জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    জীবসম্প্রদায় কী?

    (1)
  2. খ)

    মরুজ উদ্ভিদ কীভাবে প্রকৃতিতে টিকে থাকে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জীবগুলো যে বনাঞ্চলকে নির্দেশ করে তার অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে কিভাবে শক্তির প্রবাহ ঘটে থাকে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা পরিবেশে একসঙ্গে বসবাসকারী এবং পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন প্রজাতির সমগ্র জীবগোষ্ঠীকে একত্রে জীবসম্প্রদায় (Biotic Community) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মরুজ উদ্ভিদ শুষ্ক ও চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ও অঙ্গসংস্থানিক অভিযোজন ঘটিয়ে থাকে। এদের মূল মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে পানি শোষণ করে। প্রস্বেদনের হার কমানোর জন্য পাতাগুলো কাটায় রূপান্তরিত হয় বা ক্ষুদ্রাকার হয় এবং পাতায় পুরু কিউটিকলের স্তর থাকে। এছাড়া এদের কাণ্ড ও পাতা রসালো ও মাংসল হয়ে প্রচুর পানি ও খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে, ফলে এরা দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতেও টিকে থাকতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সুন্দরী, গেওয়া, গোলপাতা, হরিণ ও বাঘ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল (সুন্দরবন)-কে নির্দেশ করে। এই বনাঞ্চলের উদ্ভিদের উল্লেখযোগ্য অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

    ১. শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর: এখানকার কর্দমাক্ত ও জলাবদ্ধ মাটিতে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকায় উদ্ভিদের প্রধান মূল থেকে বিশেষ শাখামূল অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির উপরে সোজা উঠে আসে। এদের আগায় সূক্ষ্ম ছিদ্র বা লেন্টিসেল থাকে, যার মাধ্যমে গাছ বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে।
    ২. ঠেসমূল: জোয়ার-ভাটার পানির টান এবং নরম কাদার মাটিতে গাছকে দৃঢ়ভাবে সোজা রাখার জন্য কাণ্ডের নিচের অংশ থেকে বিশেষ ঠেসমূল বা স্তম্ভমূল সৃষ্টি হয়ে মাটিতে প্রবেশ করে।
    ৩. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম: লবণাক্ত ও জোয়ার-ভাটা প্লাবিত মাটিতে যাতে বীজ ভেসে না যায় বা নষ্ট না হয়, সেজন্য ফল গাছে সংযুক্ত থাকা অবস্থাতেই বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটে। ভ্রূণমূলটি ভারী ও সুঁচালো হয়ে নিচে ঝুলে থাকে এবং মাটিতে পড়ামাত্রই গেঁথে গিয়ে দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
    ৪. লবণাক্ততা সহনশীলতা: অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য এদের পাতাগুলো পুরু, চকচকে ও চামড়ার মতো মোমের আস্তরণে ঢাকা থাকে, যা প্রস্বেদন হ্রাস করে ও অতিরিক্ত লবণ নিঃসরণ করতে সাহায্য করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের একটি খাদ্যশিকলের মাধ্যমে শক্তির একমুখী প্রবাহ দেখানো হয়েছে। বাস্তুতন্ত্রে শক্তির এই প্রবাহ নিম্নলিখিত উপায়ে ঘটে থাকে:

    ১. সৌরশক্তি আবদ্ধকরণ: বাস্তুতন্ত্রের সকল শক্তির মূল উৎস হলো সূর্য। উদ্দীপকের উৎপাদক উদ্ভিদসমূহ (সুন্দরী, গেওয়া, গোলপাতা) সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক ব্যবহার করে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক স্থিতিশক্তিতে রূপান্তরিত করে নিজেদের দেহে খাদ্য হিসেবে জমা রাখে।

    ২. প্রথম স্তরের খাদক বা তৃণভোজী জীবে শক্তি স্থানান্তর: প্রাথমিক খাদক হরিণ ও শূকর খাদ্য হিসেবে এই উদ্ভিদগুলোকে গ্রহণ করে। এর ফলে উৎপাদক থেকে রাসায়নিক শক্তি প্রাথমিক খাদকে প্রবাহিত হয়। তবে উৎপাদক কর্তৃক গৃহীত শক্তির একটি বড় অংশ নিজের শ্বসন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে খরচ হয়ে তাপ হিসেবে অপচয় ঘটে।

    ৩. সর্বোচ্চ স্তরের খাদকে শক্তি স্থানান্তর: দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের খাদক হিসেবে বাঘ যখন হরিণ ও শূকরকে শিকার করে ভক্ষণ করে, তখন শক্তি তৃণভোজী থেকে মাংসাশী জীবে স্থানান্তরিত হয়।

    ৪. শক্তির একমুখী প্রবাহ ও অপচয়: লিন্ডেম্যানের ১০% নিয়ম (Lindeman's Efficiency) অনুযায়ী প্রতিটি ট্রফিক লেভেলে মাত্র প্রায় ১০% শক্তি পরবর্তী ট্রফিক লেভেলে স্থানান্তরিত হয় এবং বাকি প্রায় ৯০% শক্তি শ্বসন ও অন্যান্য জৈবিক ক্রিয়ায় ব্যয়িত ও অপচয়িত হয়ে পরিবেশে তাপ হিসেবে মুক্ত হয়।

    যেহেতু তাপ হিসেবে অপচয় হওয়া এই শক্তি আর কখনো পূর্ববর্তী ট্রফিক লেভেলে বা উৎপাদকে ফিরে আসে না, তাই উদ্দীপকের ট্রফিক স্তরে (সুন্দরী/গেওয়া → হরিণ/শূকর → বাঘ) শক্তির প্রবাহ সর্বদা একমুখী এবং ক্রমান্বয়ে হ্রাসপ্রাপ্ত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন