ভূগোল ২য় পত্র • কৃষি • Combined Board • ঢাকা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
কৃষি কাকে বলে?
- খ)(2)
কৃষিক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' এ ইঙ্গিতকৃত ফসলের উল্লিখিত দেশের উৎপাদন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'খ' ও 'গ' এ ইঙ্গিতকৃত ফসলের উৎপাদনে প্রাকৃতিক নিয়ামকের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূমি বা জমি কর্ষণ করে মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ফসল ও উদ্ভিজ্জ দ্রব্য উৎপাদন করার বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়াকে কৃষি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ—যেমন সার, বীজ, কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি যথাসময়ে খামারে বা কৃষকের কাছে পৌঁছাতে পরিবহন ব্যবস্থা অপরিহার্য। এছাড়া কৃষিজাত পণ্য, বিশেষ করে পচনশীল শাকসবজি, ফলমূল ও খাদ্যশস্য মাঠ থেকে দ্রুত স্থানীয় ও দূরবর্তী বাজার বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য উন্নত যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। পরিবহন ব্যবস্থা ভালো না থাকলে ফসলের অপচয় ঘটে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত ফসলটি হলো 'ধান' (বা চাল), কারণ এটি এশিয়া মহাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য এবং চীন এটি উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে।
চীনে ধান উৎপাদনের বর্ণনা:
১. উৎপাদনের স্থান ও অবস্থান: বিশ্বে ধান উৎপাদনে ও ব্যবহারে চীন শীর্ষস্থানে অবস্থান করে। চীনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কৃষিজমিতে ধান চাষ করা হয় এবং বিশ্বের মোট ধানের একটি বড় অংশ চীনেই উৎপাদিত হয়।
২. প্রধান অঞ্চলসমূহ: চীনের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাংশের আর্দ্র ও উষ্ণ অঞ্চল ধান চাষের প্রধান ক্ষেত্র। বিশেষ করে ইয়াংসিকিয়াং ও সিকিয়াং নদীর অববাহিকা এবং ব-দ্বীপ অঞ্চলে ধানের ব্যাপক উৎপাদন হয়। হুনান, হুবেই, গুয়াংডং, জিয়াংসু এবং সিচুয়ান অববাহিকা চীনের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদক অঞ্চল।
৩. উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ ও পদ্ধতি: চীনের পর্যাপ্ত মৌসুমি বৃষ্টিপাত, সমতল উর্বর পলিমাটি এবং নাতিশীতোষ্ণ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু ধান চাষের অত্যন্ত উপযোগী। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড বীজ (যেমন অধ্যাপক ইউয়ান লংপিং উদ্ভাবিত হাইব্রিড ধান), নিয়ন্ত্রিত সেচব্যবস্থা ও নিবিড় চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে চীন হেক্টরপ্রতি বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন করে নিজেদের বিশাল জনসংখ্যার খাদ্যের সংস্থান করে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'খ' দ্বারা নির্দেশিত ফসলটি হলো পাহাড়ি ঢালুতে চাষযোগ্য পানীয় ফসল 'চা' এবং 'গ' দ্বারা নির্দেশিত রসালো কাণ্ডবিশিষ্ট তৃণজাতীয় শস্যটি হলো 'আখ' (ইক্ষু)। এ দুটি ফসলের উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নিয়ামকের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভূ-প্রকৃতি বা ভূমির গঠন:
- চা: চায়ের জন্য ঢালু বা পাহাড়ি ভূমির প্রয়োজন, যাতে গাছের গোড়ায় বৃষ্টির পানি জমে না থাকে। পানি জমলে চা গাছের শিকড় পচে যায়।
- আখ: আখ চাষের জন্য সাধারণত সমতল ও মৃদু ঢালু জমি উপযোগী, যা সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধা দেয়।
২. তাপমাত্রা:
- চা: চা চাষের জন্য গড়ে ১৬° থেকে ২৭° সেলসিয়াসের মতো পরিমিত উষ্ণ তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। তীব্র শৈত্য বা অতিরিক্ত উত্তাপ চায়ের জন্য ক্ষতিকর।
- আখ: আখ একটি উষ্ণমণ্ডলীয় ফসল। এর জন্য তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রা (গড়ে ২০° থেকে ২৭° বা ২৮° সেলসিয়াস) এবং প্রচুর সূর্যালোক প্রয়োজন, যা কাণ্ডে শর্করার পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা:
- চা: প্রচুর বৃষ্টিপাত (১৫০ থেকে ২৫০ সেমি) প্রয়োজন এবং সারা বছর ধরে নিয়মিত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত চা পাতার বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতা এবং সকালের কুয়াশা চায়ের জন্য ভালো।
- আখ: আখের জন্য মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত (১০০ থেকে ১৫০ সেমি) প্রয়োজন। তবে ফসল পাকার ও কাটার সময়ে শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার দরকার হয়; সে সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে রসে চিনির পরিমাণ কমে যায়।
৪. মৃত্তিকা বা মাটি:
- চা: চা চাষের জন্য অম্লীয় ও হিউমাসসমৃদ্ধ উর্বর দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি অত্যন্ত উপযোগী। মাটিতে সামান্য লৌহ উপাদান থাকলে চায়ের সুবাস বাড়ে।
- আখ: আখের জন্য চুন ও ক্ষারধর্মী দোআঁশ, পলিযুক্ত দোআঁশ বা ভারী কাদামাটি বেশি উপযোগী, যা আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে।
উপরিউক্ত তুলনামূলক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, চা পাহাড়ি ঢালু অঞ্চলের পরিমিত উষ্ণ ও উচ্চ বৃষ্টিপাতনির্ভর ফসল হলেও আখ মূলত সমতল ভূমির উচ্চ তাপমাত্রা ও মাঝারি বৃষ্টিপাতনির্ভর শস্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও