উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব আলম উৎপাদনের সব উপকরণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে সর্বোচ্চ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। তাই আলম সাহেব এমন উৎপাদন ক্ষমতা প্রয়োগের চিন্তা-ভাবনা করছেন, যেন সর্বনিম্ন ব্যয়ে সর্বোচ্চ পরিমাণ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
- ক)(1)
প্রকৌশলগত উৎপাদন ক্ষমতা কী?
- খ)(2)
প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা কীভাবে নির্ণয় করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব আলম উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কোন ধরনের উৎপাদন ক্ষমতা প্রয়োগ করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব আলমের নতুন উৎপাদন ক্ষমতার নাম উল্লেখপূর্বক এ ধরনের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো উৎপাদন ব্যবস্থার ডিজাইন বা নকশাগত সর্বোচ্চ সম্ভাব্য উৎপাদন মাত্রাকে প্রকৌশলগত উৎপাদন ক্ষমতা বা নকশাকরণ ক্ষমতা (Design Capacity) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতা (যেমন: মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, শিফট পরিবর্তন বা কাঁচামালের ঘাটতি ইত্যাদি) বিবেচনায় নিয়ে কোনো উৎপাদন ইউনিট একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রকৃতপক্ষে যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করে, তাকে প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা বলে।
প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা পরিমাপ করতে নির্ধারিত সময়ে সর্বমোট কার্যকর কার্যঘণ্টাকে একক প্রতি প্রয়োজনীয় সময়ের হার দিয়ে গুণ করে অথবা মোট প্রকৃত উৎপাদিত একক গণনা করে নির্ণয় করা যায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব আলম উৎপাদন বাড়ানোর জন্য 'সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা' (Maximum Capacity) প্রয়োগ করেন।
সব ধরনের উপকরণ, সুযোগ-সুবিধা ও সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বল্পমেয়াদে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ উৎপাদন করতে পারে, তাকে সর্বোচ্চ বা চরম উৎপাদন ক্ষমতা বলে।
উদ্দীপকে জনাব আলম উৎপাদনের সব উপকরণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ উৎপাদন অর্জনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত উপকরণ ব্যবহারের ফলে ব্যয় বেড়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে তা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। এটি সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সুতরাং, আলম সাহেব শুরুতে সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব আলমের নতুন কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ক্ষমতার নাম হলো 'কাম্য বা মিতব্যয়ী উৎপাদন ক্ষমতা' (Optimal Operating Capacity)।
যে উৎপাদন মাত্রায় পণ্য প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয়, তাকে কাম্য উৎপাদন ক্ষমতা বলে।
জনাব আলমের এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের যৌক্তিকতা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ব্যয় সংকোচন: সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে গিয়ে আলমের উৎপাদন ব্যয় মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গিয়েছিল, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর। কাম্য উৎপাদন ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ব্যয়ে উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব।
২. প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি: সর্বনিম্ন ব্যয়ে সর্বোচ্চ উৎপাদন করা সম্ভব হলে বাজারে তুলনামূলক কম মূল্যে বা বেশি মুনাফায় পণ্য বিক্রি করা সহজ হয়, যা তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করে।
৩. যন্ত্রপাতির স্থায়িত্ব: সর্বোচ্চ ক্ষমতায় যন্ত্রপাতি বিরতিহীনভাবে চালালে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু কাম্য মাত্রায় ব্যবহার করলে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয়।
৪. দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা: উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদে সর্বোচ্চ উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই মুনাফা ও উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার জন্য কাম্য মাত্রাই একমাত্র টেকসই সমাধান।অতএব, জনাব আলমের কাম্য উৎপাদন ক্ষমতা গ্রহণের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও