দীপকের হালিমা বিয়ের দশ বছর পরও নিঃসন্তান থাকায় একটি এতিম মেয়েকে সন্তানের মতো লালন-পালন করে। হালিমার এই সন্তানহীনতা ও অপূর্ণ মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার চরিত্রের সন্তানহীন জীবনের ট্র্যাজেডি এবং মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষার দিকটিকে চমৎকারভাবে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের হালিমা এবং 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা উভয়েই রক্তসম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে স্নেহের পরশে মাতৃত্বের অনুপম রূপ ফুটিয়ে তুলেছে, তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

    'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা চরিত্রটি নীরব ও সহনশীল। নিঃসন্তান হওয়ার কারণে রহিমার ভেতরে যে শূন্যতা ছিল, তা পূর্ণ করতে সে দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলাকে কন্যার স্নেহ ও ভালোবাসায় সিক্ত করে। জমিলা বয়সে অনেক ছোট হওয়ায় এবং মজিদের অনমনীয় শাসনের মুখে পড়লে রহিমা সবসময় তাকে রক্ষা করতে চায়। স্বামীর প্রতি অন্ধ আনুগত্য থাকা সত্ত্বেও জমিলার প্রতি রহিমার এই মমতা চিরন্তন মাতৃত্বেরই নিদর্শন।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকের হালিমাও নিঃসন্তান এবং সে একটি এতিম মেয়েকে আশ্রয় দিয়ে সন্তানের মতো লালন-পালন করে। স্বামী মেয়েটিকে নির্যাতন করলে হালিমা সহ্য করতে না পেরে স্বামীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সন্তানের নিরাপত্তার খাতিরে নিজের ঘর ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যায়।

    হালিমা যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী রূপ নিয়েছে, রহিমা সেখানে ছিল ধৈর্যশীল ও মমতাময়ী। তবে প্রকাশের ধরন ভিন্ন হলেও উভয়ের হৃদয়েই সন্তানের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং নিঃস্বার্থ মাতৃত্ববোধ বিদ্যমান। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের হালিমা ও উপন্যাসের রহিমা চিরন্তন মাতৃহৃদয়েরই উজ্জ্বল উদাহরণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন