জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
লিমা ও সীমা উভয়েই জ্বরে আক্রান্ত। তারা ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে, ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে দেখলেন যে, লিমার রক্তে অনুচক্রিকা অনেক কমে গেছে এবং সীমার রক্তে লাইসোলেসিথিন এবং হিমোলাইসিন বিদ্যমান।
- ক)(1)
ইমার্জিং ভাইরাস কী?
- খ)(2)
E.Coli কে আদিকোষী জীব বলা হয় কেন?
- গ)(3)
লিমার জ্বরের লক্ষণগুলো বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
সীমার জ্বরের কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব ভাইরাস পূর্বে সীমিত অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল বা নতুন করে আবির্ভূত হয়ে ব্যাপক আকারে রোগ সৃষ্টি করে, তাদেরকে ইমার্জিং ভাইরাস (Emerging virus) বলে; যেমন— SARS-CoV-2, HIV, ডেঙ্গু ইত্যাদি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
Escherichia coli (E. coli) হলো একটি ব্যাকটেরিয়া। এতে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই, অর্থাৎ এর নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস অনুপস্থিত এবং ডিএনএ সাইটোপ্লাজমে মুক্তভাবে অবস্থান করে (নিউক্লিঅয়েড)। এছাড়া এতে ঝিল্লিবেষ্টিত কোনো কোষ অঙ্গাণু (যেমন— মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি) নেই, কেবল ৭০S রাইবোসোম উপস্থিত। তাই E. coli-কে আদিকোষী জীব বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রক্তে অনুচক্রিকা (প্লাটিলেট) কমে যাওয়ায় বোঝা যায় লিমা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। ডেঙ্গু জ্বরের প্রধান লক্ষণসমূহ নিম্নরূপ:
১. আকস্মিক তীব্র জ্বর: রোগীর শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ১০৩°–১০৫° ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।
২. তীব্র ব্যথা: মাথার সামনের দিকে ও চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা হয়। এছাড়া কোমর, অস্থি, অস্থিসন্ধি এবং পেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় (এজন্য একে ব্রেক বোন ফিভার বা হাড়ভাঙা জ্বরও বলা হয়)।
৩. স্কিন র্যাশ: জ্বরের ৩-৪ দিন পর ত্বকে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দেয়।
৪. রক্তক্ষরণ (হেমোরেজিক ডেঙ্গু): দাঁতের মাড়ি, নাক বা ত্বকের নিচ থেকে রক্তপাত হতে পারে এবং রক্তে অনুচক্রিকার সংখ্যা দ্রুত কমে যায়।
৫. অন্যান্য লক্ষণ: বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, পেটে ব্যথা এবং অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দেয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সীমার রক্তে লাইসোলেসিথিন এবং হিমোলাইসিন বিদ্যমান থাকায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে সে ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত। ম্যালেরিয়া জ্বরের মূল কারণ হলো প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) গণের পরজীবী সংক্রমণ, যা স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। এর কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পরজীবীর সংক্রমণ: সংক্রামিত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা দংশন করলে মশার লালার সাথে প্লাজমোডিয়ামের স্পোরোজয়েট মানবদেহে প্রবেশ করে প্রথমে যকৃতে এবং পরে লোহিত রক্তকণিকায় (RBC) সাইজোগনি চক্র সম্পন্ন করে।
২. এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি ও বিষাক্ত পদার্থ ক্ষরণ: লোহিত রক্তকণিকায় পরজীবীর দ্রুত বৃদ্ধির ফলে কণিকাটি ভেঙে যায়। এ সময় পরজীবী থেকে 'লাইসোলেসিথিন' এবং 'হিমোলাইসিন' নামক এনজাইম ক্ষরিত হয়, যা লোহিত রক্তকণিকাকে দ্রুত ধ্বংস করে অ্যানিমিয়া ঘটায়।
৩. হিমোজয়িনের প্রভাব ও জ্বর: লোহিত কণিকা ফেটে যাওয়ার পর রক্তরসে বিষাক্ত হিমোজয়িন (Haemozoin) এবং প্রোটিন বর্জ্য নির্গত হয়। এই বর্জ্য রক্তে পাইরোজেন হিসেবে কাজ করে, যা মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসকে উদ্দীপিত করে এবং রোগী তীব্র কাঁপুনি দিয়ে পর্যায়ক্রমে উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত হয়।
অতএব, প্লাজমোডিয়াম পরজীবীর লোহিত কণিকায় আক্রমণ এবং লাইসোলেসিথিন, হিমোলাইসিন ও হিমোজয়িন নিঃসরণই সীমার জ্বরের মূল কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও