অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
GDP-তে কৃষির উপখাতের অবদানের হার (%)রফিক স্যার ছাত্রদের বললেন, উপরের টেবিলের দিকে তাকাও। এই তথ্য অনুযায়ী আমাদের জাতীয় আয়ে কৃষির উপ-খাতের অবদান ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। কারণ সরকার বর্তমানে কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য কৃষি ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদান, ঋণ বিতরণ সহজীকরণ, কৃষিজ উপকরণ সরবরাহসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে:

- ক)(1)
উৎপাদন উদ্দেশ্যকে বিবেচনা করে কৃষি খামারকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
- খ)(2)
যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে GDP-তে শস্য ও মৎস্য খাতের অবদান দণ্ডস্তম্ভের মাধ্যমে দেখাও।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, কৃষির উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ যথেষ্ট? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যের ভিত্তিতে কৃষি খামারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ১. জীবননির্বাহী খামার এবং ২. বাণিজ্যিক খামার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত ও সহজে স্থানীয় বাজার থেকে বড় বড় শহর বা কেন্দ্রীয় বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারেন। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পায় এবং পণ্যের পরিবহন ব্যয় কমে যায়। ফলে কৃষক সরাসরি উপযুক্ত বাজারে প্রতিযোগিতা মূল্যে পণ্য বিক্রি করে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদত্ত সারণি অনুযায়ী ২০১১-১২, ২০১২-১৩ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে GDP-তে শস্য ও শাক-সবজি এবং মৎস্য খাতের অবদান শতাংশে (%) নিম্নরূপ:
- ২০১১-১২: শস্য ও শাক-সবজি ১০.০০%, মৎস্য ৩.০০%
- ২০১২-১৩: শস্য ও শাক-সবজি ১১.০০%, মৎস্য ৪.০০%
- ২০১৩-১৪: শস্য ও শাক-সবজি ১১.৫০%, মৎস্য ৬.০০%
দণ্ডস্তম্ভ (Bar Diagram) অঙ্কনের বিবরণ:
১. ভূমির সমান্তরাল অক্ষে (X-অক্ষ) অর্থবছরসমূহ (২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪) স্থাপন করা হয়।
২. লম্ব অক্ষে (Y-অক্ষ) GDP-তে অবদানের শতকরা হার (০% থেকে ১২% পর্যন্ত নির্দিষ্ট স্কেলে) স্থাপন করা হয়।
৩. প্রতিটি অর্থবছরের বিপরীতে পাশাপাশি দুটি করে ভিন্ন নকশার দণ্ড (একটি শস্য ও শাক-সবজির জন্য এবং অপরটি মৎস্য সম্পদের জন্য) অঙ্কন করা হবে।- ২০১১-১২ অর্থবছরে শস্যের দণ্ডটির উচ্চতা হবে ১০ একক এবং মৎস্যের দণ্ডটির উচ্চতা হবে ৩ একক।
- ২০১২-১৩ অর্থবছরে শস্যের দণ্ড ১১ একক এবং মৎস্যের দণ্ড ৪ একক নির্দেশ করবে।
- ২০১৩-১৪ অর্থবছরে শস্যের দণ্ড ১১.৫০ একক এবং মৎস্যের দণ্ড ৬ একক নির্দেশ করবে।
উক্ত দণ্ডস্তম্ভ থেকে স্পষ্ট দেখা যায় যে, উভয় খাতেই অবদানের হার ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকারের পদক্ষেপগুলো (কৃষিতে ভর্তুকি প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ) অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও কার্যকর হলেও দারিদ্র্য বিমোচন ও সামগ্রিক খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে এগুলোই একমাত্র বা সম্পূর্ণরূপে যথেষ্ট নয়।
কারণসমূহ:
১. কৃষি অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা: শুধু উপকরণ দিলেই হবে না; উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণাগার (কোল্ড স্টোরেজ), উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং আধুনিক বিপণন ব্যবস্থার ব্যাপক অভাব রয়েছে, যার কারণে কৃষকরা প্রায়ই লোকসানের মুখে পড়েন।
২. মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য: বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সরকার নির্ধারিত মূল্যের সুবিধা সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের হাতে পৌঁছায় না।
৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন: বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ইত্যাদি ঝুঁকি মোকাবিলায় ফসলের বীমা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার এখনও সীমিত।
৪. কৃষি শিক্ষার অভাব ও ভূমি বিভাজন: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই এবং ক্ষুদ্র ও খণ্ডবিখণ্ড জমির কারণে বাণিজ্যিকীকরণে বাধা সৃষ্টি হয়।অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত পদক্ষেপগুলো কৃষি উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করলেও দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিত করতে শস্য বহুমুখীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার মতো সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও