জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মানবদেহে রক্তের মাধ্যমে O₂ ও CO₂ এর পরিবহন ঘটে। একইভাবে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত অন্য একটি প্রাণীতে কতগুলো সূক্ষ্মনালিকা এবং তাদের শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে O₂ ও CO₂ এর পরিবহন ঘটে।
- ক)(1)
ব্রাংকিওস্টেগাল ঝিল্লি কী?
- খ)(2)
রুই মাছের বায়ুথলি গ্রাসনালির সাথে যুক্ত থাকে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ২য় প্রাণীটির শ্বসন অঙ্গের বর্ণনা দাও ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটির শ্বসন কৌশল কি একই রকম? যুক্তিসহ বুঝিয়ে লিখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রুই মাছের ফুলকা প্রকোষ্ঠের অঙ্কীয় দেশে অপারকুলামের কিনারাকে যুক্ত করে রাখা পাতলা চামড়ার মতো যে পর্দাটি ফুলকা প্রকোষ্ঠকে উন্মুক্ত বা বন্ধ করতে সাহায্য করে, তাকে ব্রাংকিওস্টেগাল ঝিল্লি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রুই মাছ একটি ফাইসোস্টোমাস (physostomous) প্রকৃতির মাছ। এদের পরিণত অবস্থাতেও বায়ুথলি বা পটকাটি একটি সরু নালিকা (নিউমেটিক নালী)-র মাধ্যমে গ্রাসনালির (অন্ননালির) সাথে যুক্ত থাকে। এই সংযোগের মাধ্যমে মাছ মুখ দিয়ে বাতাস গ্রহণ করে কিংবা বের করে বায়ুথলিতে গ্যাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা মাছের প্লবতা রক্ষা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং, যার শ্বসন অঙ্গ হলো ট্রাকিয়াল তন্ত্র (Tracheal system)। এর প্রধান অংশসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. শ্বাসরন্ধ্র বা স্পাইরাকল (Spiracles): ঘাসফড়িংয়ের দেহের দুই পাশে মোট ১০ জোড়া ছিদ্র থাকে (বক্ষীয় অঞ্চলে ২ জোড়া এবং উদরীয় অঞ্চলে ৮ জোড়া), যাদের মাধ্যমে বাতাস দেহে প্রবেশ করে ও বের হয়।
২. ট্রাকিয়া (Trachea): এগুলো কিউটিকল নির্মিত শাখা-প্রশাখাযুক্ত নালিকা। এদের ভেতরের প্রাচীরে ইনটিমা ও সর্পিলাকার বলয় (টিনিডিয়া) থাকে, যার ফলে ট্রাকিয়া কখনো চুপসে যায় না।
৩. ট্রাকিওল (Tracheoles): ট্রাকিয়ার প্রান্তীয় সূক্ষ্ম, শাখান্বিত এবং টিনিডিয়াবিহীন নালিকাকে ট্রাকিওল বলে। এগুলোর ভেতরে ট্রাকিওল তরল পূর্ণ থাকে এবং এরা সরাসরি দেহকোষের সংস্পর্শে থাকে।
৪. বায়ুথলি (Air sacs): ট্রাকিয়া প্রসারিত হয়ে কিছু পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট বায়ুথলি গঠন করে, যা শ্বসনের সময় অতিরিক্ত বাতাস জমিয়ে রাখে।
এই নালিকাগুলোর মাধ্যমেই অক্সিজেন সরাসরি কোষে পৌঁছে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বাইরে নির্গত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণী দুটি হলো মানুষ এবং ঘাসফড়িং। এদের শ্বসন কৌশল একই রকম নয়; বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। নিম্নে যুক্তিসহ এদের পার্থক্য তুলে ধরা হলো:
১. শ্বসন অঙ্গের ভিন্নতা: মানুষের প্রধান শ্বসন অঙ্গ হলো ফুসফুস, পক্ষান্তরে ঘাসফড়িংয়ের প্রধান শ্বসন অঙ্গ হলো ট্রাকিয়াল তন্ত্র।
২. গ্যাসীয় পরিবহনে রক্তের ভূমিকা: মানুষের ক্ষেত্রে শ্বাসবায়ু (O₂ ও CO₂) পরিবহনে রক্ত সংবহনতন্ত্র এবং রক্তের হিমোগ্লোবিন প্রধান ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ঘাসফড়িংয়ের রক্তে (হিমোলিম্ফে) কোনো শ্বাসরঞ্জক না থাকায় গ্যাস পরিবহনে রক্ত অংশ নেয় না; O₂ ও CO₂ সরাসরি ট্রাকিয়াল নালিকার মাধ্যমে কোষে আদান-প্রদান হয়।
৩. শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগের প্রক্রিয়া: মানুষের শ্বাসক্রিয়া বক্ষপিঞ্জরের পেশি (ইন্টারকোস্টাল পেশি) ও ডায়াফ্রামের সংকোচন-প্রসারণ দ্বারা ফুসফুসে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ঘাসফড়িংয়ের ক্ষেত্রে পিঠ ও পেটের পেশির (টেরগো-স্টারনাল পেশি) সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে স্পাইরাকলের কপাটিকা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বাতাস ভেতরে ঢোকে ও বের হয়।
৪. পরিবহন পথ: ঘাসফড়িংয়ে প্রথম ৪ জোড়া স্পাইরাকল দিয়ে O₂ সমৃদ্ধ বায়ু প্রবেশ করে এবং শেষ ৬ জোড়া স্পাইরাকল দিয়ে CO₂ সমৃদ্ধ বায়ু বের হয়ে যায়। মানুষের ক্ষেত্রে নাসারন্ধ্র ও শ্বাসনালীর একই সাধারণ পথ দিয়ে গ্যাস প্রবেশ ও নির্গত হয়।অতএব, সুস্পষ্ট গঠনগত ও শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যের কারণে উদ্দীপকের প্রাণী দুটির শ্বসন কৌশল কোনোভাবেই একই রকম নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও