জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

জীবজগতে পিতামাতার বৈশিষ্ট্যগুলো সন্তান-সন্ততিতে স্থানান্তরিত হয় একটি জৈব অণুর মাধ্যমে। জীবের কোষবিভাজনের অন্যতম পূর্বশর্ত উক্ত জৈব অণুটির একটি থেকে দুটিতে পরিণত হওয়া। এ জৈব অণুটির সাথে রাইবোজ সমৃদ্ধ এক সূত্রক জৈব অণুর গুরুত্বপূর্ণ বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

  1. ক)

    মাইসেলি কী?

    (1)
  2. খ)

    ট্রিপলেট কোডন বলতে কী বোঝায় ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আলোচিত জৈব অণুটির দুটিতে পরিণত হওয়ার পদ্ধতি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদ কোষপ্রাচীরের সেলুলোজের প্রায় ১০০টি সমান্তরাল চেইন পরস্পর যুক্ত হয়ে যে ক্ষুদ্রতম ক্রিস্টালাইন গাঠনিক একক তৈরি করে, তাকে মাইসেলি (micelle) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    mRNA অণুতে পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি নাইট্রোজেনাস ক্ষারক বা বেসের একটি নির্দিষ্ট ক্রম, যা প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় একটি নির্দিষ্ট অ্যামাইনো অ্যাসিডকে নির্দেশ বা কোড করে, তাকে ট্রিপলেট কোডন বলে। যেমন- AUG কোডনটি মেথিওনিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিডকে নির্দেশ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আলোচিত জৈব অণুটি হলো DNA। DNA-এর একটি অণু থেকে দুটি অণুতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে DNA অনুলিপন বা রেপ্লিকেশন (Replication) বলে। এটি মূলত অর্ধ-রক্ষণশীল (Semi-conservative) পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। নিম্নে পদ্ধতিটি বর্ণনা করা হলো:

    ১. সূচনা (Initiation): রেপ্লিকেশন একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে শুরু হয় যাকে রেপ্লিকেশন অরিজিন (ori) বলে। হেলিকেজ নামক এনজাইম DNA দ্বিসূত্রকের হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙে দুটি সূত্রকে আলাদা করে, ফলে 'Y'-আকৃতির রেপ্লিকেশন ফর্ক গঠিত হয়। টপোআইসোমারেজ প্যাঁচ খোলে এবং SSBP প্রোটিন সূত্রক দুটিকে পৃথক রাখে।

    ২. প্রাইমার সংযোজন: আরএনএ প্রাইমেজ এনজাইম মাতৃ DNA ছাঁচের সাথে একটি ছোট সম্পূরক RNA প্রাইমার যুক্ত করে।

    ৩. নতুন সূত্রক তৈরি (Elongation): DNA পলিমারেজ-III এনজাইম মুক্ত ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিওসাইড ট্রাইফসফেট (dATP, dGTP, dCTP, dTTP) যুক্ত করে 5' → 3' অভিমুখে নতুন সূত্রক তৈরি করে।

    • লিডিং সূত্রক: একটি ছাঁচে (3' → 5' মুখী মাতৃসূত্রে) অবিচ্ছিন্নভাবে নতুন সূত্রক সংশ্লেষিত হয়।
    • ল্যাগিং সূত্রক: অন্য ছাঁচে (5' → 3' মুখী মাতৃসূত্রে) নতুন সূত্রকটি খণ্ড খণ্ড আকারে সংশ্লেষিত হয়, যাদের ওকাজাকি খণ্ড (Okazaki fragments) বলে।

    ৪. সমাপ্তিকরণ ও জোড়া লাগানো: DNA পলিমারেজ-I আরএনএ প্রাইমারকে অপসারিত করে DNA নিউক্লিওটাইড দ্বারা প্রতিস্থাপন করে এবং DNA লাইগেজ এনজাইম ওকাজাকি খণ্ডগুলোকে ফসফোডাইএস্টার বন্ধন দ্বারা জোড়া লাগিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সূত্রে পরিণত করে।

    ফলে প্রতিটি নতুন DNA অণুর একটি সূত্রক আসে মাতৃ DNA থেকে এবং অপরটি সম্পূর্ণ নতুন সংশ্লেষিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে প্রথম জৈব অণু (DNA)-র সাথে রাইবোজ সমৃদ্ধ এক সূত্রক জৈব অণু (RNA)-র গুরুত্বপূর্ণ বৈসাদৃশ্যের কথা বলা হয়েছে। বাক্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ। নিম্নে এদের বৈসাদৃশ্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. গঠন ও সূত্রক সংখ্যা: DNA সাধারণত দ্বি-সূত্রক (double-stranded) এবং প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো হেলিক্স গঠনযুক্ত। পক্ষান্তরে, RNA প্রধানত এক-সূত্রক (single-stranded) এবং শৃঙ্খল সোজা বা কোনো কোনো স্থানে ভাঁজ হয়ে কুণ্ডলী তৈরি করতে পারে।

    ২. পেন্টোজ সুগার: DNA-এর নিউক্লিওটাইডে থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা (যার ২নং কার্বনে অক্সিজেন অনুপস্থিত)। অন্যদিকে RNA-তে থাকে রাইবোজ শর্করা (যার ২নং কার্বনে হাইড্রোক্সিল (-OH) মূলক উপস্থিত থাকে)।

    ৩. নাইট্রোজেন ক্ষারক (Base): DNA-তে পাইরিমিডিন ক্ষারক হিসেবে সাইটোসিন (C) ও থাইমিন (T) বিদ্যমান থাকে। কিন্তু RNA-তে থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল (U) থাকে।

    ৪. প্রকারভেদ: DNA সাধারণত এক প্রকারের (গঠনগত ভিন্নতা থাকলেও কার্যকরী ভিন্নতা নেই), যা জীবের জিনগত তথ্যের মূল ভাণ্ডার। অন্যদিকে RNA কার্যকারিতার ভিত্তিতে একাধিক প্রকারের হয়, যেমন— mRNA, tRNA, rRNA, gRNA ইত্যাদি।

    ৫. জৈবিক ভূমিকা ও অনুলিপন: DNA বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেপ্লিকেশনের মাধ্যমে অনুলিপিত হতে পারে। অপরদিকে RNA প্রধানত প্রোটিন সংশ্লেষণের সাথে জড়িত এবং কিছু RNA ভাইরাস ব্যতীত এটি সাধারণত রেপ্লিকেশনে অংশ নেয় না, বরং DNA থেকে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়।

    ৬. স্থায়িত্ব: রাসায়নিকভাবে DNA তুলনামূলকভাবে অধিক সুস্থিত। RNA-এর ২নং কার্বনে অতিরিক্ত -OH গ্রুপ থাকায় এটি ক্ষারীয় মাধ্যমে সহজে বিয়োজিত হয় এবং DNA অপেক্ষা কম স্থিতিশীল।

    অতএব, গঠনগত, রাসায়নিক এবং কার্যগত সকল দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় যে DNA এবং RNA-এর মধ্যে সুস্পষ্ট ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। সুতরাং উদ্দীপকের বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন