অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানি পরিস্থিতি:

রপ্তানি আয় মিলিয়ন মার্কিন ডলার | | আমদানি ব্যয় 'মিলিয়ন মার্কিন ডলার |
২০১০-১১ | ২০১১-১২ | ২০১০-১১ | ২০১১-১২
২২,৯২৪ | ২৪,৩০২ | ৩৩,৬৫৮ | ৩৫,৫১৬

  1. ক)

    অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হওয়ার দুটি কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ২০১১-১২ অর্থবছরে রপ্তানি ও আমদানি বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে কিনা তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অঞ্চলের মধ্যে যে ক্রয়-বিক্রয় বা বাণিজ্য সম্পন্ন হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হওয়ার দুটি প্রধান কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. প্রাকৃতিক সম্পদের অসম বণ্টন: বিশ্বের সব দেশে সমপরিমাণ বা একই ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ বিদ্যমান নেই। কোনো দেশ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, আবার কোনো দেশ কৃষিপণ্য উৎপাদনে এগিয়ে। নিজেদের ঘাটতি পূরণে দেশগুলোকে পরস্পরের সাথে বাণিজ্যে লিপ্ত হতে হয়।
    ২. আপেক্ষিক উৎপাদন ব্যয়ের পার্থক্য: তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি দেশ যে পণ্যটি অন্য দেশের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে উৎপাদনে সক্ষম, সে সেই পণ্য রপ্তানি করে এবং বেশি খরচের পণ্যটি আমদানি করে। এতে উভয় দেশই লাভবান হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারিত হচ্ছে, তবে বাণিজ্যে ধারাবাহিক ঘাটতি বিদ্যমান রয়েছে।

    সারণি থেকে দেখা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ২২,৯২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১১-১২ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ২৪,৩০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি আয় বেড়েছে ১,৩৭৮ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আমদানি ব্যয় ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩৩,৬৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৫,৫১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে, যার বৃদ্ধির পরিমাণ ১,৮৫৮ মিলিয়ন ডলার।

    উভয় অর্থবছরেই দেখা যায় যে, দেশের মোট আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। ২০১০-১১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল (৩৩,৬৫৮ - ২২,৯২৪) = ১০,৭৩৪ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় (৩৫,৫১৬ - ২৪,৩০২) = ১১,২১৪ মিলিয়ন ডলার। সুতরাং, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সামগ্রিক আকার বৃদ্ধি পেলেও তা ক্রমাগত প্রতিকূল বা ঘাটতি বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি প্রদর্শন করছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ২০১১-১২ অর্থবছরে রপ্তানি ও আমদানি উভয় খাতের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

    উদ্দীপক অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়ে ২৪,৩০২ মিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে ৩৫,৫১৬ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এ ধরনের পরিবর্তন অর্থনৈতিক অগ্রগতির সহায়ক।

    প্রথমত, রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়, অভ্যন্তরীণ শিল্প কারখানাগুলো সম্প্রসারিত হয় এবং তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করে।

    দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে আমদানি ব্যয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্প কারখানার কাঁচামাল, জ্বালানি তেল এবং প্রযুক্তি। অবকাঠামো নির্মাণ ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই ব্যয়গুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ফলে স্বল্পমেয়াদে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় উৎপাদন, শিল্পায়ন ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।

    সুতরাং, ২০১১-১২ অর্থবছরে রপ্তানি ও আমদানির এই ভারসাম্যপূর্ণ সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো বিনির্মাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন