অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বস্তুত ৫০ ও ৬০ দশকের দিকে কাঁচা পাট রপ্তানির মাধ্যমেই বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ অর্জিত হতো। এ কারণে তখন পাটকে, 'সোনালি আঁশ' বলা হতো। কিন্তু পাটের বিকল্প ব্যবহার, মূল্য সমস্যা, মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি, প্রতিকূল বাণিজ্য শর্ত ইত্যাদির কারণে পাটের চাহিদা ও মূল্য দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তবে বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন নিষিদ্ধকরণ, পাটশিল্প উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হলে পাটশিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল সম্ভাবনাময়।
- ক)(1)
আমদানি বিকল্প শিল্প কী?
- খ)(2)
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কুটির শিল্পের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাটশিল্পের সমস্যাসমূহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পাটশিল্পের সম্ভাবনা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি হ্রাস করে বা বন্ধ করার লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরেই সেসব পণ্য উৎপাদনের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা শিল্পকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কুটির শিল্প সাধারণত পরিবার-ভিত্তিক এবং এতে অল্প পুঁজি ও সহজলভ্য স্থানীয় কাঁচামাল প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কুটির শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ও স্বল্পশিক্ষিত জনগোষ্ঠী ঘরে বসেই এ শিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়, যা বেকারত্ব দূরীকরণে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের পাটশিল্পের নানাবিধ সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান সমস্যাগুলো হলো:
১. বিকল্প কৃত্রিম পণ্যের ব্যবহার: প্লাস্টিক ও পলিথিনের মতো কৃত্রিম ও সস্তা সিনথেটিক দ্রব্যের সহজলভ্যতার কারণে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের চাহিদা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
২. মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য: পাট চাষিরা সরাসরি উপযুক্ত মূল্য পান না। মধ্যবর্তী ফড়িয়া ও দালালদের উপস্থিতির কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয় এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
৩. প্রতিকূল বাণিজ্য শর্ত ও মূল্য সমস্যা: বিশ্ববাজারে পাটের মূল্যের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অসম শর্তের কারণে পাটশিল্প লোকসানের মুখে পড়ছে।
এসব বহুমুখী সমস্যার কারণে এককালের 'সোনালি আঁশ' হিসেবে খ্যাত পাট ও পাটশিল্প তার পূর্বের গৌরব হারিয়ে সংকটের মুখে পড়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাটশিল্পের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং তা জাতীয় অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
বর্তমানে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জনের জোরালো আন্দোলন চলছে। উদ্দীপকে যেমনটি বলা হয়েছে, প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং পাটজাত পচনশীল পরিবেশবান্ধব ব্যাগের প্রচলন এ শিল্পের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। এছাড়া পাট পাতা থেকে চা, পাটের বহুমুখী পণ্য (যেমন—ব্যাগ, জুতা, পোশাক, গৃহসজ্জার সামগ্রী) ইত্যাদির বৈশ্বিক চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং শ্রমিকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়বে ও উৎপাদন ব্যয় কমবে। বাংলাদেশ গুণগত মানের পাট উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, গবেষণায় বরাদ্দ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে পাটশিল্প পুনরায় তার সোনালি অতীত ফিরে পেতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত হতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও