কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
কফিলের বাবা দীর্ঘদিন ধরে চরের জমিতে চীনাবাদাম ও তরমুজ চাষ করে আসছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর সে তার জমিতে মাঠ। ফসল চাষের ইচ্ছায় কৃষি অফিসে গিয়ে পরামর্শ চায়। কৃষি কর্মকর্তা তাকে মাটির বুনট পরিবর্তনের পরামর্শ দিলে, কলিম পরামর্শ মোতাবেক কাজ করে মাঠ ফসল চাষে সক্ষম হয়। কর্মকর্তা তাকে আরো বলেন, "মাটির বুনট বিবেচনায় রেখে ফসল নির্বাচন করা উচিৎ।"
- ক)(1)
SRI এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
মাটিতে ভূমিক্ষয়ের প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
কফিল কৃষি কর্মকর্তা যে পরামর্শ দিয়েছিলেন উদ্দীপকের আলোকে তা বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তার শেষ উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
SRI এর পূর্ণরূপ হলো System of Rice Intensification।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাটিতে ভূমিক্ষয়ের প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর ও মারাত্মক।
১. উর্বরতা হ্রাস: ভূমিক্ষয়ের ফলে মাটির উপরিভাগের উর্বর স্তর (টপ সয়েল) অপসারিত হয়, যার ফলে মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থ ও উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান বিনষ্ট হয়ে জমির ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়।
২. গঠন ও ধারণক্ষমতা নষ্ট: মাটির গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মাটির পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পায়।
৩. নদী-নালা ভরাট: ক্ষয়প্রাপ্ত মাটি বৃষ্টির পানির সাথে বাহিত হয়ে নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে জমা হয়, যা নাব্যতা সংকট ও অকাল বন্যার সৃষ্টি করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কফিলের জমিটি ছিল চরাঞ্চলের, যার মাটি ছিল বেলে বা হালকা বুনটের। সেখানে মাঠ ফসল (যেমন: ধান, গম, ডাল ইত্যাদি) ফলানোর জন্য মাটির বুনট পরিবর্তন ও মানোন্নয়নের প্রয়োজন ছিল। তাই কৃষি কর্মকর্তা তাকে মাটির বুনট পরিবর্তনের পরামর্শ দেন।
কৃষি কর্মকর্তা কফিলকে নিম্নোক্ত উপায়ে বুনট রূপান্তরের পরামর্শ দিয়েছিলেন:
১. প্রচুর জৈব পদার্থ প্রয়োগ: মাটিতে বিপুল পরিমাণে গোবর সার, কম্পোস্ট সার, খামারজাত সার ও সবুজ সার প্রয়োগ করা। জৈব সার বেলে মাটির কণাগুলোকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করতে সাহায্য করে এবং মাটির পানি ও পুষ্টি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
২. পলি বা এঁটেল মাটি মেশানো: চরের বেলে মাটিতে আশপাশের পুকুর, বিল বা নদীর তলদেশের পলিযুক্ত বা এঁটেল মাটি এনে মিশিয়ে দিলে মাটির বালুকণার অনুপাত কমে দোআঁশ মাটিতে রূপান্তরিত হয়।
৩. সবুজ সার ফসলের চাষ: ধইঞ্চা বা শিমজাতীয় ফসলের চাষ করে কচি অবস্থায় তা জমিতে চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে পচানো।এসব ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই চরের বালুকাময় বুনট দোআঁশ বুনটে পরিণত হয়ে মাঠ ফসল চাষের উপযোগী হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কৃষি কর্মকর্তার উক্তিটি ছিল— "মাটির বুনট বিবেচনায় রেখে ফসল নির্বাচন করা উচিৎ।" উক্তিটি কৃষিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যথার্থ।
মাটির বুনট বলতে মাটিতে বালিকণা, পলিকণা ও কর্দমকণার পারস্পরিক তুলনামূলক অনুপাতকে বোঝায়। বুনটের ওপর ভিত্তি করে মাটির পানি ধারণক্ষমতা, বায়ু চলাচল, পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা এবং শিকড়ের বিস্তার নির্ভর করে। বিভিন্ন ফসলের পানির ও পুষ্টির চাহিদা ভিন্ন হওয়ায় সব মাটিতে সব ফসল ভালো হয় না:
১. বেলে বুনটের মাটি: এ মাটিতে বালিকণার আধিক্য থাকায় পানি ও পুষ্টি ধারণক্ষমতা কম থাকে। তাই এতে চীনাবাদাম, তরমুজ, ফুটি, মিষ্টি আলু ইত্যাদি ফসল ভালো জন্মায়। ধান বা গমের মতো সাধারণ মাঠ ফসল এতে ফলানো অত্যন্ত কঠিন।
২. দোআঁশ বুনটের মাটি: এ মাটিতে বালি, পলি ও কাদার অনুপাত সুষম থাকে। এটি প্রায় সব ধরনের মাঠ ফসল ও উদ্যানতাত্ত্বিক ফসলের (যেমন: ধান, গম, ভুট্টা, পাট, আলু, শাকসবজি ইত্যাদি) জন্য সর্বোৎকৃষ্ট মাটি।
৩. এঁটেল বুনটের মাটি: এতে কাদার পরিমাণ বেশি থাকায় পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা কম কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা খুব বেশি। ফলে এতে রোপা আমন ধান, বোরো ধান ইত্যাদি ফসল ভালো ফলন দেয়।সুতরাং, মাটির বুনটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ফসল নির্বাচন না করলে বীজ ও শ্রমের অপচয় ঘটে এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না। সঠিক বুনট অনুযায়ী ফসল চাষ করলে কম খরচে সর্বাধিক উৎপাদন পাওয়া যায়। তাই কৃষি কর্মকর্তার উক্তিটি সম্পূর্ণ সঠিক ও যুক্তিসঙ্গত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও