অর্থনীতি ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
২০০৫ সালে বাংলাদেশে ১ কেজি আলুর দাম ছিল ১০ টাকা। বর্তমানে ১ কেজি আলুর দাম ২৫ টাকা। এরূপ সব দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক হার বৃদ্ধি, খোলাবাজারে ঋণপত্র বিক্রি এবং নগদ জমার হার বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ঋণের রেশনিং ও বন্ধকী ঋণের নগদাংশ পরিবর্তন করে। একইভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ পরিস্থিতিতে আমানতের উপর বৈধ রিজার্ভ অনুপাত ১৮% হতে ২০% এ উন্নীত করে।
- ক)(1)
বিহিত মুদ্রা কী?
- খ)(2)
লেনদেনজনিত চাহিদা মুদ্রার চাহিদাকে কীভাবে প্রভাবিত করে? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপক হতে ঋণ নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারগুলো চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়াবলি অর্থের মূল্যের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে মুদ্রা রাষ্ট্রের আইন বা সরকারের আদেশ দ্বারা চালু হয় এবং যা দেশের অভ্যন্তরীণ লেনদেনে সবাই গ্রহণ করতে আইনত বাধ্য থাকে, তাকে বিহিত মুদ্রা (Fiat Money বা Legal Tender) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন দ্রব্যাদি ও সেবাকর্ম ক্রয়ের জন্য মানুষ যে পরিমাণ নগদ অর্থ নিজেদের কাছে রাখতে চায়, তাকে অর্থের লেনদেনজনিত চাহিদা বলে।
লেনদেনজনিত চাহিদা সরাসরি ব্যক্তির আয় ও লেনদেনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। মানুষের আয় বৃদ্ধি পেলে অথবা দ্রব্যের মূল্যস্তর বৃদ্ধি পেলে দৈনন্দিন লেনদেন পরিচালনার জন্য অধিক নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। ফলে মুদ্রার সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বিপরীতভাবে, আয় বা মূল্যস্তর হ্রাস পেলে অর্থের লেনদেনজনিত চাহিদা কমে এবং সামগ্রিক মুদ্রার চাহিদাও হ্রাস পায়। এভাবে লেনদেনজনিত চাহিদা মুদ্রার চাহিদাকে ধনাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক) কর্তৃক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গৃহীত ঋণ নিয়ন্ত্রণের পরিমাণগত এবং গুণগত—উভয় ধরনের হাতিয়ারের উল্লেখ রয়েছে।
১. পরিমাণগত ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি:
ক. ব্যাংক হার নীতি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংক হার বৃদ্ধি করা।
খ. খোলাবাজার নীতি: খোলাবাজারে সরকারি ঋণপত্র বা সিকিউরিটিজ বিক্রয় করা।
গ. নগদ জমার অনুপাত পরিবর্তন নীতি: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাধ্যতামূলক নগদ জমার হার বা রিজার্ভ অনুপাত (১৮% থেকে ২০%) বৃদ্ধি করা।২. গুণগত বা নির্বাচনমূলক ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি:
ক. ঋণের রেশনিং: বিভিন্ন খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বা বরাদ্দ নির্ধারণ করা।
খ. বন্ধকী ঋণের প্রান্তিক বা নগদাংশ পরিবর্তন: ঋণ গ্রহণের বিপরীতে জামানতের মূল্যের শতকরা হার বৃদ্ধি করা।অতএব, উদ্দীপকে ব্যাংক হার বৃদ্ধি, খোলাবাজারে ঋণপত্র বিক্রয় এবং জমার অনুপাত বৃদ্ধি হলো পরিমাণগত হাতিয়ার; এবং ঋণের রেশনিং ও বন্ধকী ঋণের নগদাংশ পরিবর্তন হলো গুণগত হাতিয়ার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মূল্যস্ফীতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ সংকোচনমূলক পদক্ষেপের ফলে অর্থের মূল্যের ওপর যে প্রভাব পড়ে তা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মূল্যস্তর বৃদ্ধি ও অর্থের মূল্যের হ্রাস: উদ্দীপকে দেখা যায়, আলুর দাম ১০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ টাকা হয়েছে এবং সার্বিক মূল্যস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিশারের অর্থপরিমাণ তত্ত্ব অনুসারে, মূল্যস্তরের সাথে অর্থের মূল্যের বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান (Vm = 1/P)। সুতরাং, সার্বিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা অর্থের মূল্য হ্রাস পেয়েছিল।
২. ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থের মূল্য পুনরুদ্ধার: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক হার বৃদ্ধি, ঋণপত্র বিক্রি, নগদ জমার হার বৃদ্ধি, ঋণের রেশনিং প্রভৃতি ঋণ সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ করে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ সৃষ্টির ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং বাজারে অর্থের যোগান (Money Supply) কমে যায়।
৩. সামগ্রিক প্রভাব: অর্থের যোগান কমে যাওয়ায় জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়। চাহিদা হ্রাসের কারণে সার্বিক মূল্যস্তর (P) কমে আসে। মূল্যস্তর কমলে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা অর্থের মূল্য (Vm) পুনরায় বৃদ্ধি পায় ও স্থিতিশীলতা অর্জন করে।
সুতরাং, উদ্দীপকের প্রাথমিক অবস্থাটি অর্থের মূল্য হ্রাসকে নির্দেশ করে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সমাজে অর্থের মূল্য বৃদ্ধিতে এবং তা স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও