বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রাহেলার মা ছাড়া সংসারে আর কেউ নেই। সামান্য পড়ালেখা শিখেছে সে। আর্থিক অবস্থার কারণে তার মা বাধ্য হয়েই এক বয়স্ক লোকের সাথে রাহেলার বিয়ে দেয়। স্বামীর বাড়ি গিয়ে দেখে, সেখানে তার স্বামীর আরো একটি বউ রয়েছে। রাহেলার ভাগ্যই খারাপ। বড় বউ রাহেলাকে মোটেই সহ্য করতে পারে না। সারাদিন খাটায়, ঠিকমতো খেতে-পরতে দেয় না। রাহেলার বিরুদ্ধে স্বামীর কান ভারীর করে। রাহেলা একদিন আবিষ্কার করল তার স্বামী বসির মিয়া চোরাকারবারের সাথে যুক্ত। ঘরে অবৈধ জিনিসপত্র রাখে। আর মধ্যরাতে তার দলের অন্যদের সাথে এসব জিনিসপত্র পাচার করে। রাহেলা এসব দেখে ভয় পেয়ে যায়। সে প্রতিবাদ করে, বিনিময়ে লাথি ঝাঁটা খায়। একদিন পুলিশ আসে ঘরে। রাহেলা পুলিশের কাছে সমস্ত গোপন তথ্য ফাঁস করে দেয়। বসির মিয়ার মুখোশ খুলে যায়।
- ক)(1)
'হুড়কা'- শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'আজ সেখানে নির্ভেজাল নিষ্ঠুর হিংস্রতা'- এর অর্থ বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বসির মিয়ার বড় বউয়ের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা চরিত্রের তুলনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের রাহেলা এবং 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলার জীবনচিত্র এক সুতায় গাঁথা”- মন্তব্যটি যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'হুড়কা' শব্দের অর্থ দরজার খিল বা অর্গল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আজ সেখানে নির্ভেজাল নিষ্ঠুর হিংস্রতা'- চরণটি দ্বারা লালসালু উপন্যাসে মজিদের অন্তরে জমিলার প্রতি সৃষ্ট তীব্র ক্রোধ ও হিংসাত্মক মনোভাবকে বোঝানো হয়েছে।
উপন্যাসে মজিদ প্রথম স্ত্রী রহিমার ওপর যে আধ্যাত্মিক ভয় ও কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল, দ্বিতীয় স্ত্রী কিশোরী জমিলা তা সহজেই উপেক্ষা করে। জমিলার নির্লিপ্ততা ও অবাধ্যতা মজিদের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত কর্তৃত্ব ও অহমিকাকে চূর্ণ করে দেয়। জমিলা মজিদের ভণ্ডামিকে পরোয়া না করায় মজিদের অন্তঃস্থলে যে প্রতিশোধপরায়ণ ক্রোধের উদ্রেক হয়, তাকেই লেখক ‘নির্ভেজাল নিষ্ঠুর হিংস্রতা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বসির মিয়ার বড় বউয়ের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের প্রথম স্ত্রী রহিমার চরিত্রে মূলত বৈসাদৃশ্যই প্রকটভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা ছিল শান্ত, ধৈর্যশীল, ধর্মভীরু এবং স্বামীর প্রতি নিঃশর্ত অনুগত। মজিদ যখন কিশোরী জমিলাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলে, তখন রহিমা ঈর্ষান্বিত বা ক্ষুব্ধ না হয়ে বরং জমিলার প্রতি মাতৃত্বসুলভ স্নেহ ও মায়া প্রদর্শন করে। সে জমিলাকে সাংসারিক কাজে সাহায্য করে, মজিদের ক্রোধ থেকে তাকে আগলে রাখার চেষ্টা করে এবং তাকে সহমর্মিতা দিয়ে আপন করে নেয়।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের বসির মিয়ার বড় বউ রাহেলার প্রতি অত্যন্ত নির্দয়, হিংসুটে ও নিপীড়ক। সে সতীনের আগমন মেনে নিতে পারেনি, বরং রাহেলাকে সারাদিন খাটায়, খাবার-দাবারে কষ্ট দেয় এবং স্বামীর কাছে রাহেলার বিরুদ্ধে কানভারী করে।
সুতরাং, রহিমার মধ্যে যেখানে প্রকাশ পেয়েছে সহনশীলতা ও মাতৃত্বসুলভ মমতা, উদ্দীপকের বড় বউয়ের চরিত্রে ফুটে উঠেছে পরশ্রীকাতরতা ও চরম নিষ্ঠুরতা। ফলে উভয় চরিত্রের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের রাহেলা এবং 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলার জীবনচিত্র এক সুতায় গাঁথা"— মন্তব্যটি আংশিক সত্য হলেও সার্বিক বাস্তবতার বিচারে পুরোপুরি যথার্থ নয়।
'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা অল্প বয়সে এক বয়োবৃদ্ধ মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী হতে বাধ্য হয়। কিন্তু সে প্রচলিত সামাজিক বা ধর্মীয় ভণ্ডামির কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। তার মধ্যে ছিল সহজাত চপলতা, স্বাধীনতাচেতনার প্রকাশ এবং অন্যায়ের প্রতি নীরব প্রতিরোধ। শেষ পর্যন্ত মজিদ তাকে মাজারে বেঁধে রেখে এলেও জমিলার থুতু নিক্ষেপের মাধ্যমে তার মানসিক বিদ্রোহ প্রকাশ পায়।
উদ্দীপকের রাহেলাও পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে বাধ্য হয়ে বয়োবৃদ্ধ বসির মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে সংসার শুরু করে এবং সতীন ও স্বামীর নিপীড়নের শিকার হয়। এদিক থেকে উভয়ের বাল্যবিয়ে এবং অসম দাম্পত্যের সূচনা এক সুতায় গাঁথা।
তবে তাদের পরবর্তী পরিণতি ও প্রতিবাদের ধরনে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। রাহেলা স্বামীর ঘরে নির্যাতিত হয়েও স্বামীর অপরাধমূলক কাজ মেনে নেয়নি; সে সাহসিকতার সাথে প্রতিবাদ করেছে এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে তথ্য ফাঁস করে দিয়ে বসির মিয়ার অপরাধী মুখোশ উন্মোচন করেছে। পক্ষান্তরে, জমিলার প্রতিরোধ ছিল ব্যক্তিগত, মনস্তাত্ত্বিক ও সংস্কারমুক্তির নীরব রূপ; যা কোনো সামাজিক বা আইনি পরিণতি বয়ে আনেনি।
অতএব, ভাগ্যবিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের সূচনায় উভয়ের মিল থাকলেও প্রতিবাদের ধরন, পরিণতি এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকায় তাদের জীবনচিত্রকে পুরোপুরি 'এক সুতায় গাঁথা' বলা যায় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও