পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুসরণকারী রাষ্ট্রটি পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে 'ব' নামক প্রদেশটির জনগণকে তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখে অর্থনৈতিক শোষণ চালাতে থাকে। 'ব' প্রদেশের জনগণের এরূপ অবস্থা দেখে ঐ প্রদেশের একজন অবিসংবাদিত নেতা এক সম্মেলনে কতগুলো দাবি উত্থাপন করেন। এই দাবিগুলোকে জনগণ তাদের মুক্তির সনদ হিসেবে গ্রহণ করে। এই দাবির উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে 'ব' প্রদেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল?
- খ)(2)
ছাত্র সমাজের এগার দফার দুটি দফা লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ের যে দাবির সাথে মিল পাওয়া যায় তার তিনটি দাবি আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
এই দাবিগুলোকে জনগণ তাদের মুক্তির সনদ হিসেবে গ্রহণ করে- তোমার মতামত ব্যক্ত করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত ১১ দফার দুটি দফা হলো:
১. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষার ব্যয় হ্রাস করা এবং মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার করা।
২. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ৬ দফার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৬৬ সালে উত্থাপিত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' দাবির সাথে মিল পাওয়া যায়।
ছয় দফার মধ্যকার তিনটি উল্লেখযোগ্য দাবি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি: ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকারের যুক্তরাষ্ট্রীয় ইউনিয়ন হিসেবে গঠন করতে হবে। সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির এবং আইনসভা হবে সার্বভৌম ও সর্বজনীন ভোটাধিকারে নির্বাচিত।
২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে কেবল দুটি বিষয়—দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র। অবশিষ্ট সমস্ত বিষয় বা ক্ষমতা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে।
৩. মুদ্রা ব্যবস্থা: দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক কিন্তু সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে, অথবা গোটা দেশের জন্য একটিই মুদ্রা থাকবে তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে অর্থ/পুঁজি পাচার না হতে পারে। পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আলাদা রিজার্ভ ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভ থাকবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৬ দফা দাবিগুলোকে বাঙালি জনগণ তাদের মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনা কার্টা' হিসেবে গ্রহণ করেছিল—এ বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান রাজনৈতিক ক্ষমতা, সামরিক বাহিনী, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সরকারি চাকুরিসহ সব ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো এবং সম্পদ পাচার চলত। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ছিল, যা বাঙালিদের চরম নিরাপত্তাহীনতা ও পরাধীনতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
এমন প্রেক্ষাপটে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ৬ দফা পেশ করেন, তা বাঙালি জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আত্মরক্ষামূলক সব অধিকারের পূর্ণাঙ্গ দলিল ছিল। ৬ দফা বাস্তবায়িত হলে পূর্ব পাকিস্তান কার্যত শোষণমুক্ত হতো এবং স্বাধিকার প্রতিষ্ঠিত হতো। এ কারণেই পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী এটিকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। অন্যদিকে, সাধারণ জনগণ ৬ দফাকে নিজেদের বাঁচার দাবি বা মুক্তির সনদ হিসেবে হৃদয়ে ধারণ করে। এই ৬ দফাই পরবর্তীতে ১১ দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছিল।
সুতরাং, সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে ৬ দফা আন্দোলনই বাঙালির স্বাধীনতার চূড়ান্ত পথ উন্মোচন করেছিল, তাই জনগণ সঙ্গত কারণেই একে তাদের মুক্তির সনদ হিসেবে গ্রহণ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও