অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

"ক" দেশে ১৯০০ সালে জনসংখ্যা ছিল ১০ কোটি। ওই বছরে জীবিত শিশু জন্মগ্রহণ করে ১৫ লক্ষ। তখন দেশটিতে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ মেট্রিক টন। ১৯২৫ সালে দেশটির জনসংখ্যা হয় ২০ কোটি। খাদ্য উৎপাদন হয় ২ লক্ষ মেট্রিক টন। ১৯৫০ সালের জনসংখ্যা ৪০ কোটি এবং খাদ্য উৎপাদন হয় ৩ লক্ষ মেট্রিক টন।

  1. ক)

    জনসংখ্যার ঘনত্ব কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অধিক জনসংখ্যা মূলধন গঠনে নেতিবাচক ভূমিকা রাখে - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    "ক" দেশের স্থূল জন্মহার নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "ক" দেশের জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা জনসংখ্যা সংক্রান্ত কোন তত্ত্বের সাথে সংগতিপূর্ণ? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটার (বা একক আয়তনের) এলাকায় গড়ে যত জন লোক বসবাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধিক জনসংখ্যা মূলধন গঠনে প্রতিকূল প্রভাব ফেলে। কারণ অতিরিক্ত জনসংখ্যার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে মানুষের আয়ের সিংহভাগই ভোগব্যয়ে শেষ হয়ে যায়। ফলে জনগণের সঞ্চয় করার ক্ষমতা বা সামর্থ্য কমে যায়। সঞ্চয় কমে গেলে ব্যাংকে আমানত হ্রাস পায়, যা দেশে বিনিয়োগ ও নতুন মূলধন সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate - CBR) নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
    CBR = (কোনো নির্দিষ্ট বছরে মোট জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা / বছরের মধ্যকালীন মোট জনসংখ্যা) × ১০০০

    উদ্দীপক অনুযায়ী 'ক' দেশের ১৯০০ সালে:
    মোট জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা (B) = ১৫ লক্ষ = ১৫,০০,০০০ জন
    মোট জনসংখ্যা (P) = ১০ কোটি = ১০,০০,০০,০০০ জন

    অতএব, স্থূল জন্মহার (CBR):
    = (১৫,০০,০০০ / ১০,০০,০০,০০০) × ১,০০০
    = ০.০১৫ × ১,০০০
    = ১৫ (প্রতি হাজারে)

    সুতরাং, 'ক' দেশের স্থূল জন্মহার প্রতি হাজারে ১৫ জন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' দেশের জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাটি প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাসের 'জনসংখ্যা তত্ত্ব'-এর সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।

    ম্যালথাসের মতে, কোনো দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২...) অর্থাৎ প্রতি ২৫ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়। অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫...)।

    উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী দেখা যায়:

    • ১৯০০ সাল: জনসংখ্যা ১০ কোটি এবং খাদ্য উৎপাদন ১ লক্ষ মেট্রিক টন।
    • ১৯২৫ সাল (২৫ বছর পর): জনসংখ্যা বেড়ে হয় ২০ কোটি (দ্বিগুণ) এবং খাদ্য উৎপাদন হয় ২ লক্ষ মেট্রিক টন।
    • ১৯৫০ সাল (আরও ২৫ বছর পর): জনসংখ্যা বেড়ে হয় ৪০ কোটি (আবারও দ্বিগুণ) এবং খাদ্য উৎপাদন হয় ৩ লক্ষ মেট্রিক টন।

    এখানে স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে যে, প্রতি ২৫ বছর পর পর জনসংখ্যা জ্যামিতিক গতিতে (১০ → ২০ → ৪০ কোটি) দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক গতিতে (১ → ২ → ৩ লক্ষ মেট্রিক টন) এক একক করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    জনসংখ্যার জ্যামিতিক বৃদ্ধি এবং খাদ্যের গাণিতিক বৃদ্ধির এই অনুপাত ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের মৌলিক বক্তব্যকে নির্দেশ করে। অতএব, উদ্দীপকের খাদ্য ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিধারা ম্যালথাসীয় তত্ত্বের সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন