ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

একজন বিখ্যাত ব্যবস্থাপনাবিদ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ভর্তি হলেও খারাপ দৃষ্টিশক্তির কারণে সেখানে তার লেখাপড়া চালানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তিনি ১৮৭৮ সালে একটি স্টীল কোম্পানিতে মেকানিক হিসেবে কাজে যোগদান করেন এবং ১৮৯০ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে গবেষণাকর্ম পরিচালনা করেন। ঐ বিশেষ শাখায় বিশেষ অবদানের জন্য তাকে শাখাটির জনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

  1. ক)

    শৃঙ্খলার নীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈত-অধীনতা সংগঠনের পরিহার করতে হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন বিখ্যাত ব্যবস্থাপনাবিদের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    কেন বিশেষ শাখায় তাকে জনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে তার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের যোগ্য ব্যক্তিকে উপযুক্ত স্থানে এবং সঠিক বস্তুকে সঠিক স্থানে বিন্যস্ত করার নীতিকে শৃঙ্খলার নীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একজন কর্মীর ওপর একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ প্রদানের ফলে সৃষ্টি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও জটিলতা এড়াতে সংগঠনে দ্বৈত-অধীনতা পরিহার করতে হয়।

    দ্বৈত-অধীনতা সৃষ্টি হলে একজন কর্মী একই সময়ে একাধিক ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির কাছ থেকে আদেশ পেয়ে থাকেন। এর ফলে কার নির্দেশ আগে পালন করবে তা নিয়ে কর্মী বিভ্রান্তিতে পড়ে, কাজের জবাবদিহিতা হ্রাস পায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাতের সৃষ্টি হয়। তাই প্রতিষ্ঠানের কাজের ধারাবাহিকতা, শৃঙ্খলারক্ষা ও আদেশের ঐক্য নিশ্চিত করতে দ্বৈত-অধীনতা পরিহার করা আবশ্যক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক ফ্রেডরিক উইনস্লো টেলর (এফ. ডব্লিউ. টেলর)-এর কথা বলা হয়েছে।

    এফ. ডব্লিউ. টেলর (১৮৫৬-১৯১৫) ছিলেন একজন প্রখ্যাত মার্কিন প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপনাবিদ। তিনি দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ার ইচ্ছা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ১৮৭৮ সালে তিনি মিডভেল স্টিল কোম্পানিতে মেকানিক বা সাধারণ শিক্ষানবিস হিসেবে যোগদান করেন এবং কঠোর পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে ১৮৮৪ সালে সেখানে প্রধান প্রকৌশলী পদে উন্নীত হন। তিনি ১৮৯০ সাল পর্যন্ত ওই কোম্পানিতে কাজ করেন।

    উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, আলোচ্য ব্যক্তিটি হার্ভার্ডে আইন পড়তে গিয়ে দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি এবং ১৮৭৮ থেকে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত স্টিল কোম্পানিতে মেকানিক হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও গবেষণা করেন। এই ঐতিহাসিক ও কর্মজীবনের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণভাবে এফ. ডব্লিউ. টেলরের জীবনের সাথে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যবস্থাপনায় প্রচলিত গতানুগতিক পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিকাশ ও সফল প্রয়োগের জন্যই এফ. ডব্লিউ. টেলরকে 'বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক' হিসেবে আখ্যায়িত করার যৌক্তিকতা রয়েছে।

    টেলরের পূর্বে কারখানাগুলোতে 'বৃদ্ধাঙ্গুলির নিয়ম' বা অনুমাননির্ভর সনাতন পদ্ধতিতে কাজ পরিচালনা করা হতো, যার ফলে অপচয় ও অদক্ষতা বেশি ছিল। টেলর মিডভেল স্টিল কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা হ্রাস, কাজের অপচয় ও অলসতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং তা দূর করার জন্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণাকর্ম চালান।

    তিনি গবেষণার মাধ্যমে কাজের সময় ও গতি নিরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কর্মী নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ, কাজ ও দায়িত্বের সুষম বণ্টন এবং আর্থিক প্রণোদনামূলক মজুরি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। ১৯১১ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Principles of Scientific Management'-এ তিনি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার চারটি মৌলিক নীতি তুলে ধরেন, যা ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটায়।

    ব্যবস্থাপনা জগতে বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী মৌলিক গবেষণার জন্যই এফ. ডব্লিউ. টেলরকে 'বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত যৌক্তিক ও যথাযথ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন