‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'এ' রাষ্ট্রটি ২০১০ সালের স্বাধীনতা লাভ করে। উক্ত রাষ্ট্রে ২০১২ সালে কার্যকর হওয়া সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার প্রবর্তন করা হয় এবং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে স্বায়ত্তশাসন ছিল না। কিন্তু দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সংশোধনের মাধ্যমে কেন্দ্রে দায়িত্বশীল সরকার প্রবর্তন করা হয় এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কার্যকর হয়। প্রদেশের তালিকা ভুক্ত বিষয় গুলোর উপর কেন্দ্রের কোনো প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তবে প্রাদেশিক গর্ভনর প্রদেশের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান ছিলেন। তিনি আইন প্রণয়ন কিংবা শাসন সংক্রান্ত কাজে হস্তক্ষেপ করতেন না।

  1. ক)

    মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের ফলাফল ভারতে হিন্দু- মুসলমান স্বতন্ত্র জাতিসত্তার প্রকাশ- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    'এ' রাষ্ট্রের ২০১২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য কোন ভারত শাসন আইন কে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত রাষ্ট্রের ২০১৫ সালের সংশোধিত সংবিধানের সাথে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের তুলনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৯ সালে মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন (ভারতীয় পরিষদ আইন) প্রণয়ন করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে ভারতীয় কংগ্রেস অখণ্ড ভারতের পক্ষে প্রচারণা চালায় এবং সাধারণ আসনগুলোতে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। অপরদিকে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র পাকিস্তানের দাবিতে অংশ নেয় এবং মুসলিম সংরক্ষিত আসনগুলোর প্রায় শতভাগ আসনে জয়লাভ করে। এই ফলাফল পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন জাতি এবং মুসলমানরা তাদের নিজস্ব স্বার্থ ও স্বতন্ত্র জাতিসত্তার রক্ষাকবচ হিসেবে মুসলিম লীগকেই সমর্থন করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'এ' রাষ্ট্রের ২০১২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনকে (মন্ট্যাগু-চেমসফোর্ড সংস্কার) ইঙ্গিত করে।

    ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে প্রদেশে 'দ্বৈতশাসন' (Dyarchy) ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এতে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়—হস্তান্তরিত ও সংরক্ষিত। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো প্রাদেশিক মন্ত্রীদের হাতে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বিষয়গুলো প্রাদেশিক গভর্নরের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। ফলে প্রকৃত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা পায়নি। উদ্দীপকের 'এ' রাষ্ট্রের ২০১২ সালের সংবিধানেও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং দ্বৈতশাসন থাকলেও কেন্দ্রে বা প্রদেশে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন ছিল না, যা ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মূল বৈশিষ্ট্যের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'এ' রাষ্ট্রের ২০১৫ সালের সংশোধিত সংবিধানের সাথে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের গভীর সাদৃশ্য ও তুলনামূলক সম্পর্ক রয়েছে।

    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল প্রদেশে দ্বৈতশাসনের অবসান এবং পূর্ণাঙ্গ 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন' (Provincial Autonomy) প্রবর্তন। এই আইনের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা স্পষ্টভাবে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়—যুক্তরাষ্ট্রীয় তালিকা, প্রাদেশিক তালিকা এবং যৌথ তালিকা। প্রাদেশিক তালিকার বিষয়গুলোর ওপর প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে স্বাধীন কর্তৃত্ব দেওয়া হয় এবং প্রদেশগুলো স্বায়ত্তশাসিত সত্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগ পায়।

    উদ্দীপকের 'এ' রাষ্ট্রের ২০১৫ সালের সংশোধনেও দেখা যায়, দ্বৈতশাসন বাতিল করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কার্যকর করা হয়। সেখানে প্রাদেশিক বিষয়গুলোতে কেন্দ্রের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না এবং গভর্নর নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

    তবে বাস্তবে ১৯৩৫ সালের আইনে প্রাদেশিক গভর্নরকে ব্যাপক বিশেষ ক্ষমতা ও স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary powers) দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তারা প্রায়ই স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ করতেন। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত রাষ্ট্রে গভর্নর সম্পূর্ণরূপে নিয়মতান্ত্রিক ছিলেন। এই সামান্য পার্থক্য বাদ দিলে, উদ্দীপকের ২০১৫ সালের সংবিধানের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মূল দর্শন মূলত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের আদর্শের ওপরই প্রতিষ্ঠিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন