উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
তারা মিয়া গ্রামের দরিদ্র শ্রেণির লোক। তিনি তালপাতা দিয়ে শৈল্পিক নকশাসহকারে হাতপাখা তৈরি করে গ্রাম অঞ্চলের বাজারে বিক্রয় করে সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছেন। তার তৈরিকৃত হাতপাখার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুসংখ্যক কর্মী নিয়ে বৃহৎ পরিসরে হাতপাখা তৈরি করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাইকারি কারবারের মাধ্যমে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করছেন। ক্রেতারাও কমমূল্যে পছন্দসই হাতপাখা ক্রয় করে সন্তুষ্ট। ফলে তারা মিয়া আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণ সাধিত হচ্ছে।
- ক)(1)
বিপণন কী?
- খ)(2)
‘ভোক্তাই বাজারের রাজা’ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
তারা মিয়ার কাজে বিপণনের কোন মৌলিক ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, তারা মিয়ার কার্যাবলিতে তার নিজের ও সমাজের উপকার হয়েছে? উদ্দীপকের আলোকে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভোক্তার প্রয়োজন ও অভাব সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে ক্রেতা ভ্যালু সৃষ্টি এবং লাভজনক ক্রেতা সম্পর্ক গড়ে তুলে মুনাফা অর্জনের সার্বিক প্রক্রিয়াকে বিপণন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ভোক্তাই বাজারের রাজা' বলতে বোঝায় আধুনিক বিপণন ব্যবস্থায় সকল কর্মকাণ্ড ভোক্তাদের প্রয়োজন, রুচি, পছন্দ ও সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।
আধুনিক বিপণন মতবাদে ভোক্তাই সর্বেসর্বা। ভোক্তারা পণ্য গ্রহণ করলেই কেবল একটি প্রতিষ্ঠান মুনাফা অর্জন করতে পারে এবং বাজারে টিকে থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠান চাইলেই নিজের মনমতো পণ্য তৈরি করে ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না; বরং ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করতে হয়। তাই বিপণনে ভোক্তাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে 'রাজা' হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তারা মিয়ার কাজে বিপণনের মৌলিক ধারণার মধ্যে 'প্রয়োজন, অভাব ও চাহিদা' এবং 'পণ্য ও উপযোগ' সৃষ্টির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিপণনের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অভাব বা চাহিদাকে চিহ্নিত করে উপযোগী পণ্য তৈরি করে তা মেটানো। যখন কোনো বস্তুর জন্য মানুষের প্রয়োজন দেখা দেয় এবং তা কেনার মতো সামর্থ্য ও অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা থাকে, তখন তাকে চাহিদা বলে। আর যা কিছু মানুষের প্রয়োজন মেটাতে বাজারে উপস্থাপিত হয়, তা-ই পণ্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, গ্রীষ্মের দিনে বা স্বাভাবিক প্রয়োজনে গ্রামীণ মানুষের হাতপাখার প্রয়োজন ও চাহিদা রয়েছে। তারা মিয়া তালপাতা দিয়ে শৈল্পিক নকশার হাতপাখা (পণ্য) তৈরি করে সাধারণ ক্রেতাদের সেই চাহিদা পূরণ করেছেন। ক্রেতাদের দিক থেকে হাতপাখার ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হওয়ায় তিনি তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ক্রেতারা তাদের পছন্দসই পণ্য সুলভে পেয়ে সন্তুষ্টি অর্জন করেছে। সুতরাং, ক্রেতার চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে মানসম্মত পণ্য তৈরি ও সরবরাহের মৌলিক ধারণাটিই তারা মিয়ার কাজে প্রধানভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি তারা মিয়ার কার্যাবলিতে তার নিজের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে এবং পাশাপাশি সমাজেরও ব্যাপক কল্যাণ সাধিত হয়েছে।
একটি সফল অর্থনৈতিক বা ব্যবসায়িক উদ্যোগ কেবল উদ্যোক্তার আয় বাড়ায় না, বরং সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদের সদ্ব্যবহার এবং জনগণের সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করে। বিপণনের সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
১. নিজস্ব উপকার: তারা মিয়া প্রথমে গ্রামের দরিদ্র শ্রেণির লোক ছিলেন। তালপাতার শৈল্পিক হাতপাখা তৈরি ও বিক্রয় করে তিনি সচ্ছলতা লাভ করেন। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহৎ পরিসরে পাইকারি কারবার শুরু করে তিনি আর্থিকভাবে প্রচুর লাভবান হচ্ছেন। এর মাধ্যমে তার দারিদ্র্য দূর হয়েছে এবং তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন।
২. সমাজের উপকার:
ক. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের জন্য তিনি কিছুসংখ্যক কর্মীকে নিযুক্ত করেছেন, যার ফলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
খ. ভোক্তা সন্তুষ্টি ও সহজপ্রাপ্যতা: ক্রেতারা তাদের সুবিধামতো সাশ্রয়ী মূল্যে সুন্দর ও মানসম্মত হাতপাখা কিনতে পারছেন, যা তাদের সন্তুষ্টি বাড়িয়েছে।
গ. স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার: তালপাতার মতো দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক উপাদানের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে।অতএব, তারা মিয়ার এ ক্ষুদ্র উদ্যোগ একদিকে তার নিজের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ভোক্তা কল্যাণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও