ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

তিশা, মিতা ও সাথী তিন বান্ধবী পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তোলেন। তারা তিনজন সমহারে ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন। কিন্তু সাথী ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ গ্রহণ করেন না। কয়েক বছর পর মিতা ব্যবসায় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু মূলধন তুলে নেননি। হিসাবকাল শেষে সবাই মনাফার অংশ দাবি করে।

  1. ক)

    ব্যবসায় কী?

    (1)
  2. খ)

    "চত্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সাথী কোন ধরনের অংশীদার? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মিতার মুনাফার অংশ দাবির যৌক্তিকতা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চুক্তি হলো অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি, কারণ চুক্তির মাধ্যমেই এই ব্যবসায়ের সৃষ্টি ও পরিচালনা নিশ্চিত হয়।

    ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী, অংশীদারদের পারস্পরিক সম্পর্ক কোনো পদমর্যাদা বা পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয় না, বরং চুক্তির ফলেই তা সৃষ্টি হয়। চুক্তি ছাড়া কোনো অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হতে পারে না। অংশীদারদের অধিকার, দায়িত্ব, মুনাফা বণ্টন, মূলধন সরবরাহ এবং বিলোপসাধন সংক্রান্ত সব বিষয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তাই চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সাথী একজন 'ঘুমন্ত' বা 'নিষ্ক্রিয়' অংশীদার (Sleeping/Dormant Partner)।

    যে অংশীদার ব্যবসায়ের মূলধন বিনিয়োগ করে এবং চুক্তি অনুযায়ী মুনাফার অংশ গ্রহণ করে কিন্তু কারবার পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না, তাকে ঘুমন্ত বা নিষ্ক্রিয় অংশীদার বলে। এ জাতীয় অংশীদারের দায়ও সাধারণ অংশীদারদের মতো অসীম থাকে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, তিশা, মিতা ও সাথী সমহারে মূলধন বিনিয়োগ করেন এবং মুনাফার অংশ দাবি করেন। তবে সাথী ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ গ্রহণ করেন না। যেহেতু সাথী মূলধন সরবরাহ করা ও মুনাফা ভাগ করা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনায় নিষ্ক্রিয় থাকেন, তাই তিনি অংশীদারি আইনের দৃষ্টিতে একজন ঘুমন্ত বা নিষ্ক্রিয় অংশীদার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে মিতার সরাসরি ব্যবসায়ের লাভ বা মুনাফার অংশ দাবি করা পুরোপুরি যৌক্তিক নয়; তবে তিনি তার অবিনিয়োগকৃত বা আটকে থাকা মূলধনের ওপর আইন অনুযায়ী সুদ অথবা মুনাফার অংশবিশেষ পাওয়ার অধিকার রাখেন।

    অংশীদারি আইন অনুযায়ী, কোনো অংশীদার ব্যবসায় থেকে অবসর গ্রহণ করার পর যদি তার পাওনা মূলধন ও অন্যান্য দাবি তাৎক্ষণিকভাবে তুলে না নেন, তবে তিনি আর স্বাভাবিক বা সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গণ্য হন না। তিনি তখন 'ঋণদাতা অংশীদার' (Quasi Partner) হিসেবে বিবেচিত হন। আইন অনুযায়ী, লিখিত চুক্তি না থাকলে অবসরপ্রাপ্ত অংশীদার তার পাওনা অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ওই অর্থের ওপর বার্ষিক নির্দিষ্ট হারে (১৯৩২ সালের আইন অনুযায়ী ৬% হারে) সুদ অথবা তার মূলধন ব্যবহারের ফলে অর্জিত মুনাফার আনুপাতিক অংশ দাবি করতে পারেন, কিন্তু সাধারণ অংশীদারের মতো সরাসরি সমহারে বা পূর্ণ মুনাফা দাবি করতে পারেন না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মিতা ব্যবসায় থেকে অবসর গ্রহণ করেন কিন্তু মূলধন তুলে নেননি। হিসাবকাল শেষে তিনি সাধারণ অংশীদারদের মতো মুনাফার অংশ দাবি করেন। যেহেতু তিনি ইতোমধ্যে অবসর নিয়েছেন এবং তার অবস্থান বর্তমানে একজন ঋণদাতার মতো, তাই সাধারণ সক্রিয় অংশীদার হিসেবে পূর্ণাঙ্গ মুনাফা দাবি করা আইনত যৌক্তিক নয়। তিনি কেবল তার অবিলম্বিত অর্থের ওপর চুক্তি বা আইনানুগ নির্ধারিত হারে সুদ অথবা অর্জিত আয়ের আনুপাতিক অংশ পাওয়ার অধিকারী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন