ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র প্রশ্ন
শফিক ও জামাল দুই বন্ধু প্রত্যেকে ২০ লক্ষ টাকা করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন। শফিক ২০ লক্ষ টাকার সম্পূর্ণ A কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন । জামাল ১০ লক্ষ টাকা A কোম্পানির শেয়ারে এবং ১০ লক্ষ টাকা B কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন।
- ক)(1)
আর্থিক ঝুঁকি কী?
- খ)(2)
অনিশ্চয়তা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জামালের বিনিয়োগ কৌশলকে কী নামে অভিহিত করা হয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
শফিক ও জামালের বিনিয়োগের মধ্যে কার বিনিয়োগ ঝুঁকি কম? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণকৃত মূলধনের সুদ এবং আসল যথাসময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবিষ্যতে কোনো ঘটনা ঘটা বা না ঘটার গাণিতিক বা পরিমাপযোগ্য সম্ভাবনা জানা না থাকাকে অনিশ্চয়তা বলে।\n\nভবিষ্যৎ সর্বদাই অজানা ও পরিবর্তনশীল। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রত্যাশিত ফলাফল বা ভবিষ্যৎ অবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো পূর্বানুমান করা সম্ভব না হলে সেই অবস্থাকে অনিশ্চয়তা বলা হয়। অনিশ্চয়তার যে অংশটুকু গাণিতিকভাবে পরিমাপ করা যায় না এবং যা বীমাযোগ্য নয়, তা-ই অনিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য হয়। যেমন- আকস্মিক ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জামালের বিনিয়োগ কৌশলকে 'পোর্টফোলিও বিনিয়োগ' বা 'বিনিয়োগ বৈচিত্র্যায়ন' (Portfolio Diversification) বলা হয়।\n\nএকক কোনো সম্পদে সম্পূর্ণ অর্থ বিনিয়োগ না করে দুই বা ততোধিক ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানিতে বা সম্পদে অর্থ ভাগ করে বিনিয়োগ করাকে পোর্টফোলিও বা বৈচিত্র্যায়ন বলে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগের ঝুঁকি হ্রাস করা।\n\nউদ্দীপকে দেখা যায়, জামালের কাছে মোট ২০ লক্ষ টাকা ছিল। তিনি এই সম্পূর্ণ অর্থ একটি মাত্র কোম্পানিতে না খাটিয়ে ১০ লক্ষ টাকা 'A' কোম্পানিতে এবং বাকি ১০ লক্ষ টাকা 'B' কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। অর্থাৎ তিনি তার মোট তহবিলকে একাধিক সিকিউরিটিতে বণ্টন করে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে ক্ষতি হলেও অন্য কোম্পানির শেয়ারের লাভ দিয়ে তা সমন্বয় করা সম্ভব হবে। তাই জামালের এই বিনিয়োগ কৌশলটি পোর্টফোলিও বা বিনিয়োগ বৈচিত্র্যায়ন কৌশল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শফিক ও জামালের বিনিয়োগের মধ্যে জামালের বিনিয়োগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:\n\nঅর্থায়নের নীতি অনুযায়ী, সম্পূর্ণ অর্থ একটি মাত্র সম্পদে বা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি সর্বাধিক হয়। কারণ ঐ কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা লোকসান দিলে বিনিয়োগকারীকে সম্পূর্ণ লোকসান বহন করতে হয়। কিন্তু অর্থ একাধিক লাভজনক ও ভিন্নধর্মী কোম্পানিতে ভাগ করে বিনিয়োগ করলে মোট ঝুঁকি হ্রাস পায়, যা বৈচিত্র্যায়নের মূল কথা ("Do not put all eggs in one basket")।\n\nউদ্দীপকে শফিক তার সম্পূর্ণ ২০ লক্ষ টাকা কেবল 'A' কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন। এর ফলে কোনো কারণে 'A' কোম্পানি লোকসানে পড়লে বা এর শেয়ারের মূল্য হ্রাস পেলে শফিকের সম্পূর্ণ মূলধন ঝুঁকিতে পড়বে এবং তাকে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।\n\nঅন্যদিকে, জামাল তার ২০ লক্ষ টাকার মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা 'A' কোম্পানিতে এবং ১০ লক্ষ টাকা 'B' কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। তিনি পোর্টফোলিও তৈরি করে ঝুঁকি হ্রাস করেছেন। কোনো কারণে 'A' কোম্পানির শেয়ারের দাম পড়ে গেলেও 'B' কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি বা লভ্যাংশ দিয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ জামাল একক কোম্পানির ঝুঁকির মুখে নেই।\n\nঅতএব, পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়ন নীতির যথাযথ প্রয়োগের কারণে শফিকের তুলনায় জামালের বিনিয়োগ ঝুঁকি অনেক কম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও