ভূগোল এবং পরিবেশ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

রাকিব নবম শ্রেণিতে পড়ে। সে সহপাঠীর সাথে তার পাঠ্যপুস্তকের এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিল, যার প্রতিপাদ্য বিষয় হলো পৃথিবী ও এর পরিবেশ। তার সহপাঠী রায়হান বলল, "বিষয়টি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি।"

  1. ক)

    অধ্যাপক কার্ল রিটারের ভূগোলের সংজ্ঞাটি লেখো।

    (1)
  2. খ)

    পৃথিবীর আকৃতি কীরূপ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রাকিবের আলোচিত বিষয়টির পরিধি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রায়হানের উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    জার্মান ভূগোলবিদ অধ্যাপক কার্ল রিটারের মতে, ভূগোল হলো পৃথিবীর বিজ্ঞান।

  2. খ)

    পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোল নয়। এটি উত্তর-দক্ষিণে কিছুটা চাপা এবং পূর্ব-পশ্চিমে সামান্য স্ফীত। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি অনেকটা অভিগত গোলকের (Oblate spheroid) মতো। এ কারণে নিরক্ষীয় ব্যাস (১২,৭৫৭ কিলোমিটার) মেরুদেশীয় ব্যাসের (১২,৭১৪ কিলোমিটার) চেয়ে ৪৩ কিলোমিটার বেশি।

  3. গ)

    রাকিবের আলোচিত বিষয়টি হলো ভূগোল ও পরিবেশ, যার প্রতিপাদ্য হলো পৃথিবী ও এর পরিবেশ। এর পরিধি নিচে বর্ণনা করা হলো।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ, নতুন আবিষ্কার ও সমাজের মূল্যবোধের পরিবর্তন ভূগোলের পরিধিকে অনেক বিস্তৃত করেছে।
    ১. প্রাকৃতিক বিষয়: ভূমিরূপবিদ্যা, আবহাওয়াবিদ্যা (জলবায়ুবিদ্যা), সমুদ্রবিদ্যা, মৃত্তিকাবিদ্যা, জীবভূগোল ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত।
    ২. মানবীয় ও সামাজিক বিষয়: সমাজবিদ্যা, অর্থনীতি ও রাজনীতি, অর্থাৎ মানুষের কর্মকাণ্ড ও জীবনধারাও ভূগোলের আওতায় এসেছে।
    ৩. পরিবেশ ও সম্পদ: পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের প্রকৃতি ও পরিবেশ, উষ্ণতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ এবং সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনাও এর অন্তর্গত।

    অর্থাৎ ভূগোল একদিকে প্রকৃতির বিজ্ঞান, অন্যদিকে পরিবেশ ও সমাজের বিজ্ঞান।

  4. ঘ)

    রায়হানের উক্তি "বিষয়টি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি" যথার্থ। ভূগোল ও পরিবেশ পাঠ আমাদের জন্য নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. পৃথিবী সম্পর্কে জ্ঞান: এর মাধ্যমে পৃথিবীর কোনো স্থানের প্রকৃতি ও পরিবেশ এবং পাহাড়, নদী, সাগর, সমভূমি, মরুভূমি ইত্যাদির গঠনের কারণ ও বৈশিষ্ট্য জানা যায়।
    ২. দুর্যোগ ও জলবায়ু সচেতনতা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও নিয়ন্ত্রণ, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি, গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যায়।
    ৩. সম্পদের ব্যবহার: প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এটি সহায়ক।
    ৪. মানুষ ও পরিবেশের সম্পর্ক: কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, যোগাযোগের উন্নতির ফলে মানুষের পরিবেশের পরিবর্তন বুঝতে এবং বিভিন্ন পরিবেশের মানুষের জীবনধারার বৈচিত্র্য জানতে এটি সাহায্য করে।

    সুতরাং, পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই জীবনযাপনের জন্য এ বিষয়টি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন