যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
চিত্র-১: মানুষের মতো পাখির জন্ম, মৃত্যু, বংশবৃদ্ধি আছে। মানুষের জীবন আছে। অতএব, পাখিরও জীবন আছে।চিত্র-২: মানুষের মতো রোবট কথা বলে। মানুষের হৃদপিণ্ড আছে। সুতরাং রোবটেরও হৃদপিণ্ড আছে।
- ক)(1)
সাদৃশ্যানুমান কত প্রকার ও কী কী?
- খ)(2)
অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
চিত্র-২ এ প্রতিফলিত বিষয়টির ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে চিত্র-১ এ প্রতিফলিত বিষয়টির মূল্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাদৃশ্যানুমান প্রধানত দুই প্রকার। যথা: ১. সাধু সাদৃশ্যানুমান এবং ২. অসাধু সাদৃশ্যানুমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় না করে কেবল অবাধ বা প্রতিকূলতাহীন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার আরোহী প্রক্রিয়াকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। যেমন— এ যাবৎ যত বক দেখেছি সবই সাদা, অতএব সকল বক হয় সাদা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-২ এ 'অসাধু সাদৃশ্যানুমান' প্রতিফলিত হয়েছে।
যে সাদৃশ্যানুমানে দুটি বস্তুর মধ্যে কোনো মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ বা অপরিহার্য বিষয়ে সাদৃশ্য বিবেচনা না করে কতকগুলো বাহ্যিক, অনাবশ্যক ও অগুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।
উদ্দীপকের চিত্র-২ এ দেখা যায়, মানুষের মতো রোবটের কথা বলার বাহ্যিক মিলের ভিত্তিতে মানুষের হৃদপিণ্ড থাকার সাথে তুলনা করে রোবটেরও হৃদপিণ্ড আছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কথা বলা ও হৃদপিণ্ড থাকার মধ্যে কোনো প্রাসঙ্গিক বা কার্যকারণ সম্পর্ক নেই; এটি একটি কৃত্রিম ও অগুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য। তাই চিত্র-২ এর যুক্তিটি একটি অসাধু সাদৃশ্যানুমানের দৃষ্টান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ 'সাধু সাদৃশ্যানুমান' প্রতিফলিত হয়েছে। যুক্তিবিদ্যায় এর মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এ বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হলো:
১. বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পথপ্রদর্শক: সাধু সাদৃশ্যানুমান বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার ও তত্ত্ব উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন— বিজ্ঞানী নিউটন পৃথিবীর আকর্ষণ ও অন্যান্য বস্তুর সাদৃশ্যের মাধ্যমে মাধ্যাকর্ষণ সূত্র আবিষ্কার করেন।
২. কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের সূত্রপাত: দুটি বিষয়ের মধ্যে মৌলিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কার্যকারণ সম্পর্কের প্রাথমিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ভিত্তি তৈরি করে।
৩. ব্যবহারিক জীবনের উপযোগিতা: দৈনন্দিন জীবনে আমরা বহুলাংশে সাদৃশ্যানুমানের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। মানুষ ও পাখির জন্ম, মৃত্যু ও বংশবৃদ্ধির মতো মৌলিক জৈবিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে পাখিরও জীবন আছে— এই সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।
৪. সম্ভাব্যতা বৃদ্ধি: সাধু সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো যত বেশি প্রাসঙ্গিক ও মৌলিক হয়, সিদ্ধান্তের সম্ভাব্যতার মাত্রাও তত বেশি বৃদ্ধি পায় এবং তা প্রায় নিশ্চিত সত্যের কাছাকাছি পৌঁছায়।সুতরাং, চিত্র-১ এ প্রতিফলিত সাধু সাদৃশ্যানুমান বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং ব্যবহারিক জ্ঞান বিকাশে অত্যন্ত মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও