অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'x' দেশের জনসংখ্যার বিভিন্ন স্তরে মাথাপিছু আয়ের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো। এ তালিকায় জনসংখ্যার তৃতীয় পর্যায়ে উক্ত দেশে জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান প্রভৃতির সুযোগ হ্রাস পায়।
জনসংখ্যা | ২ কোটি | ৪ কোটি | ৬ কোটি
মাথাপিছু আয় | ১,২০০ ডলার | ১,৮০০ ডলার | ১,০০০ ডলার
- ক)(1)
জ্যামিতিক হার কী?
- খ)(2)
প্রশিক্ষণ কীভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনসংখ্যার বর্ণিত তত্ত্বটি চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত তালিকায় জনসংখ্যার প্রথম ও তৃতীয় পর্যায়ের জনসংখ্যাকে কাম্য পর্যায়ে উন্নীত করতে তোমার সুপারিশকৃত কর্মসূচিসমূহ কী কী হতে পারে?ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জ্যামিতিক হার হলো এমন একটি বৃদ্ধি যেখানে কোনো সংখ্যা পূর্ববর্তী সংখ্যার সাথে একটি নির্দিষ্ট অনুপাত বা গুণিতকে বাড়ে (যেমন: ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২...)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশিক্ষণ কর্মীদের জ্ঞান, কর্মদক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সামর্থ্য বৃদ্ধি করে মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অদক্ষ ও আধাদক্ষ জনগোষ্ঠী আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কার্যপদ্ধতির ব্যবহারে দক্ষ হয়ে ওঠে। এতে কাজের ভুলভ্রান্তি ও অপচয় কমে, উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং কর্মীর আত্মবিশ্বাস ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকশিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনসংখ্যার 'কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব' (Optimum Theory of Population) তুলে ধরা হয়েছে। এডউইন ক্যানানের মতে, জনসংখ্যার যে স্তরে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। উদ্দীপকে ৪ কোটি জনসংখ্যায় মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ ১,৮০০ ডলার, যা কাম্য স্তর।
চিত্রভিত্তিক ব্যাখ্যা:
ভূমি অক্ষে (OX) জনসংখ্যা এবং লম্ব অক্ষে (OY) মাথাপিছু আয় বিবেচনা করি।- জনসংখ্যা যখন ২ কোটি, মাথাপিছু আয় ১,২০০ ডলার (নিম্ন জনসংখ্যা বা Under-population স্তর)। এই স্তরে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা কম থাকায় সম্পদ পুরোপুরি ব্যবহৃত হয় না।
- জনসংখ্যা বেড়ে যখন ৪ কোটি হয়, মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ ১,৮০০ ডলার হয়। এটি হলো কাম্য জনসংখ্যা বিন্দু (M), যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনসংখ্যার অনুপাত নিখুঁত।
- জনসংখ্যা আরও বেড়ে যখন ৬ কোটি হয়, মাথাপিছু আয় হ্রাস পেয়ে ১,০০০ ডলার হয় (অতিরিক্ত জনসংখ্যা বা Over-population স্তর)। এতে জীবনযাত্রার মান ও সুযোগ-সুবিধা হ্রাস পায়।
রেখাচিত্রে মাথাপিছু আয় রেখাটি একটি উল্টানো 'U' আকৃতি ধারণ করে, যার সর্বোচ্চ শীর্ষবিন্দুটি কাম্য জনসংখ্যা নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তালিকা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়টি (২ কোটি জনসংখ্যা) হলো 'নিম্ন জনসংখ্যা' এবং তৃতীয় পর্যায়টি (৬ কোটি জনসংখ্যা) হলো 'অতিরিক্ত জনসংখ্যা'। উভয় স্তরকেই কাম্য পর্যায়ে (৪ কোটি) উন্নীত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে নিম্নলিখিত সুপারিশকৃত কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে:
প্রথম পর্যায়ের (নিম্ন জনসংখ্যা) জন্য কর্মসূচি:
১. জন্মহার বৃদ্ধিতে উৎসাহ প্রদান: শিশুভাতা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও প্রণোদনা প্রদান।
২. অভিবাসন নীতি শিথিলকরণ: বাইরে থেকে দক্ষ ও উপযুক্ত জনশক্তি দেশে প্রবেশে সুবিধা প্রদান।
৩. অপ্রতুল সম্পদের সদ্ব্যবহার: অনুৎপাদিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারে আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো।তৃতীয় পর্যায়ের (অতিরিক্ত জনসংখ্যা) জন্য কর্মসূচি:
১. জন্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা: ছোট পরিবারের ধারণা জনপ্রিয় করা এবং পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সহজলভ্য করা।
২. শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি: বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে সচেতনতা বাড়ানো।
৩. কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি: অতিরিক্ত জনগোষ্ঠীকে দক্ষতায় রূপান্তর করে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি করা, যেন অভ্যন্তরীণ চাপ কমে।
৪. প্রযুক্তিগত রূপান্তর: বিদ্যমান সম্পদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে মাথাপিছু আয়ের অবনমন ঠেকানো।এসব কর্মসূচি যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে কাম্য স্তরে সমন্বিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও