জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মানবদেহের বক্ষগহ্বরে দুটি বায়ুপূর্ণ থলি রয়েছে। প্রতিটি থলি অসংখ্য বায়ু কুঠরীতে বিভক্ত। এরা বিশেষ কৌশলে সংকোচিত প্রসারিত (ভেন্টিলেশন) হয়।
- ক)(1)
হেপারিন কী?
- খ)(2)
BMI বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত একটি বায়ুকুঠরীর গঠন বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভেন্টিলেশন কৌশলটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হেপারিন হলো মাস্ট কোষ ও বেসোফিল শ্বেতকণিকা থেকে ক্ষরিত এক ধরনের মিউকোপলিস্যাকারাইড বা অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট, যা জীবদেহে রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
BMI-এর পূর্ণরূপ হলো Body Mass Index বা দেহভর সূচি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওজনকে (কেজি এককে) তার উচ্চতার বর্গ (মিটার এককে) দিয়ে ভাগ করলে যে মান পাওয়া যায়, তাকে BMI বলে। অর্থাৎ, BMI = ওজন (kg) / [উচ্চতা (m)]²। এর মাধ্যমে মানুষের দেহের চর্বির পরিমাণ এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থা (যেমন- সুস্বাস্থ্য, কম ওজন, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা) মূল্যায়ন করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বায়ুকুঠরীটি হলো ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যকরী একক 'অ্যালভিওলাস' (Alveolus)। এর গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. প্রাচীর: অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অতি পাতলা (প্রায় ০.১-০.২ মাইক্রোমিটার) এবং একস্তরবিশিষ্ট স্কোয়ামাস বা আইঁশাকার এপিথেলিয়াম কোষ দ্বারা গঠিত।
২. কৌশিক জালক: প্রতিটি অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ঘন রক্ত-কৈশিক জালক (Capillary network) দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। পালমোনারি ধমনি থেকে সৃষ্ট এই জালকগুলো গ্যাসীয় বিনিময়ে অংশ নেয়।
৩. সারফ্যাকট্যান্ট ক্ষরণ: অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের বিশেষ কোষ (Type II pneumocyte) থেকে 'সারফ্যাকট্যান্ট' নামক ফসফোলিপিড ও প্রোটিন মিশ্রিত রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত হয়। এটি অ্যালভিওলাসের অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠটান কমিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় অ্যালভিওলাসকে চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
৪. ম্যাক্রোফেজ: এর প্রাচীরে ফ্যাগোসাইটিক ম্যাক্রোফেজ থাকে, যা প্রবেশকৃত রোগজীবাণু বা ধূলিকণা ধ্বংস করে ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখে।
৫. ছিদ্র: দুটি সন্নিহিত অ্যালভিওলাসের মাঝে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে, যাকে 'পোর অব কোন' (Pore of Kohn) বলে; এটি বায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভেন্টিলেশন (ventilation) কৌশলটি হলো মানুষের ফুসফুসের শ্বাসক্রিয়া বা পালমোনারি ভেন্টিলেশন। এটি একটি অবিরাম ও ছন্দময় প্রক্রিয়া, যা দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়—প্রশ্বাস (Inspiration) ও নিঃশ্বাস (Expiration)।
১. প্রশ্বাস প্রক্রিয়া (বায়ু গ্রহণ):
- এটি একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া।
- ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদার পেশি সংকুচিত হয়ে নিচের দিকে নেমে সমতল আকার ধারণ করে, ফলে বক্ষগহ্বরের অনুদৈর্ঘ্য ব্যাস বৃদ্ধি পায়।
- একই সাথে এক্সটার্নাল ইন্টারকোস্টাল পেশির সংকোচনে পর্শুকাগুলো (ribs) বাইরের ও উপরের দিকে উত্তোলিত হয় এবং স্টার্নাম সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
- এর ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসের ভেতরের বায়ুর চাপ বায়ুমণ্ডলীয় চাপের চেয়ে কমে যায়।
- চাপের সমতা রক্ষার জন্য পরিবেশের অক্সিজেনযুক্ত বায়ু নাসারন্ধ্র ও শ্বাসনালি হয়ে ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে প্রবেশ করে।
২. নিঃশ্বাস প্রক্রিয়া (বায়ু ত্যাগ):
- এটি একটি নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া।
- ডায়াফ্রাম ও ইন্টারকোস্টাল পেশিগুলো শিথিল (relax) হয়। ফলে ডায়াফ্রাম পুনরায় ধনুকের মতো বেঁকে উপরে ওঠে এবং পর্শুকা ও স্টার্নাম আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
- এতে বক্ষগহ্বরের আয়তন কমে যায় এবং ফুসফুসীয় বায়ুর চাপ বায়ুমণ্ডলের চাপের চেয়ে বৃদ্ধি পায়।
- ফলে ফুসফুস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত বায়ু বিপরীত পথে বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়।
এভাবেই প্রশ্বাস ও নিঃশ্বাসের নিয়মিত চক্রীয় সংকোচনের মাধ্যমে মানুষের ভেন্টিলেশন সম্পন্ন হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও