অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

স্বপন অর্থনীতিতে মাস্টার্স পাস করার পর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য অনেক দিন চেষ্টা করেছেন কিন্তু চাকরি হয়নি। পরে গ্রামে গিয়ে আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে টাকা ধার করে একটি ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলেন। এখন তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। নিজেকে স্বাবলম্বী করতে পেরে তিনি খুব খুশী।

  1. ক)

    জনসংখ্যার ঘনত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘স্বাস্থ্য সেবার সম্প্রসারণ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    স্বপনের কর্মসংস্থান কী প্রকৃতির? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্বপনের মতো সফল হতে দেশের বেকার যুবকদের করণীয় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে যত লোক বাস করে তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুস্থ ও সবল জনগোষ্ঠী দেশের দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত। স্বাস্থ্য সেবার সম্প্রসারণ ঘটলে মানুষের রোগব্যাধি হ্রাস পায়, গড় আয়ু বৃদ্ধি পায় এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে। সুস্থ মানুষ অধিক উৎপাদনশীল কাজে দীর্ঘ সময় নিয়োজিত থাকতে পারে এবং উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারে। এভাবে স্বাস্থ্য সেবা জনগণের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বাড়িয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত স্বপনের কর্মসংস্থানটি আত্মকর্মসংস্থান (Self-employment) প্রকৃতির।

    নিজের মেধা, শ্রম, দক্ষতা ও নিজস্ব বা ঋণ করা পুঁজি বিনিয়োগ করে নিজের উদ্যোগে জীবিকা নির্বাহের যে ক্ষেত্র গড়ে তোলা হয়, তাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। এতে অন্যের অধীনে চাকরির অপেক্ষা না করে স্বউদ্যোগে কর্মসংস্থান তৈরি করা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বপন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও চাকরি পাননি। পরবর্তীতে তিনি হতাশ না হয়ে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ ধার করে গ্রামে একটি ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। নিজস্ব মেধা ও প্রচেষ্টায় তিনি সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন এবং স্বাবলম্বী হন। স্বপন নিজেই নিজের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করায় তাঁর এ উদ্যোগটি আত্মকর্মসংস্থানের অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বপনের মতো সফল হতে দেশের বেকার যুবকদের চাকরির পেছনে না ঘুরে নিজস্ব উদ্যোগ ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হওয়া প্রয়োজন।

    বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে সবার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির সুযোগ সীমিত। ফলে উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির অপেক্ষায় বসে থাকলে বেকারত্ব ও হতাশা বৃদ্ধি পায়। এ সংকট থেকে উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়া।

    স্বপনের মতো সফল হতে বেকার যুবকদের করণীয়সমূহ নিম্নরূপ:
    ১. দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: কেবলমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্ব-উদ্যোগে কিছু করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
    ২. বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ: যে কোনো উদ্যোগে সফল হতে হলে সংশ্লিষ্ট কাজের উপর যথাযথ প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান অর্জন করতে হবে (যেমন—পশুপালন, মৎস্য চাষ, কৃষি, আইসিটি ইত্যাদি)।
    ৩. ঝুঁকি গ্রহণের মনোভাব ও অধ্যবসায়: যেকোনো ব্যবসা বা উদ্যোগে ঝুঁকি থাকে। উদ্যোক্তা হতে হলে আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের সাথে ঝুঁকি গ্রহণ করতে হবে।
    ৪. মূলধন সংগ্রহ ও সদ্ব্যবহার: নিজস্ব সঞ্চয়, আত্মীয়-স্বজনের সাহায্য বা ক্ষুদ্রঋণ/যুব উন্নয়ন ব্যাংক থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা যথাযথ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে হবে।

    সুতরাং, বেকার যুবকেরা স্বপনের মতো চাকরির মোহ ত্যাগ করে আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করলে তারা নিজেরা যেমন স্বাবলম্বী হতে পারবে, তেমনি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন