পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. রবিন শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি। হুইল চেয়ার ছাড়া তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। শারীরিক অক্ষমতা সত্ত্বেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে সরকারি চাকরি লাভ করেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ ও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে তিনি সুচারুরূপে নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন। তার এসব অধিকার ভোগের ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ক)(1)
"আইন হচ্ছে সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- উক্তিটি কার?
- খ)(2)
আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সাম্যের কোন প্রকার সাম্যের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় উত্ত সাম্যের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আইন হচ্ছে সার্বভৌম শাসকের আদেশ"— উক্তিটি জন অস্টিনের (John Austin)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য; এরা একে অপরের পরিপূরক ও সহায়ক। আইন স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে না, বরং রক্ষা ও প্রসারিত করে। জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।" রাষ্ট্রীয় আইন বলবৎ থাকলেই কেবল সবলদের অন্যায় প্রভাব থেকে দুর্বলদের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সাম্যের বিভিন্ন রূপের মধ্যে প্রধানত সামাজিক ও রাজনৈতিক সাম্যের প্রতিফলন নির্দেশ করা হয়েছে।
সাম্য বলতে সমাজে এমন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে ধর্ম, বর্ণ, শারীরিক সক্ষমতা বা শ্রেণি নির্বিশেষে সকল মানুষ আত্মবিকাশের সমান সুযোগ পায় এবং কোনো বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণি থাকবে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. রবিন শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত হতে পেরেছেন, যা সামাজিক সাম্য ও সুযোগের সমতাকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারেন, যা রাজনৈতিক সাম্যের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং, উদ্দীপকে সার্বিকভাবে সামাজিক অধিকার ও রাজনৈতিক সাম্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে উদ্দীপকে প্রতিফলিত সাম্যের গুরুত্ব অপরিসীম।
মানবিক সমাজ হলো সেই সমাজ যেখানে প্রতিটি মানুষের মর্যাদা ও অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা দুর্বলতা কোনো বৈষম্যের কারণ হয় না। উদ্দীপকের মি. রবিন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরি পেয়েছেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগসহ রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারছেন।
মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের সাম্যের গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বৈষম্য দূরীকরণ: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা অন্য কোনো পার্থক্যের কারণে মানুষকে অবহেলা না করে তাদের প্রতিভাকে বিকশিত হওয়ার সমান সুযোগ প্রদান করলে সমাজ থেকে বঞ্চনা ও শোষণ দূর হয়।
২. মানবমর্যাদা প্রতিষ্ঠা: সাম্যের ফলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিসহ সকল নাগরিক সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে।
৩. অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন: সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে সুযোগ দেওয়া হলে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
৪. গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ: যখন প্রত্যেকে রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়, তখন সমাজে পরমতসহিষ্ণুতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ সুসংহত হয়।অতএব, উপযুক্ত সুযোগের সমতা, সামাজিক মর্যাদা এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রদানের মাধ্যমে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা গেলে সমাজে কোনো ব্যক্তি প্রান্তিক থাকবে না, যা একটি প্রকৃত মানবিক সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও