যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকের আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: সজল আকাশকে বলল, 'তুমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছ তার সঠিক ভিত্তি নেই। এতে কোনো পরীক্ষণ, নিরীক্ষণ ও অনির্দেশ যাত্রা নেই।' আকাশ বলল, 'আমি তো শুধু অবাধ অভিজ্ঞতা ও ব্যতিক্রমহীন দৃষ্টান্তের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কাজল বলল, 'আমি তো কয়েকটি ঘটনাকে একসাথে করে সিদ্ধান্ত নেই।'
- ক)(1)
বর্ণনামূলক প্রকল্প কী?
- খ)(2)
রাত হলো দিনের কারণ- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
কাজলের বক্তব্যে কোন আরোহের প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সজল ও আকাশের বক্তব্যে যে দুটি আরোহের প্রকাশ পেয়েছে তাদের মধ্যে সম্পর্ক দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রকল্পে কোনো ঘটনার কারণ আবিষ্কার না করে কেবল ঘটনাটির প্রকৃতি বা রূপ কেমন তা নির্ণয় করা হয়, তাকে বর্ণনামূলক প্রকল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘রাত হলো দিনের কারণ’— এই বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যায় একটি ভ্রান্ত ধারণা বা অনুপপত্তি, যাকে ‘অনুক্রমিক সহাবস্থানকে কারণ মনে করার অনুপপত্তি’ বা ‘সহকার্যকে কারণ গণ্য করার অনুপপত্তি’ বলা হয়। কার্য ও কারণের মধ্যে একটি শর্তহীন ও নিয়ত সম্পর্ক থাকতে হয়। দিন ও রাত আসলে একটির কারণ অন্যটি নয়, বরং উভয়েই পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে সংঘটিত দুটি সহকার্য। একটির পর আরেকটি আসে বলেই তাদের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাজলের বক্তব্যে অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত 'যুক্তিবিন্যাস' বা 'ঘটনা সংযোজন' (Colligation of facts) নামক আরোহের প্রকাশ ঘটেছে।
কতগুলো চাক্ষুষ বা নিরীক্ষিত ঘটনাকে একটি সাধারণ ধারণার মাধ্যমে একত্রিত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মানসিক প্রক্রিয়াকে যুক্তিবিদ উইলিয়াম হোয়েওয়েলের মতে 'ঘটনা সংযোজন' বলা হয়। এতে কোনো আরোহমূলক লম্ফ বা অজানা সত্যের অনুসন্ধান থাকে না, কেবল পরিচিত কতগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে একসঙ্গে গেঁথে নেওয়া হয়।
উদ্দীপকে কাজল বলেছে, 'আমি তো কয়েকটি ঘটনাকে একসাথে করে সিদ্ধান্ত নেই।' কাজলের এই পদ্ধতিটি ঘটনা সংযোজনের মূল ধারণার সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ, কারণ এখানে শুধু কতগুলো জ্ঞাত ঘটনাকে একত্র করে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সজলের বক্তব্যে 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' এবং আকাশের বক্তব্যে 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ'-এর প্রকাশ ঘটেছে। নিম্নে এদের মধ্যে সম্পর্ক (সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য) আলোচনা করা হলো:
সাদৃশ্য:
১. উভয় প্রকার আরোহই প্রকৃত আরোহের অংশ এবং উভয়ের মধ্যেই 'আরোহমূলক লম্ফ' (Inductive Leap) বিদ্যমান থাকে।
২. উভয় আরোহেই বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য গঠন করা হয়।বৈসাদৃশ্য:
১. কার্যকারণ সম্পর্ক: বৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ সম্পর্কের নিয়মের ওপর নির্ভর করে নিশ্চিত সার্বিক সিদ্ধান্ত গঠন করে। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করা হয়, সেখানে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের চেষ্টা থাকে না।
২. সিদ্ধান্তের প্রকৃতি: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত প্রায় নিশ্চিত ও বৈজ্ঞানিক স্তরের। অপরদিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সবসময় সম্ভাব্য থাকে, একটি বিপরীত দৃষ্টান্ত একে ভ্রান্ত প্রমাণ করতে পারে।
৩. নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ: বৈজ্ঞানিক আরোহ সুনিয়ন্ত্রিত নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণের ওপর নির্ভরশীল। পক্ষান্তরে, অবৈজ্ঞানিক আরোহ কেবল অবাধ প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।অতএব, সজল ও আকাশের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের পারস্পরিক তাত্ত্বিক সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও