বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' গল্পে যৌতুকের বলি হৈমন্তী। মানসিক নির্যাতনে জর্জরিত হয়ে সে পিতা গৌরীশংকর বাবুকে খবর পাঠায় স্বামীগৃহ হতে তাকে পিত্রালয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। গৌরীশংকর বাবু মেয়ের বাড়িতে এসে মেয়ের কষ্ট বুঝতে পারেন। কিন্তু ধনী বেয়াই-এর বিরুদ্ধে প্রতিকার করতে না পেরে নীরবে চোখের জল ফেলতে ফেলতে বিদায় নেন। আর চরম পরিণতির দিকে এগিয়ে যায় হৈমন্তী।
- ক)(1)
‘অপরিচিতা' গল্পের খাদযুক্ত গহনাটির নাম কী?
- খ)(2)
“ফার বালির মতো তিনি আমাদের সমস্ত সংসারটা নিজের অন্তরের মধ্যে শুষিয়া লইয়াছেন।"-উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
হৈমন্তীর চরম পরিণতি আর 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীয় বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনকরো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের গৌরীশংকর বাবুর ভূমিকা যদি শম্ভুনাথ বাবুর মতো হতো, তাহলে হয়তো হৈমন্তীকে অকালে চলে যেতে হতো না।"— উদ্ভিটির পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘অপরিচিতা’ গল্পের খাদযুক্ত গহনাটির নাম হলো এয়ারিং (বা কানবালা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে অনুপমের সংসারের সর্বেসর্বা ও কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি মামার সর্বগ্রাসী চরিত্রের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
বালুকা বা ফাল্গু নদীর বালির নিচে যেমন ফল্গু নদী সম্পূর্ণ আত্মগোপন করে থাকে, তেমনি অনুপমের মামা অনুপমদের সমস্ত সংসারকে নিজের কর্তৃত্বের নিচে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে রেখেছিলেন। সংসারে অনুপম ও তার মায়ের কোনো স্বাধীন মত বা সিদ্ধান্ত ছিল না; মামার ইচ্ছাই ছিল সংসারের একমাত্র নীতি। মামার এই নিরঙ্কুশ প্রভাব ও স্বার্থপর কর্তৃত্ব বোঝাতেই লেখক রূপক অর্থে উক্তিটি করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হৈমন্তীর চরম পরিণতি আর ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মূল যোগসূত্র হলো তৎকালীন সমাজের নিষ্ঠুর যৌতুক প্রথা ও অভিভাবকের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য।
যৌতুকলোভী সমাজব্যবস্থায় পণ আদায়কে কেন্দ্র করে কনেপক্ষকে চরম লাঞ্ছনা ও নিপীড়নের শিকার হতে হতো। উদ্দীপকে হৈমন্তীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য তাকে মানসিক নির্যাতন করে। ফলে আত্মসম্মান হারিয়ে নীরবে সহ্য করতে করতে হৈমন্তীকে অকালে প্রাণ দিতে হয়।
অন্যদিকে ‘অপরিচিতা’ গল্পেও যৌতুকলোভী মামার লালসার কারণে বিয়ের আসরে গহনা পরখ করার মতো অপমানজনক ঘটনা ঘটে। কিন্তু কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন অন্যায় মেনে না নিয়ে আত্মমর্যাদাবোধ থেকে এই বিয়ে ভেঙে দেন। হৈমন্তী প্রতিকারহীনভাবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে, আর কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে দেওয়া ছিল সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ। সুতরাং, উভয় ঘটনার মূলে যৌতুকের নির্যাতন থাকলেও একটিতে ঘটেছে পরাজয় এবং অন্যটিতে ঘটেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিক প্রতিরোধ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের গৌরীশংকর বাবুর ভূমিকা যদি শম্ভুনাথ বাবুর মতো হতো, তাহলে হয়তো হৈমন্তীকে অকালে চলে যেতে হতো না।”—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
উদ্দীপকের গৌরীশংকর বাবু ছিলেন নিরীহ ও প্রতিবাদহীন এক পিতা। তিনি যৌতুকলোভী ও নির্যাতনকারী শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেননি। মেয়ের দুরবস্থা দেখেও লোকলজ্জা বা সামাজিক সংস্কারের ভয়ে তিনি কেবল নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিয়ে মেয়েকে সেই নরকেই ফেলে চলে যান, যার ফলে হৈমন্তীর করুণ পরিণতি ঘটে।
বিপরীতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথ সেন ছিলেন একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, দৃঢ়চেতা ও বিচক্ষণ পিতা। বিয়ের আসরে বরপক্ষের নীচতা ও মেয়ের গহনা পরখ করে অবমাননা করার পর তিনি কোনো আপস করেননি। সমাজের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে ভেঙে দেন এবং মেয়েকে অসম্মানজনক সম্পর্কের হাত থেকে রক্ষা করেন। শম্ভুনাথের এই বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণেই কল্যাণী পরবর্তীতে স্বাবলম্বী হয়ে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে পেরেছিল।
যদি গৌরীশংকর বাবুও সামাজিক ভীতি ও দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলে শম্ভুনাথ সেনের মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেন এবং অত্যাচারী শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতেন, তবে হৈমন্তীকে অকালে নীরবে মৃত্যুবরণ করতে হতো না। অতএব, শম্ভুনাথ বাবুর মতো প্রতিবাদী অভিভাবকত্বই হৈমন্তীর জীবন রক্ষা করতে পারত—উক্তিটি সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও