যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন


- ক)(1)
শাব্দিক অর্থে ব্যাখ্যা কী?
- খ)(2)
মনের মৌলিক অনুভূতিকে ব্যাখ্যা করা যায় না কেন?
- গ)(3)
ঘটনা-২ এ 'বাষ্পীভূত মেঘ' কোন বিষয়কে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঘটনা-১ এ উল্লিখিত চিত্র-A এবং চিত্র-B এর সম্পর্ক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইংরেজি 'Explanation' শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'Explanare' থেকে এসেছে, যার শাব্দিক অর্থ হলো 'সহজ বা ব্যক্ত করা' অর্থাৎ কোনো জটিল, অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজ, সরল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনের মৌলিক বা আদি অনুভূতিগুলোকে অন্য কোনো সরল বা প্রাথমিক উপাদানে বিশ্লেষণ করা যায় না এবং এদের কোনো বাহ্যিক আকার-আকৃতি না থাকায় সার্বিক নিয়মের অধীনে এনে এদের ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয় না।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি প্রধান রূপ হলো বিশ্লেষণ এবং নিয়ম বা কার্যকারণ আবিষ্কারের মাধ্যমে কোনো বিষয়কে ব্যাখ্যা করা। কিন্তু আনন্দ, বেদনা, সুখ, দুঃখের মতো মৌলিক অনুভূতিগুলো স্বতঃসিদ্ধ ও সরলতম মানসিক অবস্থা। এদের পেছনে কোনো মধ্যবর্তী জটিল প্রক্রিয়ার অংশ থাকে না যা ভেঙে দেখানো যায়। তাই ব্যাখ্যার প্রচলিত রূপ বা পদ্ধতি মৌলিক মানসিক অনুভূতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ 'বাষ্পীভূত মেঘ' বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্যতম রূপ 'অন্তর্বর্তী ঘটনা আবিষ্কার' বা 'মধ্যবর্তী স্তর/কার্যকারণ শৃঙ্খল আবিষ্কার'-কে নির্দেশ করে।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ হলো দুটি দূরবর্তী বা দৃশ্যমান ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনকারী অন্তর্বর্তী কোনো অনিরীক্ষিত ঘটনা বা মধ্যবর্তী অবস্থাকে প্রকাশ করা। যখন কোনো কারণ এবং তার কার্যের মাঝের সম্বন্ধ স্পষ্ট থাকে না, তখন তাদের মাঝে বিদ্যমান মধ্যবর্তী অবস্থা বা ঘটনাটি উন্মোচন করে কার্যকারণ সম্পর্কটি বোধগম্য করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সমুদ্রের পানি (কারণ) এবং বৃষ্টিপাত (কার্য)-এর মাঝে মধ্যবর্তী পর্যায় হিসেবে 'বাষ্পীভূত মেঘ'-কে দেখানো হয়েছে। সরাসরি সমুদ্রের পানি দেখে বৃষ্টির কারণ স্পষ্ট বোঝা যায় না, কিন্তু সূর্যের তাপে সমুদ্রের পানি বাষ্পীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে এবং সেই মেঘ ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়—এই অন্তর্বর্তী স্তর বা ঘটনা আবিষ্কারের ফলেই বৃষ্টিপাতের প্রক্রিয়াটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্পন্ন হয়। সুতরাং, এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'অন্তর্বর্তী ঘটনা আবিষ্কার' রূপকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ চিত্র-A (মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম) এবং চিত্র-B (জোয়ার-ভাটা)-এর সম্পর্কটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'অন্তর্ভুক্তি' (Subsumption) রূপের আলোকে প্রতিফলিত হয়েছে।
যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিড বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রধানত তিনটি রূপ উল্লেখ করেছেন— বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলায়ন বা অন্তর্ভুক্তি (Subsumption), এবং অন্তর্বর্তী ঘটনা আবিষ্কার। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্তিকরণ প্রক্রিয়ায় কোনো অপেক্ষাকৃত কম ব্যাপক বা সংকীর্ণ নিয়মকে একটি অধিকতর ব্যাপক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা হয়।
চিত্র-A তে বর্ণিত 'মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম' একটি অত্যন্ত ব্যাপক ও মৌলিক প্রাকৃতিক নিয়ম। অপরপক্ষে, চিত্র-B তে বর্ণিত 'জোয়ার-ভাটা' হলো একটি বিশেষ প্রাকৃতিক ঘটনা বা সংকীর্ণ নিয়ম। জোয়ার-ভাটার স্বতন্ত্র ঘটনাটিকে বিজ্ঞানী নিউটন চাঁদের ও সূর্যের আকর্ষণ বা মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ, চন্দ্র ও সূর্যের সাথে পৃথিবীর পারস্পরিক মহাকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবের ফলেই সমুদ্রের পানিতে জোয়ার ও ভাটা সংঘটিত হয়।
অতএব, একটি বিশেষ বা সংকীর্ণ নিয়মকে (জোয়ার-ভাটা) যখন একটি ব্যাপকতর সার্বিক নিয়মের (মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম) আওতাভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়, তখন তা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্তিকরণ রূপকে নির্দেশ করে। সুতরাং, উদ্দীপকের চিত্র-A ও চিত্র-B এর মধ্যকার সম্পর্কটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্তি রূপের যথার্থ উদাহরণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও