পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

  1. ক)

    সুপরিবর্তনীয় সংবিধান কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    উত্তম সংবিধান জনকল্যাণকামী কেন?

    (2)
  3. গ)

    'খ' নির্দেশিত সংবিধানটি কোন ধরনের সংবিধানকে ইজিাত করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'ক' রাষ্ট্রের সংবিধান উত্তম সংবিধান- বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে সংবিধান সাধারণ আইনের মতো সহজ পদ্ধতিতে সংশোধন বা পরিবর্তন করা যায়, তাকে সুপরিবর্তনীয় সংবিধান বলে।

  2. খ)

    উত্তম সংবিধান জনগণের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার নিশ্চয়তা দেয়, তাই এটি জনকল্যাণকামী।

    এতে নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সরকারের ক্ষমতার সীমা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি সুস্পষ্ট থাকে। ফলে সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো জনগণের কল্যাণমূলক কাজ নিশ্চিত হয়। জনগণের ইচ্ছা ও আশা-আকাঙ্ক্ষাও এতে প্রতিফলিত হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের 'খ' সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো যেকোনো সময় সংস্কার করা যায়, যুদ্ধ-বিগ্রহ বা বিপ্লবের সম্ভাবনা কম থাকে এবং রাষ্ট্র বিষয়ক ধারণায় সুস্পষ্টতা থাকে না। এগুলো অলিখিত ও সুপরিবর্তনীয় সংবিধানকে ইঙ্গিত করে।

    ব্যাখ্যা: অলিখিত সংবিধান একটি দলিলে লেখা থাকে না। এটি দীর্ঘদিনের প্রথা, রীতিনীতি ও বিচারালয়ের রায়ের উপর গড়ে ওঠে। সময়ের প্রয়োজনে সহজে পরিবর্তন করা যায় বলে এটি নমনীয় এবং জনগণের অসন্তোষ জমে বিপ্লব ঘটার সম্ভাবনা কম। কিন্তু লিখিত দলিল না থাকায় নিয়মকানুন অস্পষ্ট থাকে। ব্রিটেনের সংবিধান এর উদাহরণ।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো সকলের সহজে বোঝা যায়, নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট থাকে এবং দলিল আকারে থাকায় সকলে মেনে চলে। এগুলো লিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে এটি উত্তম সংবিধান, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. লিখিত ও সুস্পষ্ট: বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল, যাতে প্রস্তাবনা, ১১টি ভাগ ও ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে। এতে সকলের অধিকার, কর্তব্য ও সরকারের গঠন সুস্পষ্ট করে লেখা আছে।
    ২. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: এর তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত আছে, যা আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য।
    ৩. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি আছে, যা জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের নির্দেশনা দেয়।
    ৪. স্থায়িত্ব: দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া সংশোধন করা যায় না বলে সংবিধানের মর্যাদা ও স্থায়িত্ব রক্ষা পায়।

    সুতরাং, 'ক' রাষ্ট্রের লিখিত সংবিধান বাংলাদেশের সংবিধানের মতোই একটি উত্তম সংবিধান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন