ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব মানিক তার ২০ জন বন্ধুকে সাথে নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে "রাজশাহী ট্রেডার্স" নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠায় চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি চালুর কিছুদিন পরেই তাদের মধ্যে দায়িত্ব পালন, মুনাফা বন্টন ও হিসাব সংরক্ষণ পদ্ধতির নিয়ে মতাভেদ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০জন সদস্য ব্যবসায় ছেড়ে চলে যায়। মানিক অবশিষ্ট বন্ধুদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নতুন ব্যবসা গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। নতুন ব্যবসায়টির নিবন্ধন পত্র সংগ্রহ করেই তারা কার্যক্রম শুরু করে দেয়।
- ক)(1)
বিবরণ পত্র কি?
- খ)(2)
"যৌথ মূলধনী কোম্পানিতে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পৃথক"- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
মানিক প্রথমে কোন ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিল?
- ঘ)(4)
মুনাফা বন্টন ও পরিচালনার ভিত্তিতে মানিকের কোন পর্যায়ে ব্যবসায় উত্তম? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি জনসাধারণের নিকট শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয়ের আহ্বান জানিয়ে যে প্রচারপত্র বা দলিল প্রকাশ করে, তাকে বিবরণপত্র (Prospectus) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌথ মূলধনী কোম্পানি আইনের দ্বারা সৃষ্ট একটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তাবিশিষ্ট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এতে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ আলাদা থাকে।
কোম্পানির প্রকৃত মালিক হলেন এর শেয়ারহোল্ডারগণ, যারা শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে মূলধন সরবরাহ করেন। কিন্তু বিপুলসংখ্যক শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে দৈনন্দিন ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তাই শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য থেকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors) এবং তাদের দ্বারা নিযুক্ত বেতনভুক্ত ব্যবস্থাপকগণ কোম্পানির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এর ফলে কোম্পানিতে মূলধন সরবরাহকারী মালিক পক্ষ এবং কার্যনির্বাহী ব্যবস্থাপনা পক্ষ ভিন্ন হয়ে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব মানিক প্রথমে একটি অংশীদারি ব্যবসায় (Partnership Business) প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।
১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইন (বাংলাদেশে প্রচলিত) অনুযায়ী, সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন সদস্য চুক্তির ভিত্তিতে একত্রিত হয়ে যে ব্যবসায় পরিচালনা করে, তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। এতে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, সমঝোতা ও চুক্তি মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মানিক তার ২০ জন বন্ধুকে সাথে নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে 'রাজশাহী ট্রেডার্স' নামে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন। এখানে মোট সদস্য সংখ্যা ২১ জন হলেও এটি একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতানির্ভর অংশীদারি ব্যবসায়ের রূপরেখা নির্দেশ করে। দায়িত্ব পালন, মুনাফা বণ্টন ও পরিচালনা নিয়ে মতবিরোধের সৃষ্টি হওয়া এবং এর জেরে সদস্যদের ব্যবসা ত্যাগ করা মূলত অংশীদারি ব্যবসায়ের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও বৈশিষ্ট্যকেই নির্দেশ করে। সুতরাং, এটি প্রাথমিকভাবে অংশীদারি ব্যবসায় ছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুনাফা বণ্টন ও পরিচালনার ভিত্তিতে মানিকের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পর্যায়ে গঠিত 'প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি' ব্যবসায়টি পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম।
অংশীদারি ব্যবসায়ে সুস্পষ্ট লিখিত চুক্তির অভাব থাকলে মুনাফা বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অংশীদারদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বিবাদ সৃষ্টি হয়, যা ব্যবসায় বিলোপের কারণ হতে পারে। অপরদিকে, যৌথ মূলধনী কোম্পানি (বিশেষত প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি) আইন দ্বারা পরিচালিত হয়, যেখানে সংঘবিধি ও সংঘস্মারকের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা ও লভ্যাংশ বণ্টন সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, প্রথম পর্যায়ে সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত ব্যবসায়ে মুনাফা বণ্টন ও দায়িত্ব পালন নিয়ে মতভেদের কারণে ১০ জন সদস্য ছেড়ে চলে যান। ফলে মানিক অবশিষ্ট বন্ধুদের (১০ বা ১১ জন সদস্য) নিয়ে আলোচনা করে নতুন ব্যবসা গঠন করেন এবং সরকারি 'নিবন্ধন পত্র' সংগ্রহ করে কার্যক্রম শুরু করেন। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন ও সর্বোচ্চ ৫০ জন হতে পারে এবং এটি নিবন্ধন পত্র পাওয়ার পরপরই কাজ শুরু করতে পারে। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট নিয়মে ব্যবসায় পরিচালিত হয় এবং শেয়ার অনুপাতে সুস্পষ্টভাবে লভ্যাংশ বণ্টিত হয়, যা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দূর করে।
অতএব, স্থায়িত্ব, বিরোধহীন পরিচালনা এবং স্বচ্ছ মুনাফা বণ্টনের নিশ্চয়তা থাকায় দ্বিতীয় পর্যায়ের কোম্পানি ব্যবসায়টি প্রথম পর্যায়ের সমঝোতাভিত্তিক ব্যবসায়ের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও উত্তম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও