অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

x দেশে ২০২৪ সালে স্থূল জন্মহার ১৯.৪ এবং স্থল মৃত্যুহার ৬.১০। এই বছর উন্নত জীবনের সন্ধানে অনেকেই স্থায়ীভাবে বাইরে পাড়ি জমিয়েছেন আবার অনুকূল জলবায়ুর কারণে বাইরের দেশ থেকেও 'X' দেশে বহুলোক আসছে। সার্বিকভাবে দেশটি জনাধিক্যের চাপে জর্জরিত। অধ্যাপক হারভে লাইবেনস্টেন এর মতে, "অতিরিক্ত জনসংখ্যা আয় বিনষ্টকারী শক্তি হিসেবে কাজ করে"।

  1. ক)

    বেকারত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কখন শন্য হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে X দেশে জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    অধ্যাপক হারভে লাইবেনস্টেন এর মন্তব্য বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রচলিত বা বিদ্যমান মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক এবং শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি কোনো কর্মসংস্থান খুঁজে না পায়, তবে তাকে বেকারত্ব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি দেশের মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জন্মহার ও মৃত্যুহার সমান হলে এবং একই সাথে নিট অভিবাসন শূন্য হলে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার শূন্য হয়।

    অর্থাৎ, যখন কোনো নির্দিষ্ট সময়ে স্থূল জন্মহার (CBR) ও স্থূল মৃত্যুহার (CDR) সমান থাকে (CBR = CDR) এবং দেশে আগমনকারী ও দেশত্যাগী মানুষের সংখ্যা সমান হয় (অথবা নিট স্থানান্তর শূন্য হয়), তখন মোট জনসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে। ফলে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার শূন্য হয়, যা শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি (Zero Population Growth বা ZPG) নামে পরিচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে X দেশে জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার নিম্নে নির্ণয় করা হলো:

    আমরা জানি,
    জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার (Natural Growth Rate, NGR) = স্থূল জন্মহার (CBR) - স্থূল মৃত্যুহার (CDR)
    শতকরা হারে রূপান্তরের জন্য,
    NGR = \frac{\text{CBR} - \text{CDR}}{10} %

    উদ্দীপক অনুসারে,
    X দেশের স্থূল জন্মহার (CBR) = ১৯.৪ (প্রতি হাজারে)
    এবং স্থূল মৃত্যুহার (CDR) = ৬.১০ (প্রতি হাজারে)

    অতএব, স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার (প্রতি হাজারে) = ১৯.৪ - ৬.১০ = ১৩.৩ জন।
    শতকরা হিসেবে,
    NGR = \frac{13.3}{10}% = 1.33%

    সুতরাং, X দেশে জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার হলো ১.৩৩%।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধ্যাপক হারভে লাইবেনস্টেন-এর মতে, অতিরিক্ত জনসংখ্যা একটি দেশের আয় বিনষ্টকারী বা অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রতিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করে— এই মন্তব্যটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ।

    লাইবেনস্টেনের ক্রান্তি-পর্যায়ের ন্যূনতম প্রয়াস (Critical Minimum Effort) তত্ত্বে উল্লেখ করা হয় যে, অর্থনীতিতে দুই ধরনের শক্তি কাজ করে: একদল আয় বৃদ্ধিকারী এবং অন্যদল আয় বিনষ্টকারী বা হ্রাসকারী শক্তি। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অতিরিক্ত জনসংখ্যা একটি আয় হ্রাসকারী শক্তি হিসেবে কাজ করে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ভোগব্যয় বৃদ্ধি পায়, ফলে সঞ্চয় হ্রাস পায় এবং মূলধন গঠন ব্যাহত হয়, যা সার্বিক বিনিয়োগ ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

    বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে সীমিত ভূমির ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং খাদ্য, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে জাতীয় বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়। এর ফলে উৎপাদনশীল খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক মাত্রায় বেকারত্ব ও দারিদ্র্য সৃষ্টি হয়। তবে এ অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে যদি মানসম্মত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা যায়, কেবল তখনই তারা আয় বর্ধক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। বর্তমান অবস্থায় সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আয় বিনষ্টকারী হিসেবেই চাপ সৃষ্টি করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন