ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

পৃথিবীর ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এদেশের জনশক্তি ও সস্তা শ্রমিকের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেছে পোশাক শিল্প। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বেশ সুনাম রয়েছে। তবে মাঝে মাঝেই শ্রমিক অসন্তোষসহ নানাবিধ কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ফলে এই শিল্পের উন্নয়ন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়।

  1. ক)

    ব্যবসায় পরিবেশ কী?

    (1)
  2. খ)

    আইনগত পরিবেশ ব্যবসায়ে অপরিহার্য কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশে পোশাক শিল্প গড়ে ওঠার পেছনে কোন পরিবেশের প্রভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “রাজনৈতিক পরিবেশ দেশের শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে"- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উপাদানের বেষ্টনী ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবের মধ্যে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠিত ও পরিচালিত হয়, তাদের সমষ্টিকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যবসায়ের সুষ্ঠু পরিচালনা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ক্রেতা ও বিক্রেতার স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আইনগত পরিবেশ অপরিহার্য।

    আইনগত পরিবেশ বলতে দেশের বাণিজ্যিক আইন, শিল্প আইন, শ্রম আইন, ভোক্তা অধিকার আইন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন প্রভৃতির সামগ্রিক রূপকে বোঝায়। একটি কার্যকর আইনগত পরিবেশ থাকলে ব্যবসায়ে অনিয়ম ও প্রতারণা রোধ করা যায়, চুক্তি বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং দেশে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ফলে ব্যবসায় বিনিয়োগ নিরাপদ হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশে পোশাক শিল্প গড়ে ওঠার পেছনে 'জনসংখ্যাগত/জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবেশ'-এর প্রভাব প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

    কোনো দেশের জনসংখ্যা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, বয়স কাঠামো, শ্রমশক্তির প্রাপ্যতা এবং কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত নিয়ে যে পরিবেশ গঠিত হয় তাকে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবেশ বলে। পোশাক শিল্পের মতো শ্রমঘন শিল্পের জন্য প্রচুর সুলভ বা সস্তা শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।

    উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে, বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং এদেশের বিপুল জনশক্তি ও সস্তা শ্রমিকের ওপর ভিত্তি করেই পোশাক শিল্প গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ, দেশের অনুকূল জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবেশই সহজলভ্য শ্রমিক সরবরাহ নিশ্চিত করেছে, যা এই শিল্পের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “রাজনৈতিক পরিবেশ দেশের শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে”— উক্তিটি উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।

    রাজনৈতিক পরিবেশ বলতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সরকারের নীতিমালা, রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বোঝায়। একটি দেশের শিল্পের বিকাশ ও স্থায়িত্ব অনেকাংশেই নির্ভর করে সুস্থ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কিংবা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্ববাজারে সুনাম ও বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক অসন্তোষ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শ্রমিক অসন্তোষ ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অস্থিরতা মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অদক্ষতা বা অস্থিতিশীলতার সাথে সম্পর্কযুক্ত।

    সরকার যদি সুষ্ঠু নীতি গ্রহণ করে, শ্রম আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখে, তবে শিল্প খাতের অসন্তোষ দূর হবে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং সামগ্রিক শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাই বলা যায়, রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হলেই শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন