ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
রিমন একটি উৎপাদনমূখী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ব্যবস্থাপক। তিনি তার অধীনস্ত কর্মীদের তাদের দক্ষতা অনুযায়ী কার্য ও দায়িত্ব বন্টন করে দেন। নিয়মিত তদারকি ও যোগাযোগের মাধ্যমে মাসের নির্দিষ্ট বিক্রয় টার্গেট অর্জন করেন। ইদানিং তিনি লক্ষ্য করলেন, একই ধরনের যোগ্যতা সম্পন্ন ও একই সাথে যোগদান করা অন্য ব্যবস্থাপকের সম্মানী অপেক্ষা তার সম্মানী কম। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেও কোন সমস্যার সমাধান হয়নি। তাই তিনি প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক কে?
- খ)(2)
ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন মস্তিষ্কের সাথে তুলনীয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জনাব রিমনের কর্মকাণ্ড ব্যবস্থাপনার কোন নীতির প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
জনাব রিমনের প্রতিষ্ঠান ত্যাগের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যবস্থাপনার নীতির আলোকে মূল্যায়ন কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন ফ্রেডরিক উইনস্লো টেইলর (এফ. ডব্লিউ. টেইলর)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবদেহে মস্তিষ্ক যেমন চিন্তা-ভাবনা করে সামগ্রিক দিকনির্দেশনা প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি একটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও নীতিমালা নির্ধারণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রশাসন কাজ করে বলে প্রশাসনকে মস্তিষ্কের সাথে তুলনা করা হয়।
প্রশাসন হলো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্তর, যা সামগ্রিক লক্ষ্য ও মূল কর্মপন্থা নির্ধারণ করে। আর ব্যবস্থাপনা প্রশাসনের নির্ধারিত নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে, যা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে তুলনীয়। মূল নির্দেশনা ও চিন্তা মস্তিষ্করূপী প্রশাসন থেকেই আসে বলে একে মানবদেহের মস্তিষ্কের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব রিমনের কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থাপনার 'শ্রম বিভাজন বা কার্য বিভাজন নীতি'-র (Division of Work) প্রতিফলন ঘটেছে।
প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজকে কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর অর্পণ করাকে কার্য বিভাজন নীতি বলে। এর ফলে কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের মান বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রিমন একটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ব্যবস্থাপক হিসেবে অধীনস্ত কর্মীদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ ও দায়িত্ব বণ্টন করে দেন। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও যোগাযোগের মাধ্যমে বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেন। কর্মীদের যোগ্যতা অনুযায়ী এভাবে কাজ বণ্টন করা ব্যবস্থাপনার কার্য বিভাজন নীতির যথাযথ প্রয়োগ নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব রিমনের প্রতিষ্ঠান ত্যাগের সিদ্ধান্তটি ব্যবস্থাপনার 'ন্যায্য পারিশ্রমিকের নীতি' ও 'সাম্যের নীতি' লঙ্ঘিত হওয়ার প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
ব্যবস্থাপনার অন্যতম নীতি হলো 'ন্যায্য পারিশ্রমিকের নীতি', যার মূল কথা হলো কর্মীদের মেধা, যোগ্যতা, কাজের প্রকৃতি ও দায়িত্বের ভিত্তিতে সন্তোষজনক ও ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক প্রদান করা। এছাড়া 'সাম্যের নীতি' অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে সমান যোগ্যতা ও অবস্থানে থাকা কর্মীদের প্রতি সমান আচরণ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বৈষম্য কর্মীদের মনোবল নষ্ট করে ও কাজে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে জনাব রিমন দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে নির্দিষ্ট বিক্রয় লক্ষ্য অর্জন করছিলেন। কিন্তু একই ধরনের যোগ্যতা ও একই সাথে যোগদানকারী অন্য ব্যবস্থাপকের চেয়ে তার সম্মানী কম নির্ধারণ করা হয়, যা সাম্য ও ন্যায্য পারিশ্রমিকের নীতিকে ক্ষুণ্ণ করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। অধিকার ও সম্মান ক্ষুণ্ণ হলে দক্ষ কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ে, যার ফলে তিনি চাকরি ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। অতএব, ব্যবস্থাপনার নীতির আলোকে জনাব রিমনের প্রতিষ্ঠান ত্যাগের সিদ্ধান্তটি যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও