অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো:

- ক)(1)
আত্মকর্মসংস্থান কী?
- খ)(2)
শিক্ষা কীভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে ও ৮ বিন্দুতে অসামপ্রস্যের পরিমাণ পরিমাপ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত তত্ত্বটির সাথে ঘ্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিজস্ব অর্থায়ন বা পুঁজিতে নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে জীবিকা অর্জনের উপায় সৃষ্টি করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিক্ষা মানুষের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে তাদেরকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল নাগরিকে রূপান্তরিত করে, যা মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উৎপাদনশীল ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অধিকতর কার্যকর অবদান রাখতে পারে এবং নতুন উদ্ভাবনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, যার ফলে মানবসম্পদের প্রকৃত উন্নয়ন ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে উল্লিখিত 'ও' এবং '৮' মূলত যথাক্রমে 'a' এবং 'b' বিন্দুকে নির্দেশ করে (টাইপোগ্রাফিক ত্রুটি)। এটি অধ্যাপক ডাল্টনের জনসংখ্যা তত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত।
ডাল্টনের মতে, কোনো দেশের জনসংখ্যার অসামঞ্জস্যের মাত্রা পরিমাপের সূত্রটি হলো:
এখানে,
= অসামঞ্জস্যের পরিমাণ (Degree of Maladjustment)
= প্রকৃত জনসংখ্যা (Actual Population)
= কাম্য জনসংখ্যা (Optimum Population)চিত্র অনুযায়ী:
কাম্য জনসংখ্যা () = ১০ কোটি (যেখানে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ ২,৮০০ ডলার)।১. 'a' বিন্দুতে অসামঞ্জস্যের পরিমাণ:
'a' বিন্দুতে প্রকৃত জনসংখ্যা () = ৫ কোটি।
অতএব,
যেহেতু -এর মান ঋণাত্মক (), তাই এটি 'নিম্ন জনসংখ্যা' (Under-population) বা অপ্রতুল জনসংখ্যা নির্দেশ করে।২. 'b' বিন্দুতে অসামঞ্জস্যের পরিমাণ:
'b' বিন্দুতে প্রকৃত জনসংখ্যা () = ১৫ কোটি।
অতএব,
যেহেতু -এর মান ধনাত্মক (), তাই এটি 'অতিরিক্ত জনসংখ্যা' (Over-population) নির্দেশ করে।সুতরাং, a বিন্দুতে অসামঞ্জস্যের পরিমাণ -০.৫ এবং b বিন্দুতে +০.৫।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে নির্দেশিত তত্ত্বটি হলো 'কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব' (Optimum Theory of Population)। নিচে এর সাথে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:
১. দৃষ্টিভঙ্গি ও ভিত্তি: ম্যালথাসের তত্ত্বটি খাদ্য উৎপাদন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির গাণিতিক ও জ্যামিতিক সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মূলত নিরাশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে, কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রযুক্তি এবং মাথাপিছু আয়ের সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা বাস্তবসম্মত ও আশাবাদী।
২. জনসংখ্যার সীমা নির্ধারণ: ম্যালথাসের মতে, খাদ্য উৎপাদনের তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেই দেশ সংকটে পড়ে। কিন্তু কাম্য তত্ত্ব অনুযায়ী, যে পরিমাণ জনসংখ্যায় দেশের মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয় (চিত্রে ১০ কোটি জনসংখ্যায় ২,৮০০ ডলার), তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। জনসংখ্যা এর চেয়ে কম (a বিন্দু) বা বেশি (b বিন্দু) উভয়ই অর্থনৈতিকভাবে কাম্য নয়।
৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভূমিকা: ম্যালথাস বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। কাম্য তত্ত্বে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতার উন্নয়ন ঘটলে কাম্য জনসংখ্যা ও জাতীয় আয়ের স্তর বৃদ্ধি পেতে পারে বলে স্বীকার করা হয়।
৪. সমাধান প্রক্রিয়া: ম্যালথাস জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক এবং প্রাকৃতিক বা নিবর্তনমূলক ব্যবস্থার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, কাম্য তত্ত্বে সম্পদ ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন ও দক্ষ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ম্যালথাসের তত্ত্বটি শুধুমাত্র খাদ্য ও জনসংখ্যার অনুপাতের সংকীর্ণ পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ হলেও, কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি অধিকতর বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও