ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব রহমান ও তার স্ত্রী একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে দীর্ঘদিন লেনদেন করে আসছেন। ব্যাংকটি প্রাচীন হলেও মূলধন স্বল্পতার জন্য আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। ফলে গ্রাহকসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। একদিন জনাব রহমান ব্যাংকে গিয়ে তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের জমাকৃত টাকার পরিমাণ জানতে চাইলে ব্যাংক তা জানাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। এতে জনাব রহমান ব্যাংকের প্রতি বিরক্ত হন।
- ক)(1)
ব্যাংকিং কী?
- খ)(2)
“ব্যাংক অর্থ ও ঋণের ব্যবসায় করে।”- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ব্যাংকটি আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না কেন? ব্যাংক নীতির আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের টাকার পরিমাণ জানাতে ব্যাংকের অস্বীকৃতির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাংকের সার্বিক উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত সকল বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলিকে ব্যাংকিং বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাংক জনগণের উদ্বৃত্ত অর্থ আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে এবং সেই অর্থ অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ হিসেবে প্রদান করে মুনাফা অর্জন করে। আমানত গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংক অর্থের কারবার করে এবং ঋণ প্রদান ও ঋণ আমানত সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণের কারবার পরিচালনা করে। এজন্য ব্যাংককে অর্থ ও ঋণের ব্যবসায়ী বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব তথা মূলধন সংরক্ষণের নীতি লঙ্ঘনের কারণে উদ্দীপকের ব্যাংকটি আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।
ব্যাংকিং নীতির অন্যতম প্রধান নীতি হলো মূলধন নীতি। একটি ব্যাংকের সুষ্ঠু ও আধুনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নিজস্ব মূলধন অপরিহার্য। পর্যাপ্ত মূলধন থাকলে ব্যাংক আধুনিক প্রযুক্তি, অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও উন্নত অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বাণিজ্যিক ব্যাংকটি প্রাচীন হওয়া সত্ত্বেও মূলধন স্বল্পতায় ভুগছে। পর্যাপ্ত মূলধনের জোগান না থাকায় ব্যাংকটি প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, অটোমেশন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রবর্তন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। সুতরাং, মূলধন নীতির যথাযথ প্রয়োগ না থাকাই ব্যাংকটির আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থতার মূল কারণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা সংক্রান্ত ব্যাংকিং নিয়মের আলোকে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের টাকার পরিমাণ জানাতে ব্যাংকের অস্বীকৃতি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের অন্যতম মৌলিক দিক হলো গোপনীয়তা রক্ষার নীতি বা বাধ্যবাধকতা। ব্যাংকিং আইন ও নীতিমালা অনুসারে ব্যাংক গ্রাহকের হিসাবসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য (যেমন- স্থিতির পরিমাণ, লেনদেনের বিবরণী) গোপন রাখতে বাধ্য। গ্রাহকের লিখিত অনুমতি বা যথাযথ আদালতের নির্দেশ ব্যতীত ব্যাংক কোনো তৃতীয় পক্ষকে—এমনকি গ্রাহকের স্বামী বা স্ত্রীর কাছেও—হিসাবের তথ্য প্রকাশ করতে পারে না।
উদ্দীপকে জনাব রহমান ব্যাংকে গিয়ে তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের জমাকৃত টাকার পরিমাণ জানতে চান। স্ত্রীর লিখিত অনুমতি বা আইনগত কোনো কর্তৃত্বপত্র না থাকায় ব্যাংক তা জানাতে অস্বীকৃতি জানায়। ব্যাংক যদি এই তথ্য প্রকাশ করত, তবে তা ব্যাংকিং নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গ্রাহকের আস্থা বিনষ্টের কারণ হতো।
অতএব, গোপনীয়তা রক্ষার নীতি এবং ব্যাংকিং বিধানের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ব্যাংক কর্তৃক জনাব রহমানকে তথ্য না দেওয়া পুরোপুরি আইনসম্মত ও যুক্তিযুক্ত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও