ভূগোল ২য় পত্র • শিল্প • Combined Board • ঢাকা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
শিল্পায়ন কাকে বলে?
- খ)(2)
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্পের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' শিল্প গড়ে উঠার নিয়ামক বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'খ' শিল্পে উল্লিখিত শ্রমিকের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে শিল্পায়ন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি দেশে শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে বিপুলসংখ্যক দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়া কাঁচামাল পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন ও পণ্যের খুচরা বিক্রয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক খাতেও প্রচুর পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়। এর ফলে বেকারত্ব হ্রাস পায় এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' শিল্পটি হলো চিনি শিল্প, কারণ এর প্রধান কাঁচামাল হলো আখ।
চিনি শিল্প গড়ে ওঠার প্রধান নিয়ামকসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: চিনি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো আখ। আখ একটি পচনশীল ও ওজনহ্রাসকারী পণ্য। কাটার পর দ্রুত মাড়াই না করলে আখের রসের শর্করার পরিমাণ কমে যায়। তাই আখ উৎপাদনকারী অঞ্চলের কাছাকাছি চিনি কল গড়ে তোলা হয়।
২. যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা: দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে আখ কারখানায় পৌঁছানোর জন্য উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অপরিহার্য।
৩. শক্তি বা জ্বালানি সম্পদ: চিনি কল পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শক্তির প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে আখের ছিবড়াকেই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৪. মূলধন ও শ্রমিক: কারখানার যন্ত্রপাতি ক্রয়, কারখানা স্থাপন এবং পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত মূলধন এবং দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন।
৫. বাজার: উৎপাদিত চিনি বাজারজাতকরণের জন্য অনুকূল অভ্যন্তরীণ বাজার থাকা প্রয়োজন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' শিল্পটি হলো তৈরি পোশাক শিল্প (গার্মেন্টস শিল্প), যেখানে নারী শ্রমিকের প্রাধান্য দেখা যায়। এ শিল্পের বিকাশ ও দেশের অর্থনীতিতে নারী শ্রমিকের ভূমিকা অপরিসীম।
পোশাক শিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন: পোশাক শিল্পে লাখ লাখ গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। এতে তারা পারিবারিকভাবে ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে, যা নারী ক্ষমতায়নে বিরাট ভূমিকা রাখছে।
২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আর এ খাতের সিংহভাগ কর্মীই নারী। ফলে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তাদের অবদান মুখ্য।
৩. উৎপাদন খরচ হ্রাস: বাংলাদেশের নারী শ্রমিকরা তুলনামূলক স্বল্প মজুরিতে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পোশাক প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
৪. সামাজিক উন্নয়ন: নারীদের আয়ের কারণে তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।অতএব, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের টিকে থাকা, প্রসার এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী শ্রমিকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও