কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    লিটার কী?

    (1)
  2. খ)

    মুরগির ডিম অনুর্বর হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ছকটির 'C' চিহ্নিত পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোন পদ্ধতিটি মুরগি পালনে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক? তোমার উত্তরের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুরগির ঘরে মেঝেতে নরম বিছানা হিসেবে ব্যবহৃত ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া, কুচানো খড় ইত্যাদির শুকনো আস্তরণকে লিটার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মোরগের মিলন ছাড়া ডিম উৎপাদিত হলে সেই ডিম অনুর্বর বা অনিষিক্ত হয়।

    মুরগি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় নিয়মেই ডিম পাড়তে পারে। তবে বাচ্চা ফুটানোর জন্য ডিম নিষিক্ত হওয়া প্রয়োজন, যা মোরগ ও মুরগির মিলনের ফলে শুক্রাণু দ্বারা ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে ঘটে। যদি ঝাঁকে কোনো মোরগ না থাকে বা প্রয়োজনীয় অনুপাতে মোরগ না রাখা হয়, অথবা মোরগ প্রজননক্ষম না হয়, তবে মুরগির পাড়া ডিম নিষিক্ত হয় না এবং ডিম অনুর্বর থেকে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছকটির 'C' চিহ্নিত পদ্ধতিটি হলো মুরগির 'আবদ্ধ পালন পদ্ধতি' (Intensive/Confined System)।

    আবদ্ধ পালন পদ্ধতিতে মুরগিকে সার্বক্ষণিক নির্দিষ্ট ঘরের মধ্যে আটকে রেখে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে লালন-পালন করা হয়। এ পদ্ধতিতে মুরগিকে বাইরে বিচরণ করতে দেওয়া হয় না। এদের খাদ্য, পানি ও প্রয়োজনীয় সব পরিচর্যা ঘরের ভেতরেই সরবরাহ করা হয়।

    আবদ্ধ পদ্ধতি মূলত দুটি উপায়ে পরিচালিত হয়:
    ১. মেঝে বা লিটার পদ্ধতি: পাকা মেঝেতে ধানের তুষ, করাতের গুঁড়া বা শুকনো খড় বিছিয়ে আরামদায়ক লিটার তৈরি করে সেখানে মুরগি পালন করা হয়। ব্রয়লার মুরগি পালনে এটি বহুল ব্যবহৃত।
    ২. খাঁচা বা ব্যাটারি পদ্ধতি: ঘরের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত তারের খাঁচায় প্রতিটি মুরগি বা নির্দিষ্ট সংখ্যক মুরগি রেখে খাদ্য ও পানি সরবরাহ করা হয়। লেয়ার বা ডিমপাড়া মুরগি পালনে এটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এ পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় অধিক মুরগি পালন করা যায় এবং রোগব্যাধি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ছকটির 'C' চিহ্নিত 'আবদ্ধ পালন পদ্ধতি' সবচেয়ে বেশি লাভজনক।

    এর যথার্থতার কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অল্প জমিতে অধিক উৎপাদন: বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, যেখানে কৃষিজমির পরিমাণ সীমিত। আবদ্ধ (বিশেষ করে খাঁচা ও ডিপ লিটার) পদ্ধতিতে অত্যন্ত স্বল্প জায়গায় বহুতলবিশিষ্ট বা ঘন বিন্যাসে হাজার হাজার ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি পালন করা যায়।

    ২. সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত বৃদ্ধি: এ পদ্ধতিতে বয়সভেদে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। ফলে খাদ্যের অপচয় কম হয় এবং মাংস ও ডিমের উৎপাদন দ্রুত বাড়ে।

    ৩. রোগব্যাধি ও জৈবনিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ: মুক্ত বা অর্ধমুক্ত পদ্ধতিতে মুরগি বাইরে ঘুরে বেড়ায় বলে সংক্রামক রোগ, বন্য পাখি বা অন্য প্রাণীর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে। আবদ্ধ ঘরে কঠোর জৈবনিরাপত্তা বজায় রেখে রোগবালাই সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং টিকাদান ও চিকিৎসা সঠিকভাবে দেওয়া যায়।

    ৪. শিকারী প্রাণী ও চুরি থেকে সুরক্ষা: শেয়াল, বেজি, কুকুর এবং চোরের উপদ্রব থেকে আবদ্ধ ঘরে থাকা মুরগি সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে, ফলে খামারির আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমে যায়।

    ৫. ডিমের গুণগত মান ও সংগ্রহ: লেয়ার মুরগির ক্ষেত্রে খাঁচা পদ্ধতিতে ডিম পরিষ্কার থাকে এবং ডিম ভেঙে নষ্ট হওয়ার হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।

    মুক্ত ও অর্ধমুক্ত পদ্ধতিতে ব্যয় কম হলেও তা মূলত পারিবারিক বা সীমিত পরিসরে উপযোগী এবং বড় পরিসরে তা দিয়ে ক্রমবর্ধমান ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। অতএব, সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চ মুনাফার কারণে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আবদ্ধ পালন পদ্ধতিটিই অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে লাভজনক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন