অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ও আমদানি পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
অর্থবছর | রপ্তানি আয়(মিলিয়ন মার্কিন ডলার) | আমদানি ব্যয়(মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
২০১১-১২ | ২৩৯৯২ | ৩১৯৮৭
২০১২-১৩ | ১৭০৭৭ | ২১৭৮৪
- ক)(1)
Foreign Aid কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- গ)(3)
উল্লিখিত তথ্যের আলোকে বাংলাদেশের বৈদেশিক' বাণিজ্যে কীরূপ ভারসাম্য বিরাজ করছে? কেন?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবধান কমানোর জন্য তুমি কোন ধরনের নীতিকে সমর্থন করবে? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো উন্নত দেশ বা আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা কর্তৃক কোনো উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত অনুদান, স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ও কারিগরি সহায়তাকে বৈদেশিক সাহায্য (Foreign Aid) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পণ্য (যেমন—তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য) বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। পাশাপাশি দেশের অনূৎপাদিত প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী আমদানির মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত ও বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখে বলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে 'প্রতিকূল বা ঘাটতি বাণিজ্য ভারসাম্য' (Deficit Trade Balance) বিরাজ করছে।
বাণিজ্য ভারসাম্য হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট দৃশ্যমান পণ্য রপ্তানি আয় ও মোট দৃশ্যমান পণ্য আমদানি ব্যয়ের পার্থক্য। যখন রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেশি হয়, তখন তাকে বাণিজ্য ঘাটতি বা প্রতিকূল বাণিজ্য ভারসাম্য বলে।
উদ্দীপকের সারণি থেকে দেখা যায়:
- ২০১১-১২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ২৩,৯৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানি ব্যয় ৩১,৯৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখানে বাণিজ্য ঘাটতি = ৩১,৯৮৭ - ২৩,৯৯২ = ৭,৯৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- ২০১২-১৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ১৭,০৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানি ব্যয় ২১,৭৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখানে বাণিজ্য ঘাটতি = ২১,৭৮৪ - ১৭,০৭৭ = ৪,৭০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
উভয় অর্থবছরেই আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঋণাত্মক ব্যবধান বা প্রতিকূল বাণিজ্য ভারসাম্য পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত রপ্তানি আয় ও আমদানি ব্যয়ের মধ্যবর্তী বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য আমি 'রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন নীতি' এবং 'আমদানি বিকল্পায়ন নীতি'র সমন্বিত রূপকে সমর্থন করি।
এই নীতিসমূহ সমর্থনের সপক্ষে যুক্তি:
১. রপ্তানি বহুমুখীকরণ: বাংলাদেশ প্রধানত তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি আয়ের ব্যবধান কমাতে পাট, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে। রপ্তানি প্রণোদনা ও নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান করা অপরিহার্য।
২. আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে তোলা: দেশে যেসব শিল্পজাত পণ্য ও খাদ্যদ্রব্য সহজে উৎপাদনযোগ্য, সেগুলোর অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। এতে বহুমূল্য বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
৩. অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসবহুল দ্রব্য আমদানিতে বিধিনিষেধ: বিলাসজাত ও অপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে আমদানি সীমিত করা উচিত।
৪. পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন ও শুল্ক সুবিধা আদায়: রপ্তানি পণ্যের মান উন্নয়ন এবং বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পাদনের মাধ্যমে অগ্রাধিকারমূলক শুল্কসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।অতএব, আমদানি হ্রাসের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করলেই উদ্দীপকে নির্দেশিত বাণিজ্য ব্যবধান কার্যকরভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও