জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

জীববিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে এমন একটি প্রাণী আছে যার কতকগুলো লম্বা-ফাঁপা সুতার মতো সূত্রক আছে যা খাদ্য গ্রহণ, আত্মরক্ষা ও চলনে সহায়তা করে। এ ছাড়াও প্রাণীটিতে সুস্পষ্ট ভ্রূণীয় পরিস্ফুটন প্রক্রিয়া বিদ্যমান।

  1. ক)

    উওটিড কী?

    (1)
  2. খ)

    মেসোগ্লিয়া বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি যে পদ্ধতিতে দ্রুত চলন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি শিশু প্রাণীর পুনরুৎপত্তির সহায়ক-বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় সেকেন্ডারি উওসাইটের দ্বিতীয় মায়োটিক বিভাজনের ফলে উৎপন্ন হ্যাপ্লয়েড (n) ক্রোমোজোমবিশিষ্ট সক্রিয় কোষকে উওটিড (ootid) বলে, যা পরবর্তীতে ডিম্বাণুতে পরিণত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিস্তরী বা ডিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণীদের (যেমন: হাইড্রা) দেহপ্রাচীরের এক্টোডার্ম (এপিডার্মিস) এবং এন্ডোডার্ম (গ্যাস্ট্রোডার্মিস)-এর মধ্যবর্তী অকোষীয়, জেলির মতো আঠালো, স্থিতিস্থাপক ও স্বচ্ছ স্তরটিকে মেসোগ্লিয়া বলে।

    মেসোগ্লিয়ার কোনো কোষীয় গঠন নেই, তবে এটি দুটি কোষস্তরের মধ্যে সংযোজক হিসেবে কাজ করে এবং ভিত্তিপর্দা গঠন করে পেশিপ্রবর্ধনগুলোকে ধারণ করে দেহকে নমনীয়তা ও দৃঢ়তা প্রদান করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত লম্বা-ফাঁপা সূত্রক বা কর্ষিকাবিশিষ্ট প্রাণীটি হলো হাইড্রা (Hydra)। হাইড্রার সবচেয়ে সাধারণ এবং দ্রুত চলন প্রক্রিয়া হলো ডিগবাজি বা সমারসল্টিং (Somersaulting)। নিম্নে এ প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. চলনের শুরুতে হাইড্রা তার দেহকে বাঁকিয়ে গতিপথের দিকে কর্ষিকার গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্টের সাহায্যে তলদেশকে স্পর্শ করে আটকে থাকে।
    ২. এরপর পাদচাকতি মুক্ত করে কর্ষিকার ওপর ভর দিয়ে দেহকে উল্টোভাবে সোজা করে দাঁড়ায়।
    ৩. পুনরায় দেহ বাঁকিয়ে পাদচাকতিকে কর্ষিকার কাছে নিয়ে এসে নতুন স্থানে স্থাপন করে।
    ৪. এরপর কর্ষিকাগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেহ সোজা করে দাঁড়ায়।

    এভাবে প্রতিবার চলনে দুটি করে লুপ তৈরি হয় এবং হাইড্রা দ্রুত স্থান পরিবর্তন বা চলন সম্পন্ন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় প্রক্রিয়াটি হলো সুস্পষ্ট ভ্রূণীয় পরিস্ফুটন প্রক্রিয়া, যা একটি শিশু প্রাণীর (হাইড্রুলা) উৎপত্তির ভিত্তি। নিচে এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. নিষেক ও জাইগোট গঠন: শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের ফলে ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট গঠিত হয়, যা পরিস্ফুটনের সূচনা করে।
    ২. ক্লিভেজ ও মরুলা: জাইগোটটি হলোব্লাস্টিক ও সমরূপ ক্লিভেজ প্রক্রিয়ায় ক্রমাগত মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে একগুচ্ছ নিরেট কোষবিশিষ্ট 'মরুলা' তৈরি করে।
    ৩. ব্লাস্টুলেশন ও গ্যাস্ট্রুলেশন: মরুলা পরিবর্তিত হয়ে একস্তরবিশিষ্ট ফাঁপা 'ব্লাস্টুলা' এবং পরবর্তীতে কোষীয় পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দ্বিস্তরী 'গ্যাস্ট্রুলা'-তে পরিণত হয়। গ্যাস্ট্রুলায় বহিঃস্থ এক্টোডার্ম ও অন্তঃস্থ এন্ডোডার্ম তৈরি হয় এবং মধ্যবর্তী স্থানে মেসোগ্লিয়া নিঃসৃত হয়।
    ৪. সিস্ট গঠন ও শিশু হাইড্রা মুক্তি: অনুকূল পরিবেশে গ্যাস্ট্রুলা সিস্টের আবরণ ভেঙে মুক্ত হয় এবং খাদ্য গ্রহণ করে বৃদ্ধি পেয়ে কচি হাইড্রা বা 'হাইড্রুলা'-তে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে কর্ষিকা ও মুখছিদ্র সৃষ্টি হয়ে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাইড্রা গঠিত হয়।

    অতএব, ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের এই ধারাবাহিক ধাপগুলোর মাধ্যমেই একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে সফলভাবে একটি শিশু প্রাণী জন্মলাভ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন