ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব রহিমের বর্তমান বয়স ৪৫ বছর। তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। তিনি তার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজ নামে ১৫ বছরের একটি জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেন। তিনি তার স্ত্রীকে বিমাপত্রের নমিনি করেন। পরপর ৩ বছর কিস্তি প্রদান করার পর জনাব রহিমের মৃত্যু হয়। মেয়াদপূর্তির পর তার স্ত্রী বিমা কোম্পানির নিকট বিমা দাবি পেশ করে।
- ক)(1)
প্রিমিয়াম কী?
- খ)(2)
সমর্পণ মূল্য বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জনাব রহিম কোন ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে জনাব রহিমের স্ত্রী কি বিমা দাবি করতে পারবেন? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা চুক্তি অনুযায়ী বিমাকৃত ঝুঁকি গ্রহণের প্রতিদান হিসেবে বিমাগ্রহীতা বিমাকারীকে নির্দিষ্ট সময় পরপর বা এককালীন যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করে, তাকে প্রিমিয়াম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবন বিমাপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি বিমাগ্রহীতা চুক্তিটি চালু রাখতে অপারগ হয়ে বিমাপত্রটি বিমা কোম্পানির কাছে সমর্পণ বা জমা দিয়ে দেন, তবে বিমাকারী কোম্পানি কর্তৃক বিমাগ্রহীতাকে আনুপাতিক হারে যে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়, তাকে সমর্পণ মূল্য (Surrender Value) বলে।
সাধারণত জীবন বিমার কিস্তি বা প্রিমিয়াম টানা অন্তত দুই বা তিন বছর নিয়মিত পরিশোধ করার পর পলিসির সমর্পণ মূল্য সৃষ্টি হয়। পলিসি সমর্পণ করার পর বিমাগ্রহীতার সাথে বিমা কোম্পানির চুক্তির অবসান ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব রহিম একটি 'মেয়াদি জীবন বিমাপত্র' (Endowment Life Policy) গ্রহণ করেছেন।
যে জীবন বিমাপত্রে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বিমা করা হয় এবং মেয়াদপূর্তির পূর্বে বিমাগ্রহীতার মৃত্যু হলে তার মনোনীত ব্যক্তিকে (নমিনি) কিংবা মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বিমাগ্রহীতা জীবিত থাকলে তাকে সম্পূর্ণ বিমাকৃত অর্থ প্রদান করা হয়, তাকে মেয়াদি জীবন বিমাপত্র বলে। এতে নিরাপত্তা ও সঞ্চয়—উভয় সুবিধাই বিদ্যমান থাকে।
উদ্দীপকে জনাব রহিম তার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজ নামে ১৫ বছর মেয়াদের একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন। যেহেতু বিমাপত্রটি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার (১৫ বছর) জন্য খোলা হয়েছিল এবং এতে নমিনি হিসেবে স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাই এটি সুস্পষ্টভাবে একটি মেয়াদি জীবন বিমাপত্র।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের আলোকে জনাব রহিমের স্ত্রী বিমা দাবি করতে পারবেন, তবে তিনি তা মেয়াদপূর্তির পর নয়, বরং জনাব রহিমের মৃত্যুর পরপরই উত্থাপন করতে পারতেন।
মেয়াদি জীবন বিমা চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে বিমাগ্রহীতার মৃত্যু হলে সাথে সাথেই চুক্তির উদ্দেশ্য সফল ও সমাপ্ত হয় এবং মনোনীত নমিনি বা বৈধ উত্তরাধিকারী সম্পূর্ণ বিমাদাবির অর্থ পাওয়ার অধিকারী হন। এ ক্ষেত্রে নমিনিকে বিমার অবশিষ্ট মেয়াদ বা কিস্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। তাছাড়া টানা ৩ বছর নিয়মিত প্রিমিয়াম দেওয়ার ফলে পলিসিটি কার্যকর ও বৈধ ছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রহিম ১৫ বছর মেয়াদি বিমাপত্র গ্রহণ করার পর টানা ৩ বছর কিস্তি পরিশোধ করেন এবং এরপর মৃত্যুবরণ করেন। জীবন বিমা একটি ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয়, এটি একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ও প্রতিশ্রুতির চুক্তি। মেয়াদি বিমায় বিমা মেয়াদের মধ্যে বিমাগ্রহীতার মৃত্যু ঘটলে বিমা কোম্পানি বিমাকৃত অর্থ পরিশোধের দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ হয়। রহিম সাহেবের স্ত্রী বিমাপত্রের বৈধ নমিনি হওয়ায় স্বামীর মৃত্যুর কারণে তিনি আইনসংগতভাবেই বিমা দাবি উত্থাপনের এবং বিমাকৃত সম্পূর্ণ অর্থ পাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকারী।
উদ্দীপকে মেয়াদপূর্তির পর বিমা দাবি পেশ করা হলেও, যেহেতু চুক্তির বৈধতা বজায় থাকা অবস্থায় বিমাগ্রহীতার মৃত্যু হয়েছিল এবং ৩ বছর প্রিমিয়াম পরিশোধের পর রহিম সাহেবের অকালপ্রয়াণ ঘটেছে, সেহেতু তার স্ত্রী অবশ্যই নিয়মানুযায়ী বিমা দাবি আদায় করতে পারবেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও