মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: ব্যস্তিত্ব মূল্যায়নে প্রাচীতম' এবং বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি আছে। এই পদ্ধতিতে গবেষক ব্যস্তিকে সামনাসামনি বসিয়ে তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।

  1. ক)

    ব্যস্তিত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নে প্রশ্নমালা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত চিত্রের 'A' এবং 'C' এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যক্তিত্ব হলো ব্যক্তির এমন কতগুলো স্থায়ী শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যের এক সুসংহত রূপ, যা পরিবেশের সাথে তার অনন্য অভিযোজনকে নির্ধারণ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নে প্রশ্নমালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি সুনির্দিষ্ট ও প্রমিত পদ্ধতি। এর মাধ্যমে অল্প সময়ে ও কম ব্যয়ে ব্যক্তির আবেগ, মনোভাব, পছন্দ-অপছন্দ, সামাজিক অভিযোজন ইত্যাদি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এছাড়া লিখিত প্রতিক্রিয়া হওয়ায় এতে গবেষকের ব্যক্তিগত পক্ষপাতিত্বের সুযোগ কম থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নের প্রাচীনতম এবং বহুল ব্যবহৃত 'সাক্ষাৎকার পদ্ধতি' (Interview Method) নির্দেশ করা হয়েছে।

    সাক্ষাৎকার পদ্ধতি হলো এমন একটি সরাসরি বা প্রত্যক্ষ পদ্ধতি, যেখানে গবেষক বা পরীক্ষক ব্যক্তির সামনাসামনি বসে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তার চিন্তা, আবেগ, মনোভাব ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক উন্মোচনে এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এই পদ্ধতি প্রধানত দুই ধরনের হতে পারে—কাঠামোবদ্ধ (Structured) এবং অকাঠামোবদ্ধ (Unstructured)। কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকারে পূর্বনির্ধারিত প্রশ্নাবলি ক্রমানুসারে জিজ্ঞেস করা হয়, অন্যদিকে অকাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নমনীয়ভাবে মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে ব্যক্তির গভীর মানসিক তথ্য জানা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এর ছকে ফ্রয়েডের ব্যক্তিত্ব তত্ত্বের উপাদানগুলো দেখানো হয়েছে, যেখানে মধ্যবর্তী উপাদান হলো 'EGO' (অহং)। সুতরাং, 'A' হলো 'Id' (ইদম্) এবং 'C' হলো 'Superego' (পরাঅহং)।

    এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
    ১. প্রকৃতি ও নীতি: 'A' (Id) জন্মগত এবং ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে আদিম ও জৈবিক রূপ। এটি সুখভোগের নীতি (Pleasure Principle) দ্বারা পরিচালিত। অপরদিকে, 'C' (Superego) হলো ব্যক্তিত্বের নৈতিক ও আদর্শগত শাখা। এটি নৈতিকতার নীতি (Moral Principle) দ্বারা পরিচালিত।
    ২. চেতনা স্তর: ইদম্ সম্পূর্ণভাবে নির্জ্ঞান মনের (Unconscious) অধীন এবং অন্ধ জৈবিক তাড়না (যেমন- ক্ষুধা, যৌনতা, আক্রমণাত্মক ভাব) দ্বারা পরিচালিত। অন্যদিকে পরাঅহং চেতন ও অবচেতন উভয় স্তরেই কাজ করে এবং সমাজ-সংস্কৃতির নৈতিক মূল্যবোধকে ধারণ করে।
    ৩. নিয়ন্ত্রণ ও লক্ষ্য: ইদম্ তাৎক্ষণিক পরিতৃপ্তি চায় এবং ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বা বাস্তবতার কোনো পরোয়া করে না। বিপরীতে, পরাঅহং ইদমের এই অনৈতিক তাড়নাগুলোকে দমন করে ব্যক্তি যাতে আদর্শবান ও সমাজস্বীকৃতভাবে আচরণ করে তা নিশ্চিত করতে আত্মশুদ্ধি ও অপরাধবোধের সৃষ্টি করে।

    পরিশেষে, ইদম্ (A) প্রবৃত্তিজাত চাহিদার প্রতিনিধিত্ব করে এবং পরাঅহং (C) বিচার-বিবেচনা ও নৈতিকতার প্রতিনিধিত্ব করে—এদের উভয়ের দ্বন্দ্বে ভারসাম্য রক্ষা করে অহং (Ego)।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন