যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত-১রবীন্দ্রনাথ হন মানবতাবাদীনজরুল হন মানবতাবাদীঈশ্বরচন্দ্র হন মানবতাবাদী∴ \therefore সকল কবি হন মানবতাবাদীদৃষ্টান্ত-২সকল স্বশিক্ষিত হন পরোপকারীপলেনবাবু হন স্বশিক্ষিত∴ \therefore পলেনবাবু হন পরোপকারী

  1. ক)

    অনুমান কী?

    (1)
  2. খ)

    সহানুমান বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-১ কী ধরনের অনুমান ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ এর তুলনামূলক সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জানা সত্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো অজানা সত্যে পৌঁছানোর মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সহানুমান হলো এক প্রকার মাধ্যম অবরোহ অনুমান, যেখানে পরস্পর সম্পর্কিত দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে একটি নতুন সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। এতে সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই আশ্রয়বাক্যগুলোর চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-১ হলো একটি 'আরোহ অনুমান' (বাস্তব ক্ষেত্রে এটি সাদৃশ্যমূলক বা অপূর্ণ গণনামূলক আরোহ অনুমান)।

    যে অনুমানে কয়েকটি বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তে কোনো গুণের উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করে সমগ্র শ্রেণি বা সার্বিক সত্য সম্পর্কে একটি সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহ অনুমান বলে।

    দৃষ্টান্ত-১-এ লক্ষ্য করা যায়:
    রবীন্দ্রনাথ হন মানবতাবাদী,
    নজরুল হন মানবতাবাদী,
    ঈশ্বরচন্দ্র হন মানবতাবাদী;
    সুতরাং, সকল কবি হন মানবতাবাদী।
    এখানে কয়েকজন নির্দিষ্ট কবির মানবতাবাদী গুণটি প্রত্যক্ষ করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত ("সকল কবি হন মানবতাবাদী") গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে বিশেষ থেকে সার্বিকে উত্তরণ ঘটেছে, যা আরোহ অনুমানের মূল বৈশিষ্ট্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-১ হলো আরোহ অনুমান এবং দৃষ্টান্ত-২ হলো অবরোহ অনুমান (সুনির্দিষ্টভাবে সহানুমান)। নিচে এদের তুলনামূলক সম্পর্ক আলোচনা করা হলো:

    ১. গতিপ্রকৃতি: দৃষ্টান্ত-১ এ বিশেষ দৃষ্টান্ত (রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ঈশ্বরচন্দ্র) থেকে সার্বিক নিয়মে ("সকল কবি") যাওয়া হয়েছে, যা আরোহের প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, দৃষ্টান্ত-২ এ সার্বিক বাক্য ("সকল স্বশিক্ষিত হন পরোপকারী") থেকে একটি বিশেষ ক্ষেত্রে ("পলেনবাবু হন পরোপকারী") সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে, যা অবরোহের রীতি।
    ২. ব্যাপকতা: দৃষ্টান্ত-১ এ সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা আশ্রয়বাক্যগুলোর চেয়ে বেশি। কিন্তু দৃষ্টান্ত-২ এ সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক বা সমব্যাপক।
    ৩. নিশ্চিততা: অবরোহ অনুমানে (দৃষ্টান্ত-২) আশ্রয়বাক্য সত্য হলে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে সত্য হয় (আকারগত সত্যতা)। কিন্তু আরোহ অনুমানে (দৃষ্টান্ত-১) কিছু দৃষ্টান্তে সত্যতা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তা সবসময় নিশ্চিত নাও হতে পারে (যেমন: ঈশ্বরচন্দ্র কবি নন, এবং সব কবি মানবতাবাদী নাও হতে পারেন), অর্থাৎ এটি বস্তুগত সত্যতার ওপর নির্ভরশীল।
    ৪. পারস্পরিক পরিপূরকতা: আরোহের মাধ্যমে যে সার্বিক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, অবরোহ অনুমানে তা আশ্রয়বাক্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

    সুতরাং, দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ যুক্তিবিদ্যার দুটি প্রধান শাখা আরোহ ও অবরোহের চমৎকার প্রতিফলন এবং এরা পরস্পরের পরিপূরক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন