সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
কাশেম সাহেব বর্গাদারের মাধ্যমে জমি চাষ করান। জমির আয় থেকেই তিনি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করান। গ্রামের যেকোনো বিচার-সালিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবাই তাঁকে ডাকেন। তাঁর ছোট ভাই শফিক সাহেব উচ্চশিক্ষিত হয়ে গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। গত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেখানে কাশেম সাহেবের বর্গাদাররা নির্বাচনি মিছিল, মিটিং-এ অংশ নেয়।
- ক)(1)
সামাজিক স্তরবিন্যাস কী?
- খ)(2)
গ্রামীণ সমাজের সদস্যদের সমষ্টিগত চেতনা বলতে কী বুঝায়?
- গ)(3)
সামাজিক স্তরবিন্যাসে কাশেম সাহেবের অবস্থান নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে শফিক সাহেবের ক্ষেত্রে জ্ঞাতিসম্পর্কের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বয়স, লিঙ্গ, অর্থসম্পদ, ক্ষমতা ও পেশার ভিত্তিতে সমাজের ব্যক্তিবর্গের উঁচু-নিচু স্তরে বা মর্যাদাক্রম অনুযায়ী বিভক্ত হওয়াকে সামাজিক স্তরবিন্যাস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ সমাজের সদস্যদের সমষ্টিগত চেতনা বলতে গ্রামবাসীর মধ্যকার গভীর পারস্পরিক ঐক্য, একাত্মতা এবং 'আমরা' মনোভাবকে বোঝায়। গ্রামীণ সমাজে মানুষ দীর্ঘকাল ধরে পাশাপাশি বসবাস করার ফলে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত ও দলগত নৈকট্য গড়ে ওঠে। গ্রামের যেকোনো সংকট, উৎসব, বিপদ-আপদে সদস্যরা ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সমগ্র গ্রামের বা গোষ্ঠীর কল্যাণ ও সংহতিকে প্রাধান্য দেয়। পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ এই মানসিক ঐক্যই হলো সমষ্টিগত চেতনা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক স্তরবিন্যাসে কাশেম সাহেবের অবস্থান গ্রামীণ সমাজের উচ্চশ্রেণি বা ভূস্বামী ও প্রভাবশালী অভিজাত স্তরে।
গ্রামীণ ক্ষমতা ও স্তরবিন্যাসের অন্যতম প্রধান নির্ধারক হলো ভূমির মালিকানা এবং সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি। যার ভূমির মালিকানা যত বেশি, গ্রামীণ স্তরবিন্যাসে তার অবস্থান তত ওপরে। এই শ্রেণির মানুষেরা সরাসরি কৃষিকাজে অংশ না নিয়ে বর্গাচাষিদের দিয়ে চাষাবাদ করান এবং গ্রামীণ সালিশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব প্রদান করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কাশেম সাহেব বর্গাদারের মাধ্যমে জমি চাষ করান এবং জমির আয় দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া করান। গ্রামের যেকোনো বিচার-সালিশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবাই তাঁকে ডাকেন। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি একজন সচ্ছল ভূস্বামী এবং গ্রামীণ সমাজের মোড়ল বা মাতব্বর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং, ভূমির প্রাচুর্য, অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও বিচারিক ভূমিকার কারণে সামাজিক স্তরবিন্যাসে কাশেম সাহেব গ্রামীণ উচ্চশ্রেণির মর্যাদায় অবস্থান করছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শফিক সাহেবের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভাই কাশেম সাহেবের ক্ষমতা ও সামাজিক অবস্থানের কারণে সৃষ্ট জ্ঞাতিসম্পর্কের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
বাংলাদেশের গ্রামীণ রাজনীতি ও নির্বাচনব্যবস্থায় জ্ঞাতিসম্পর্ক (Kinship) বা বংশগত প্রভাব একটি অত্যন্ত শক্তিশালী উপাদান। গ্রামীণ সমাজে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁর আত্মীয়-স্বজন, রক্তসম্পর্কীয় গোষ্ঠী এবং পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নির্বাচনি ফলাফলকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকে শফিক সাহেব উচ্চশিক্ষিত ও শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনে তাঁর জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভাই কাশেম সাহেবের শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাশেম সাহেব একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তাঁর অধীনে অনেক বর্গাদার রয়েছে। বর্গাদাররা কাশেম সাহেবের নির্বাচনি আনুগত্যের আওতায় এসে তাঁর ভাই শফিক সাহেবের মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভূমিহীন বর্গাদাররা সাধারণত তাঁদের মহাজন বা জমিমালিকের ইচ্ছা ও জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সিদ্ধান্তের বাইরে যায় না। ভাইয়ের সামাজিক প্রতিপত্তি, জ্ঞাতিসম্পর্কের প্রভাব এবং তাঁদের ওপর নির্ভরশীল বর্গাদারদের সংগঠিত অংশগ্রহণ শফিক সাহেবের নির্বাচনে জয়ে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। অতএব, শফিক সাহেবের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ও নির্বাচনে জয়ে জ্ঞাতিসম্পর্কের কার্যকর ভূমিকা স্পষ্ট।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও